লাইফস্টাইল

জেনে নিন কোন খাবারগুলোর মাধ্যমে উন্নত করবেন দৃষ্টিশক্তি

বিনোদন ডেস্ক, ডেইলি টাইমস্২৪:

দৃষ্টিশক্তি মানুষের জন্য তো বটেই পশুদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যখন কেউ দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভোগেন তখন তার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঔষধের দ্বারা এবং চক্ষু সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্বারা যখন দৃষ্টিশক্তির সমস্যা উন্নত করার চেষ্টা করা হয় তখন সঠিক খাবারের মাধ্যমেও দৃষ্টিশক্তিকে সমস্যামুক্ত রাখতে এবং সুস্থ রাখা প্রয়োজন। আজকাল অনেক শিশুদেরই খুব অল্প বয়স থেকেই দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দেয়। বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান যেমন ভিটামিন সি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমূহ এবং খনিজ পদার্থসমুহ আমাদের চোখ ও চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
আমাদের বেশ কিছু প্রধান খাবারের মাঝে রয়েছে দৃষ্টিশক্তিকে সুস্থ রাখার জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু পুষ্টি। সাধারণত সবুজ শাকসবজি দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করতে এবং রক্ষণাবেক্ষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এটা আমরা অনেকেই জানি। এর মাঝে পালংশাক, গাজর এবং ব্রকলি চোখকে সুস্থ রাখার জন্য বিশেষভাবে কার্যকরী। তাই শাকসবজি, মাছ ও ফলের মাঝে কি কি খাবারের মাধ্যমে আমরা আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করতে পারি এখানে সেগুলোর কিছুটা জানানোর চেষ্টা করবো।

শাকসবজি
সাধারণত সবুজ শাকসবজি যেমন পালংশাক, ব্রকলি, পাতাকপি এবং হলুদ সবজি যেমন গাজর, হলদে মিষ্টি আলু দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। সবুজ শাকসবজি ভিটামিন এ, সি, বি১২ এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ থাকে। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় বেশি পরিমানে রাখা ভালো তবে লক্ষ্য রাখতে সেগুলো যেন অতিরিক্ত রান্না না হয়ে যায়।

পালংশাক
জানামতে পালংশাকে থাকা ভিটামিন এ কর্নিয়াকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। এই শাকে থাকা lutein নামক একটি যৌগ চোখকে অতি বেগুনী রস্মি থেকে রক্ষা করে। এছাড়া পালং শাকের পাতায় থাকা zeaxanthin নামক একটি রাসায়নিক যৌগ আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই দৃষ্টি শক্তিকে ভালো ও সুস্থ রাখতে সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পালং শাকের জুস খেতে পারেন। এছাড়া এই শাক সেদ্ধ করা, রান্না করে বা অন্য যেকোনো ভাবেই খাওয়া যায়।

ব্রকলি
এতে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন বি২ চোখের ক্লান্তি, আলোর সংবেদনশীলতা, চোখের প্রদাহ ও ঝাপসা দৃষ্টি ইত্যাদির সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। দৃষ্টি শক্তি ভালো করার উপাদান হিসেবে পরিচিত ফটোক্যামিকেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন lutein ও zeaxanthin ব্রকলিতে রয়েছে। পুষ্টিগুন ব্রকলির ফুলে থাকার পাশাপাশি এর পাতা ও ডালপালাতেও রয়েছে। এটি কাঁচা, সালাদ করে বা তরকারি রান্না করা খাওয়া যায়। এই সবজিতে থাকা পুষ্টিগুণের জন্য বেশি বয়সে চোখে ছানি পড়া প্রতিরোধ করে।

গাজর
আমরা অনেকেই জানি গাজর দৃষ্টিশক্তির জন্য ভালো। গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিন দেহে ভিটামিন এ তৈরির মুল উপাদান। এটি রাত কানা রোগ প্রতিরোধ করে। পালং শাকের মত এতেও রয়েছে lutein নামক যৌগ যা বিভিন্ন প্রতিকূলতা থেকে চোখকে রক্ষা করে। এছাড়া গাজরে থাকা পটাসিয়াম ও খাদ্যআঁশ চোখকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গাজর কাঁচা সালাদ বা রান্না করা যেকোনো ভাবে খেলেই উপকার পাওয়া যায়।

