খেলাধুলা

‘ব্যাটসম্যান হতে চেয়েছিলেন মুস্তাফিজ’

স্পোর্টস ডেস্ক, ডেইলি টাইমস্২৪:  বিশ্ব ক্রিকেটে এ মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটারের নাম বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ পারফর্ম করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। ওয়ানডেতে অভিষেকে দুই ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ১১টি উইকেট পেয়ে রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়েছেন ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’। রবিউল ইসলাম শিপলু ও সৌম্য সরকারের উত্তরসূরি হয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এখন উজ্জ্বল নক্ষত্র মুস্তাফিজ।

গত বছর ডিসেম্বরে ওয়ানডে দলে অভিষেক হয় সৌম্য সরকারেরও। এরই মধ্যে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে সে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাওয়াশ ম্যাচে হার না মানা ১২৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে (টোয়েন্টি২০) যে সুইং দেখিয়ে ধাঁধাঁ লাগিয়ে দেন, তিনি আর কেউ নন, সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস খ্যাত মুস্তাফিজুর। তার অভিষেকের মধ্য দিয়ে যশোরের ছেলে সৈয়দ রাসেলের পর আবারও একজন বাঁ-হাতি ফাস্ট বোলার পেয়েছে টিম বাংলাদেশ।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে ফিল্ডিং নেমে মাশরাফি বল তুলে দেন ১৯ বছর বয়সী মুস্তাফিজের হাতে। ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজ। সেই ম্যাচ শেষ সংবাদ সম্মেলনে আফ্রিদি প্রশংসা করেন এই তরুণ বোলারের।

গত বছরের এপ্রিলে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয় মুস্তাফিজের। আর ছয় মাস আগে অভিষেক হয়েছে ঘরোয়া এক দিনের ম্যাচে। ৭টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ থেকে তার ঝুলিতে নেন ২৩টি উইকেট। তারপর অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও ‘এ’ দলের হয়ে দারুণ বোলিং করে নজর কাড়েন তিনি। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খুলনার হয়ে মাত্র আট ম্যাচ খেলেই পেয়েছেন ২৩ উইকেট।

৪৪তম বাংলাদেশী হিসেবে টোয়েন্টি২০-তে অভিষিক্ত এই বোলার নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়ার বরেয়া জিলানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজ অনূর্ধ্ব-১৬, ১৮ ও ১৯ সাতক্ষীরা জেলা দলের হয়ে খেলেছেন।

ব্যবসায়ী বাবা আবুল কাশেম গাজী, মা মাহমুদা খাতুনের গর্বিত সন্তান মুস্তাফিজ জন্মগ্রহণ করেন ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ সালে। চার ভাই ও দুই বোনের সংসারে বেড়ে উঠে মুস্তাফিজ। তার বড় ভাই গ্রামীণফোনের টেরিটরি অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, মেজ ও সেজ ভাই ঘের ব্যবসায়ী। তার ক্রিকেট খেলায় আসার পিছনে সেজ ভাই মোখলেসুর রহমানের অবদান সবচেয়ে বেশি।

মুস্তাফিজের বাবা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার ছেলে জাতীয় যে অবদান রাখছে এতে আমি খুশি। মুস্তাফিজ এখন কেবল আমার ছেলে নয়, বাংলাদেশের আলোকিত সন্তান।’

তার সেজ ভাই মোখলেছুর রহমান লাল্টু বলেছেন, ৫ বছর আগে সাতক্ষীরায় অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেটে বাছাই পর্বে সে সকলের নজর কাড়ে। তারপর তিন দিনের একটি কোচিং করানো হয় মুস্তাফিজকে। এরপর জেলা পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেট খেলায় সাতক্ষীরার হয়ে প্রথম মাঠে নামে সে। পড়াশোনায় বরাবরই সে কিছুটা অমনোযোগী। স্কুল ফাঁকি দিয়ে সে ক্রিকেট খেলতে যেত। স্থানীয় বরেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নেট প্র্র্যাকটিস করত মুস্তাফিজ।

মোখলেছুর রহমান লাল্টু অকপটে স্বীকার করলেন, সাতক্ষীরা গণমুখী সংঘের কোচ আলতাফ ভাই প্রথম দেখতে পান মুস্তাফিজের ভেতরের ক্রিকেট প্রতিভা। জেলা পর্যায়ে এসে মুস্তাফিজকে আরও পরিণত করে তুলতে পরিশ্রম করেন সাতক্ষীরার জেলা কোচ মুফাসিনুল ইসলাম তপু। এরপর ডাক পেয়ে যান খুলনার বিভাগীয় দলে।

গত বছরের মে মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলেও স্থান পেয়েছিলেন মুস্তাফিজ। তিনি প্রথম শ্রেণীতে খেলা শুরু করেন গত বছরের এপ্রিলে। এই তো ছয় মাস আগে অভিষেক হয়েছে ঘরোয়া এক দিনের ম্যাচে।

বাঁ-হাতি পেসারের যে ঘাটতি অনুভব করছিল বাংলাদেশ তার জন্য যেন মুস্তাফিজই অপেক্ষা করছিল। মুস্তাফিজের ভারত বিজয়ে আত্মহারা বাবা মাসহ সাতক্ষীরাবাসী।

মুস্তাফিজের ক্রিকেট কোচ আলতাফ হোসেন বলেন, সৌম্য এবং মুস্তাফিজ দু’জনই তার শিষ্য। দু’জনই যে এক সঙ্গে জাতীয় দলে খেলছে এর চেয়ে আনন্দের কিছু হতে পারে না।

মুস্তাফিজের আরেক কোচ মুফাসিনুল ইসলাম তপু বলেন, ‘মুস্তাফিজ প্রথমে ব্যাটসম্যান হতে চেয়েছিল। কিন্তু তার বোলিং স্টাইল দেখে আমি তাকে বোলার হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। সে আজ জাতীয় দলের আলোচিত বোলার এটি আমার জন্য গর্বের।’

[icon name=”*”]

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button