খেলাধুলা

দ. আফ্রিকার বিপক্ষে সাকিবের নয়া কৌশল!

স্পোর্টস ডেস্ক, ডেইলি টাইমস্২৪: পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে নিজেদের ফেভারিট ভাবছিলেন সাকিব আল হাসান। পাকিস্তানকে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগেও চড়া গলা শোনা যাচ্ছিল টাইগারদের।  টানা দুই ওয়ানডে জিতে নিয়ে সিরিজের ট্রফি হাতে তুলে টাইগাররাই। এবার টাইগারদের সামনে মিশন  দক্ষিণ আফ্রিকা। ভিন্ন প্রতিপক্ষ, ভিন্ন আদল। আর এতে পরিবর্তন আসছে টাইগারদের রণকৌশলেও। প্রোটিয়াদের জন্য আলাদা ছক আঁকছে বাংলাদেশ থিঙ্কট্যাঙ্ক। সদ্য ‘উইজডেন ইন্ডিয়া’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আসন্ন বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নিয়ে নিজের ভাবনা জানান তিন ফরমেটের ক্রিকেটে বিশ্বের একনম্বর অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এতে সাকিব যা বলেন:

প্রশ্ন: ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়টাকে বাংলাদেশের অর্জনের তালিকায় কোথায় রাখবেন?
সাকিব: অবশ্যই সেরা অর্জনের একটি। তবে ২০০৭-এর বিশ্বকাপ ও ২০১৫ এর বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার কৃতিত্বটা আমার দৃষ্টিতে  সেরা। এরপরে ভারত, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মুহূর্তগুলোকে এগিয়ে রাখবো।

প্রশ্ন: সিরিজ শুরুর আগে কি ভেবেছিলেন ভারতের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জেতা সম্ভব?
সাকিব: বিষয়টা আসলে তেমন ছিল না! তবে ড্রেসিং রুমে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব ছিল সব সময়। দেশের মাটিতে আমরা যেমন খেলছি তাতে বলতে পারি নিজেদের দিনে যে কোন দলকেই আমরা এখন হারাতে পারি। এবং আমি মনে করি, আমরা নিজেদের এবং পুরো বিশ্বকে দেখাতে পেরেছি ওয়ানডেতে আমরা কতটা শক্তিধর। যদিও ভারতের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ভাল খেলতে পারিনি। ওই ম্যাচে ব্যাটিংটা যদি ঠিকমতো হতো তাহলে জিততে পারতাম। তবে সার্বিকভাবে অসাধারণ এক সিরিজ ছিল এটি । এখন আমাদের নজর  দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দিকে।

প্রশ্ন: নিজেদের সাম্প্রতিক নৈপুণ্য বিচারে আপনার কি মনে হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশই ফেভারিট?
সাকিব: না! আমি এখনও বিশ্বাস করি দক্ষিণ আফ্রিকাই ফেভারিট। কারণ তাদের বোলিংটা ভাল। দ্বিপক্ষীয় এ সিরিজে খেলতে নামার আগে আমাদের সঠিক পরকিল্পনা আঁকতে হবে। ভারতের বিপক্ষে চার পেসার নিয়ে খেলেছি আমরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে এর উল্টোটাও দেখতে পারেন। তবে কোচ এবং অধিনায়কের ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু।

প্রশ্ন: টেস্টে বাংলাদেশের খুব বেশি সাফল্য নেই। এর কারণ কী?
সাকিব: আসলে টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে আপনার ২০ উইকেট প্রয়োজন। যেমন  পিচে আমরা খেলি সেগুলো সাধারণত ‘ফ্ল্যাট’। এমন পিচে বোলারদের জন্য কিছু থাকে না। তাই এখানে উইকেট নেয়া কষ্টসাধ্যই। যদি আমরা কিছু ভাল বোলার তৈরি করতে পারি, যারা যে কোন কন্ডিশনে বল হাতে ইনিংসে ৫-৬ উইকেট নিতে পারবে তাহলে আমাদের চিত্র পাল্টে যাবে।

প্রশ্ন: আইপিএল-এ খেলার অভিজ্ঞতা-
সাকিব: সে এক বিশাল অভিজ্ঞতা! কলকাতাকে নিজের ঘরের মতোই  মনে হয় আমার। এটা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা যখন ড্রেসিং রুমে আপনি ‘গ্রেট’ সব ক্রিকেটারদের সঙ্গে চিন্তা ভাগাভাগি করছেন। আমি কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের হয়ে খেলছি প্রায় পাঁচ বছর। আশা করছি, ওদের হয়ে যতোদিন সম্ভব পারফর্ম করে যাবো।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন এ পর্যায়ে পৌঁছতে বাংলাদেশকে যথেষ্ট সংগ্রাম করতে হয়েছে?
সাকিব: হ্যাঁ, তাতো অবশ্যই। অপনাকে সুযোগ পেতে হবে আগে। খেলার যথেষ্ট সুযোগ না পেলে আপনার যোগ্যতা দেখানো অসম্ভবই।

প্রশ্ন: সংগ্রামটা কেমন কঠিন ছিল?
সাকিব: এর বর্ণনা কিভাবে দেবো বুঝি না। আমরা নিয়মিতই ক্রিকেট খেলছিলাম। হ্যাঁ, আমাদের নৈপুণ্যে চড়াই-উৎরাই ছিল। আমাদেরকে ক্রিকেটের বড় দল মনে করতো না কেউ। এর পেছনে হয়তো কারণও ছিল। আমাদের নৈপুণ্যে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। কিন্তু এখন আমরা বড় দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে ভাল ক্রিকেট খেলছি। এতে আমাদেরকে আলাদাভাবে সবাই চিনতে শুরু করেছে।

প্রশ্ন: দলে আপনার ভূমিকাটা কেমন দেখেন? একজন পরামর্শকও নাকি শুধুই একজন স্বাধীনচেতা খেলোয়াড়?
সাকিব:  দলের প্রত্যেকে আমরা স্বাধীনতা নিয়েই ক্রিকেট খেলি। আমাদের ওপর কোন চাপ নেই। পরিস্থিতি বুঝে আমরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই দেখাতে চেষ্টা করি। খেলাটা উপভোগ করতে চাই। আর কোচ আমাদের এ স্বাধীনতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তুমি যদি পারো তাহলে ব্যাট হাতে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকাও।

[icon name=”*”]
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button