খেলাধুলা

তবে কি মুশফিকের বিদায়?

স্পোর্টস ডেস্ক, ডেইলি টাইমস্২৪:  আগের ম্যাচে ৫টি ডিসমিসালে বাংলাদেশের রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি খেলছেন শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে। রোববার সিরিজ জয়ের হাতছানির ম্যাচে বাংলাদেশের কিপিং গ্লাভস পরেছেন লিটন কুমার দাস। ম্যাচের আগে অনুশীলনে লিটনের কিপিং অনুশীলন করাতেই বোঝা যাচ্ছিল এই ম্যাচে কিপিং করবেন তিনিই। পরে একাদশে মুশফিকের নামের পাশে কিপার লেখা থাকলেও পরে তা কেটে লিটনের নামের পাশে লেখা হয়।

মুশফিকুর রহীমের ব্যাটে সেরা পেতে হলে তার কাঁধ থেকে বোঝা কমাতে হবে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের এ বক্তব্য ক্রমান্বয়ে বাস্তবের পথে। ওয়ানডে অধিনায়কত্বের বোঝা কমিয়ে দেয়া হয়েছে মুশফিকের কাঁধ থেকে। সে এখন শুধু টেস্ট অধিনায়ক। এরপর রব উঠলো উইকেট কিপিং ছাড়লে মুশফিকের ব্যাট আরও আলো ছড়াবে। কিন্তু উইকেটের পেছনে মুশফিক যে অতন্দ্রপ্রহরী। নিজের ৪৬ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে কিপিং করেননি মাত্র ৩ বার।

প্রথম ওয়ানডেতে দুটি সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন মুশফিক। তবে পরে ৫ ক্যাচ নিয়ে ছুঁয়ে ফেলেন খালেদ মাসুদের রেকর্ড। দ্বিতীয় ম্যাচে মুশফিকের কিপিং না করার আনুষ্ঠানিক কারণ এখনও জানানো হয়নি। ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ জানান, কারণ জানানো হবে ম্যাচের পর।

রেকর্ড বলছে, কিপিংয়ের ভার না থাকলে মুশফিকের ব্যাটিংয়ের ধার বেড়ে যায় অনেক। কিপার হিসেবে খেলা ম্যাচগুলোয় তার ব্যাটিং গড় যেখানে ৩০.১৩; এই ম্যাচের আগে কিপিং না করা ম্যাচগুলোয় ব্যাটিং গড় ৪৮.৫৭! গত এশিয়া কাপে এই ভারতের বিপক্ষেই কিপিং না করে ব্যাট হাতে করেছিলেন দারুণ এক শতক।

অন্যদিকে ১৫১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে গতকাল পর্যন্ত ১০ বার তিনি কিপিং করেন নি। শুধু ইনজুরিতেই তিনি হাতে তুলে নেননি কিপিং গ্লাভস। সেই সঙ্গে তার পরিবর্তে উইকেটের পেছনে এখনও কেউ আস্থাও হয়ে উঠতে পারেননি। খালেদ মাসুদ পাইলটের পর টেস্ট ও ওয়ানডেতে বাংলাদেশের উইকেটের পেছনে মুশফিক ছাড়া আর কেউই থিতু হতে পারেননি।

তবে এবার মুশফিকের কিপিংয়ের মানে নতুন চ্যালেঞ্জ লিটন কুমার দাস। মুশফিকের আঙুলের চোটের কারণে টেস্টে অভিষেক ম্যাচেই কিপিং করেন তিনি। এরপর তার অভিষেক ওয়ানডেতে উইকেটের পেছনে মুশফিকই ছিলেন। কিন্তু ক্যাচ ছেড়ে মুশফিক ভারতের বিপক্ষে অনেকটা ম্যাচ হাত ছাড়ারই পথ করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডে টসের আগেও মুশফিকের নাম ছিল উইকেটকিপার হিসেবে। কিন্তু টসের পর সেটি পরিবর্তন হয়ে চলে যায় লিটনের নামের পাশে। সঙ্গে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে পেলো ১১তম উইকেটকিপার হিসেবে নতুন মুখ লিটনকে।

বাংলাদেশের হয়ে ১৯৮৬ সালে প্রথম ২ ওয়ানডে ম্যাচে উইকেটের পেছনে ছিলেন হাফিজুর রহমান। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ৭টি ম্যাচে উইকেটকিপারের দায়িত্ব পালন করেন নাসির আহমেদ নাসু। এরপর ৫ বছর বাংলাদেশ কোন ওয়ানডে ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। ১৯৯৫ সালে ভারতের বিপক্ষে সারজাতে খালেদ মাসুদ পাইলটের উইকেটকিপার হিসেবে অভিষেক হয় ওয়ানডেতে।

এরপর ১২৬ ওয়ানডের সব কয়টিতেই তিনি ছিলেন উইকেটের পেছনে। তার হাতবদল হয়ে জাহাঙ্গীর আলম হাতে একবার, হান্নান সরকারের হাতে দুবার ও মো. সেলিমের হাতে একবার কিপিং গ্লাভস উঠলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে ২০০৬ সালের ৮ই ডিসেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহীমের হাতে প্রথম কিপিং গ্লাভ ওঠে। এর ১৪১টি ম্যাচেই তিনি কিপিং করেছেন। এর মধ্যে অভিষেক ম্যাচে ও নিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ছাড়া বাকি ৭টিতে ইনজুরির কারণে কিপিং করতে পারেননি।

এ ছাড়াও ফর্মের কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। সেটি ২০০৮ সালের ঘটনা। মোট ১৪টি ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। সেই সময় জাতীয় দলের কিপিং গ্লাভস তুলে দেয়া হয়েছিল ধীমান ঘোষের হাতে। ১৪টি ম্যাচে না উইকেটের পেছনে না ব্যাট হাতে কোনটিতে ধীমান দেখাতে পারেননি নিজের যোগ্যতা। এরপর প্রথম ২০১০ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চোটের কারণে তার কিপিং করা হয়নি। গতকাল ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তার কিপিং না করার  কারণ কি ছিল ইনজুরি? নাকি দলই চাইছে না মুশফিক আর কিপিংয়ের বোঝা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামুক। যদিও কেন মুশফিক কিপিং করছেন না এমন প্রশ্নে দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন ম্যাচের পরে জানাবেন বলে। কিন্তু পরিস্থিতি বলছে হয়তো শেষ হয়ে যাচ্ছে মুশফিকের কিপিংযুগ।

তবে ওয়ানডে মুশফিকুর রহীম কিপিং গ্লাভস ছাড়া শুধু ব্যাট হাতে যে খুব একটা অনুজ্জ্বল তা নয়। কিপিং গ্লাভস ছাড়া যে কয়টি ম্যাচে মুশফিক ব্যাট করেছেন- আছে একটি সেঞ্চুরি ও ২টি ফিফটি। তাই এখন দেখার বিষয় দেশের সবচেয়ে সফল এই উইকেটকিপার কিপিং ছেড়ে ব্যাটে কতটা আলো দেখান। শুধু তাই নয়, যে লিটন কুমার দাসের কাছে এখন মুশফিকের কিপিং চ্যালেঞ্জের মুখে সে ব্যাট হাতে ও উইকেটের পেছনে কতটা আলো ছড়াতে পারে!

[icon name=”*”]
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button