জাতীয়

পচা গম নিয়ে সাফাই মন্ত্রীর

ডেইলি টাইমস ২৪:
ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই ব্রাজিল থেকে আমদানি করা পচা ও নিম্নমানের গমের পক্ষে খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে সাফাই গাইলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।শনিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে পচা গমের পক্ষে সাফাই গেয়ে মন্ত্রী বলেন, এই গম নিয়ে যেসব কথা-বার্তা হচ্ছে; সেসবের কোনো ভিত্তি নেই।

আমদানি করা গম পচা বলে গণমাধ্যমে কথা উঠলেও তা এখনও পরীক্ষায় প্রমাণিত নয় বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

একজন সরবরাহকারীকে দু’টি লট বা এক লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এই পচা গম আমদানির ক্ষেত্রে একই প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ টন সরবরাহের কার্যাদেশ দিয়েছে খাদ্যমন্ত্রণালয়। এ নিয়ে শুরু থেকেই কথা উঠেছিলো। এরপর সেই গম পচা হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে খোদ খাদ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মহলে। অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই গম গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেন। লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। তারপরেও নিয়ম ভেঙে আমদানি করা এই পচা গম নিতে কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা নিম্নমানের এই গম দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ডিলার, আটাকলের মালিক ও টেস্ট রিলিফ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তাঁদের অভিযোগ, ওই গম নিতে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা চাপ দিচ্ছেন। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা ‘ওপরমহলের’ নির্দেশ পালন করছেন মাত্র।

খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের জন্য এসব গম খাদ্যগুদাম থেকে  বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ‘আগে কখনো এত নিম্নমানের গম সরকারি গুদামে দেখিনি। এগুলো মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, সন্দেহ।’

গত ৪ মে সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের ৯ম বর্ষের ২৩ তম সংখ্যায় এ নিয়ে সর্বপ্রথম খবর প্রকাশিত হয়। ‘নিম্নমানের গম আমদানি নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে সমালোচনার ঝড়’ শিরোনামে ওই খবর প্রকাশের পরপরই বিভিন্নমহলে  ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

দেশের অন্যান্য গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হতে থাকে ফলাও করে। আর এরই মধ্যে সেই পচা গমের পক্ষে শনিবার সংসদে বিবৃতি দিয়ে সাফাই গাইলেন খোদ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

খাদ্য অধিদপ্তরে নিম্নমানের গম আমদানি বিষয়ে যেসব কথাবার্তা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ব্রাজিল থেকে আমাদনিকৃত গম যেসব গুদামে রয়েছে, এগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫টি গুদামের গমের নমুনা এসে পৌঁছেছে। এগুলো ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ৩ দিনের মধ্যে ১৫টি গুদামের গমের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জানা যাবে। তখনই এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হবে।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলার অবকাশ নেই। আমাদের সৎ সাহস আছে বলেই নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছি। নষ্ট গম কাউকে জোর করে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে এগুলো ধ্বংস করা হবে।’

এই গম দেখতেই খারাপ মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, এটা আমরা আর আনব না।

কামরুল বলেন, গত সরকার আমলে ৫ লাখ টন গম আমদানির জন্য ইউক্রেইনের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা হয়েছিল। তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে আড়াই লাখ টন গম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

“কয়েক দফা মিটিংয়ে দাম ও মান চূড়ান্ত করার পর ইউক্রেইনের সঙ্গে রাশিয়ার পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। এই সময়ে দেশটি হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।”

এই সময় বাংলাদেশের গমের মজুদ ৬৮ হাজার টনে নেমে আসায় দ্রুত আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।

“সেখানে সর্বনিম্ন দরদাতা দুই প্রতিষ্ঠান ব্রাজিলের গম দিতে চায়। আমাদের এই গম কেনার অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে যে স্যাম্পল আমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো আমরা পরীক্ষা করে দেখি। এই গম লাল ও দানাগুলো ছোট।”

“এই গমে আমাদের অভিজ্ঞতা নতুন হওয়ায় সায়েন্স ল্যাব ও আরও এক জায়গায় পরীক্ষা করিয়েছি। তবে পরীক্ষায় আমরা দেখি, এগুলো খাওয়ার অনুপযোগী নয়।”

তিনি বলেন, “এর মধ্যে এই গমের খুবই খারাপ কিছু স্যাম্পল কে বা কারা প্রধানমন্ত্রীকে পৌঁছে দেয়। সেটা দেখে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন।”

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, “এর মধ্যে আমাদের গম জেলায় জেলায় গোডাউনে চলে গেছে। বেশি একটা কথাবার্তা ছাড়া ৩০-৪০ হাজার টন গম চলেও যায়।

“জোর করে আমরা এই গম দিচ্ছি না। এর মাঝে এত কথা-বার্তা হচ্ছে। এগুলোর কোনো ভিত্তি নাই।”

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button