খেলাধুলা

বৃষ্টিস্নাত ড্রয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ফতুল্লা টেস্ট

ডেইলি টাইমস ২৪:

পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ। টানা পাঁচ দিনই বৃষ্টি।  যেখানে পাঁচ দিনে ৪৫০ ওভার খেলা হওয়ার কথা, সেখানে হয়েছে মাত্র ১৮৪.২ ওভার। শেষ পর্যন্ত টেস্টের মজাটাই মাটি করে দিয়েছে বেরসিক বৃষ্টি।  তবে এই টেস্টে কেউ হারেনি। বৃষ্টিস্নাত ড্রয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ফতুল্লা টেস্ট।

ভারতের বিপক্ষে ফতুল্লা টেস্টে ফলোঅনে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ভারতের করা ৪৬২ রানের জবাবে ফলোঅন এড়াতে ২৬৩ রান করতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু ২৫৬ রানে প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের।

 

ম্যাচ বাঁচাতে ২০৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাগতিকদের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ১৩ রান। ব্যাট করছেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। শেষ দিনে এখনো ২১ ওভার খেলা হবে।

 

রোববার টেস্টের শেষ দিনে প্রথম সেশনের খেলা হয়নি। বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায় পুরো সেশন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দুপুর পৌনে একটায় মাঠে নামে দুই দল। ৩ উইকেটে ১১১ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির পর পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস (৫৯) ও সাকিব আল হাসান (০) রানে ব্যাটিং শুরু করেন।

 

শুরুতেই সাকিব আল হাসান ইশান্ত শর্মার বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলেন। পরের ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ফুললেন্থ ডেলিভারিকে কভার দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি হাঁকান টেস্টর সেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু দুই বল পরই স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেন তিনি। অশ্বিনের শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে ঋদ্ধিমান সাহার গ্লাভসবন্দি হন সাকিব। ৯ রানেই শেষ সাকিবের ইনিংস।

 

এরপর সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস ভারতীয় বোলারদেরকে বেশ দাপটের সঙ্গে খেলতে থাকেন। দ্রুত রান তোলায় ব্যস্ত ছিলেন এই দুই বাঁহাতি। সৌম্য ছিলেন তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক। দ্রুত ৫১ রান যোগ করেন তারা। এরপরই বিপত্তি টেনে আনেন ইমরুল। হরভজন সিংয়ের বলে স্ট্যাম্পিং হন ৭২ রান করা ইমরুল।

 

চার বলের ব্যবধানে বরুণ অ্যারনের বলে বোল্ড হন সৌম্য (৩৭)। উইকেটের অনেক বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লেগে সোজা সৌম্যর স্ট্যাম্পে আঘাত করে। ৫৪ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৩৭ রান আসে সৌম্যর ব্যাট থেকে। পঞ্চম উইকেটে সৌম্য-ইমরুল ৫১ রানের জুটি গড়েন।

 

দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ফেলার পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিষিক্ত লিটন কুমার দাস ও শুভাগত হোম। সপ্তম উইকেটে ৪৩ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। যাতে শুভাগত হোম যোগ করেন মাত্র ৯ রান। কেন শুভাগতকে টেস্ট দলে নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে নির্বাচকদের। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের সেই সুযোগটিও নষ্ট করেছেন শুভাগত। বোলিংয়ে ১৪ ওভারে উইকেটশূন্য থাকার পর তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৯ রান! অশ্বিনের বলে লেগস্লিপে রোহিত শর্মার হাতে ধরা পড়েন তিনি।

 

শুভাগতের বিদায়ের পরও লড়ে যান লিটন। কিন্তু নিজের ধৈর্য্য  ধরে রাখতে পারেননি উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ৪৫ বলে ৪৪ রান করে অশ্বিনের পঞ্চম শিকারে পরিণত হন লিটন। অনেকটা শুভাগতের মতই আউট হন তিনি। অশ্বিনের বলে লেগস্লিপে রোহিতের হাতে ধরা পড়েন তিনিও। এরপর আর পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। মোহাম্মদ শহীদ, তাইজুল ইসলামরা একে একে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে এসেছেন। শহীদ ৬ ও জুবায়ের শূন্য রানে আউট হন। ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।

বল হাতে অশ্বিন একাই নেন ৫ উইকেট। ৮৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পর জাতীয় দলে ফিরে আসা হরভজন সিং নেন ৩ উইকেট। ১টি উইকেট নেন বরুণ অ্যারন।

 

এর আগে শুক্রবার তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৪৬২ রান করেছিল সফরকারীরা। শনিবার চতুর্থ দিনে আর ব্যাটিংয়ে না নেমে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৩ রান করেন শিখর ধাওয়ান। ১৯৫ বলে ২৩ বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান এই বাঁহাতি ওপেনার।

 

আরেক ওপেনার মুরলি বিজয় করেন ১৫০ রান। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংস। ২৭২ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১৫০ রানের ইনিংসটি গড়েন বিজয়। এ ছাড়া মাত্র ২ রানের জন্য ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন অজিঙ্কা রাহানে। ৯৮ রানে সাকিবের শিকার হন তিনি।

 

অধিনায়ক হিসেবে কোহলির শুরুটা ভালো হয়নি। মহেন্দ্র সিং ধোনি টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর এটি কোহলির অধীনে ভারতের প্রথম টেস্ট। কিন্তু প্রথম ইনিংসেই ফ্লপ কোহলি। মাত্র ১৪ রান করে তরুণ তুর্কি জুবায়েরের কাছে হার মানেন কোহলি।

 

বল হাতে বাংলাদেশের সেরা বোলার সাকিব আল হাসান। ৪ উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন নেন ২ উইকেট।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button