রাজনীতি

মায়ার মন্ত্রিত্ব যাওয়া সময়ের ব্যাপার, ঝুঁকিতে দলীয় পদও

ডেইলি টাইমস ২৪:

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় জড়িত নিজের মেয়ের স্বামীকে (সাবেক লে. কর্নেল সাঈদ) বাঁচানোর চেষ্টা ফাঁস হওয়ার পর মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মন্ত্রীত্ব যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
সংবাদ মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে লেখালেখির পর মন্ত্রিসভার একাধিক বৈঠকে যোগদান থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছিলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।
শেষ পর্যন্ত গত সিটি নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের প্রার্থী সাঈদ খোকনের জন্য কাজ না করে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকার বিষয়টিও ভালোভাবে নেয়নি দলের হাইকমান্ড।
প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগে নিজের পছন্দের প্রার্থীর জন্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এই নেতার দৌঁড় ঝাঁপও সকালের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছিল।
দৃশ্যত তখনই মায়ার নাম প্রধানমন্ত্রীর গুলবুক থেকে মুছে যায়।তবে ঠাণ্ডা মাথার পা ফেলা প্রধানমন্ত্রী সময় অপেক্ষায় ছিলেন।
এবার দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এখন তো তার মন্ত্রীত্বের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন মায়া এখন রীতিমতো দলে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।সব কিছু মিলিয়ে এখন তার মন্ত্রীত্ব যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছিয়ানব্বই সালে ক্ষমতায় থাকাকালে মায়ার ছেলের জন্য আওয়ামী লীগকে কম মাসুল দিতে হয়নি। গুঞ্জন রয়েছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার এবার মন্ত্রীত্বই শুধু হারাবেন না তাঁর দলীয় পদও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে।
শীঘ্রই মন্ত্রিসভার রদবদল হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সেখানে যারা বাদ যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে-তাদের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরূী মায়া অন্যতম বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, মায়ার সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে দলীয় হাই কমান্ড ক্ষুব্ধ।ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থীর সরাসরি বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শোনা যাচ্ছে সে কারণেও তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট খোদ প্রধানমন্ত্রী ও দল।
সিটি নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাঁর অনুসারিদের মাঠে নামাতে দলটির শীর্ষ নেতারা ত্রাণমন্ত্রীর সাথে কয়েকদফা বৈঠক করেও ব্যর্থ হন। আর এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কান পর্যন্ত পৌছে।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, দল নয় ব্যক্তি মায়া চৌধুরী নিজেকে বেশি শক্তিশালি মনে করেন। তার কারণে অনেক সময় মহানগরের অনেক সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়ে দলকে। ঠিক তেমনি বিগত সিটি নির্বাচনে ঢাকায় নিজের পছন্দের প্রার্থীর না হওয়ায় তিনি নিস্ক্রিয় ছিলেন। কিন্তু তার বিরোধিতা সত্বেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক একই সুরে কথা বলেন। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘মায়ার নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে ঢাকা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা আশানুরূপ ভোট পাননি। তিনি সক্রিয় হলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা এত ভোট পেতেন না। নির্বাচন নিয়ে এত সমালোচনাও হতো না। বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি ভালোভাবে নেননি।’
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, ত্রাণমন্ত্রী বিরোধিতার কারণেই মহানগর কমিটি সম্মেলনের পরেও কমিটি হচ্ছে না।কারণ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নগর কমিটিকে দুইভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু মায়া চৌধুরী সে সিদ্ধান্ত মানতে চাইছে না।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেনিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, মামলাটি বিচারাধীন। শেষ বিচারের রায়ে যদি মায়া দোষী সাবস্ত হয়। তাহলে আমরা আইনের শাসনের প্রতিশ্রদ্ধাশীল থাকবো।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button