আইন ও আদালত

বিশ্বজিৎ হত্যা: দণ্ডিত ছাত্রলীগ নেতাদের ১৩ জনই পলাতক

ডেইলি টাইমস্২৪:

পুরান ঢাকার দর্জি দোকানী বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ২১ আসামির ১৩ জনই পলাতক। আড়াই বছরেও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে সাজাপ্রাপ্ত অনেক আসামিকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে দেখা গেলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বরাবরের মত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

হত্যার ঘটনায় ২১ আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদ- ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুজন ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন পলাতক। বাকি আটজন কারাগারে। এঁদের সবাই ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধের মধ্যে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে জামায়াত-শিবির সন্দেহে দর্জি পেশায় নিয়োজিত বিশ্বজিৎ দাসকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।

শেষ পর্যন্ত রায়টি সর্ব মহলে প্রশংসিত হলেও দন্ডিত ১৩ আসামির মধ্যে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর তমাল, ওবায়দুল কাদের, আজিজুর রহমান, মীর নূরে আলম লিমন, আল-আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, কামরুল হাসান ও মোশারফ হোসেন। সূত্র আরো জানায়, তাদের মধ্যে রাজন তালুকদার এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন। ইমরান, পাভেল ও আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন দয়াগঞ্জ এলাকায় বসবাস করছেন।

সাজা হওয়ার পরও কয়েকজনকে ছাত্র-লীগের একাধিক কর্মসূচিতেও দেখা গেছে। ফাঁসির দ-প্রাপ্ত একজনকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে সক্রিয় দেখা গেছে। অথচ পুলিশ বলছে আসামিরা পলাতক এবং তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পলাতক অবস্থায়ই কয়েকজন আসামি এরই মধ্যে আদালত থেকে জামিন নেয়ার চেষ্টা করছেন। তারা এরই মধ্যে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছে। জামিন পাওয়ার জন্য দৌঁড় ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন।

রায়ের পরও দেড় বছর পার হয়েছে এখনো কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না আসামিদের- জানতে চাইলে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সুতরাং আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি গোয়েন্দা বিভাগই ভালো বলতে পারবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পরিদর্শক তাজুল ইসলাম বলেন, রায়ের পর আর কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তারা দেশের বাইরে আছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে আসামিদের বাড়িতে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হয়। কেউ সংবাদ দিলেও সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এভাবে গ্রেপ্তার-প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ তদন্তের তদারক কর্মকর্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবির) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসামিদের স্থায়ী ঠিকানায় যায়। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তারপরও এসব আসামি ধরতে ডিবি তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্বজিৎ দাসের বাবা অনন্ত দাস ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমাদের এখন একটাই চাওয়া, মৃত্যুর আগে ছেলের হত্যাকারীদের সাজা দেখে যেতে চাই।’ তিনি হতাশাযুক্ত কণ্ঠে বলেন, ছেলের হত্যকা-ের পর প্রায় আড়াই বছর পার হতে চলল কিন্তু এখনো বেশির ভাগ আসামি ধরাই পড়ল না।

বিশ্বজিতের খুনিদের গ্রেপ্তার করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি ওঠে সব মহলে। ঘটনার দিন অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন সূত্রপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল আহমেদ। মামলাটি থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে নেওয়া হয় তদন্তের জন্য। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম।

রায় কার্যকর নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিশ্বজিতের বড় ভাই উত্তম কুমার ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে রায় হয়েছে। উচ্চ আদালতে খালাস চেয়ে আসামিরা আবেদন করেছেন। শুনেছি, তারা নাকি খালাস পেয়ে যাবেন। রায়ের দিন পরিবার খুব খুশি হলেও ধীরে ধীরে তা ম্লান হতে চলেছে। দুনিয়াতে তাদের বিচার না হলেও সৃষ্টিকর্তা তাদের তো ছাড়বেন না। কোথাও না কোথাও তারা এমনিভাবে মানুষের হাতে মরবে।’

অভিযোগ ওঠে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিপক্ষ নির্ধারিত সময় ৬০ দিন পার করে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। আপিলের পর মামলাটি শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। তবে কবে নাগাদ শুনানি হবে তা জানা যায়নি।

আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিলের আবেদন করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির আগে মামলার ব্যাপারে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button