মিষ্টি আলু
হলদে মিষ্টি আলু থেকে গাজরের মতোই বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যায়। মিষ্টি আলু থেকে সবচেয়ে মজার এবং সহজ ভাবে ভিটামিন পাওয়ার উপায় হচ্ছে ভেজে খাওয়া। মিষ্টি আলু চিকন করে স্লাইস করে ওভেনে বা চুলায় সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে ভেজে পছন্দ মতো মশলা গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন।

রশুন
রশুন হচ্ছে একটি সুপার ফুড। রশুন একটু বেশি বয়েসে চোখের রোগ এবং চোখের ছানি পরার হাত চোখের লেন্সকে রক্ষা করতে পারে। এটি চোখের স্বাস্থ্য ভালো করার সাথে সাথে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং রক্তের প্রবাহকে বাড়ায়।

মাছ
সবজির পর মাছ হচ্ছে চোখের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বেশির ভাগ মাছেরই রয়েছে চোখকে ভালো রাখার গুণাবলী বিশেষ করে স্যামন, টুনা, কড ও সারডিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব মাছে থাকা পুষ্টি উপাদান চোখের রেটিনাকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করার সাথে সাথে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে। এই মাছে থাকা অমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড চোখের আর্দ্রতা ধরে রেখে চোখে কন্ট্রাক্ট লেন্স পরার ফলে সৃষ্ট বা বৃদ্ধ বয়সে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে চোখকে রক্ষা করে। এছাড়া ওমেগা-৩ মস্তিস্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে যা দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করার সাথে সরাসরি যুক্ত। তাই দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করতে কমপক্ষে ২ বার সপ্তাহে ২ দিন খাদ্যতালিকায় এসব মাছ রাখতে হবে। বেক, গ্রিল বা তরকারি রান্না করে খায় এই খাবারগুলো।যদি কেউ এসব মাছ খেতে না চান তবে মাছের তেলে সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন।

ডিম
দিনের শুরুটা একটি বা দুইটি ডিম খাওয়ার মাধ্যমে করলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। ডিমে থাকা প্রোটিন চোখের লেন্সের জন্য উপকারী। একইভাবে ডিমের কুসুমও অনেক উপকারী এটা বেশি বয়সে চোখের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ফল
বেশ অনেক ধরনের ফলই যেমন বেরী জাতীয় ফল, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি ফল দৃষ্টি শক্তিকে উন্নত করার জন্য ভালো ভূমিকা রাখে।

বেরী
বিভিন্ন ধরনের বেরী ফল চোখের জন্য ভালো। যেমন ব্লুবেরী, মালবেরী, ব্ল্যাকবেরী ইত্যাদি।বিভিন্ন ধরনের বেরী ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কোলাজেনকে স্থায়ী করতে এবং সেই সাথে প্রদাহ বিরোধী হিসেবে কাজ করে। চোখের রক্তনালীসমূহকে শক্তিশালী করে যার ফলে দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী হয়। চোখের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে সেই সাথে চোখের রক্তচাপও নিয়ন্ত্রিত হয়। বেরীতে anthocyanin নামক পদার্থ থাকার ফলে চোখের ধমণীর ব্লকেজ প্রতিরোধ করতে পারে।

অ্যাভোকাডো
এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন ভিটামিন সি, ই, বি৬ এবং বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা lutein নামক যৌগ চোখের ছানি পড়ার সম্ভাবনা থেকে রক্ষা করে সেই সাথে বেশি বয়েসের চোখের রোগ হওয়া প্রতিরোধ করে।

বিভিন্ন ধরনের বাদাম
মাছের মতো কাঠ বাদাম, কাজু বাদাম ও চিনা বাদামেও থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যদিও খুব বেশি পরিমানে নয় থাকে না তবুও তা চোখের রোগ ও শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। তাই এক মুঠ বাদাম খেতে পারেন।

ডার্ক চকলেট
চোখের জন্য ডার্ক চকলেট বেশ ভালো। বিশেষ করে এতে থাকা ফ্লেভোনয়েড চোখের রক্তনালী সমূহকে রক্ষা করে। শক্তিশালী রক্তনালী মানেই শক্তিশালী কর্নিয়া ও লেন্স। তাই চোখকে ভালো রাখতে ডার্ক চকলেট খান।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button