জাতীয়

যোগাযোগ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড : আরো ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার : রামুতে বন্যা দুর্গত মানুষের হাহাকার

ডেইলি টাইমস্২৪:  কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত লাখো মানুষের হাহাকার চলছে। পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রীর অভাবে অনাহারে মানবেতর সময় পার করছেন তারা। সরকারি এবং ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রান তৎপরতা খুবই অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন, দূর্গত লোকজন। এদিকে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা। মহাসড়ক ছাড়াও বিভিন্ন গ্রামীন সড়ক ও সেতু বন্যার পানিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা চলাকালে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন, বশির আহমদের মেয়ে কামরুনাহার (২২) ও এরশাদ উল্লাহর মেয়ে তরিকা হাসনাত (৪)। বৃহষ্পতিবার সকালে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজল বিল এলাকায় বন্যা কবলিতদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার সময় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ হোসেন গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজল বিল এলাকায় নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রামুতে বন্যা চলাকালে পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধ্বসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭ জন হয়েছে। এদিকে দূর্গত এলাকাগুলোতে খাবারের অভাবে লোকজন অনাহারে মানবেতর সময় পার করছে বলে জানা গেছে। বন্যা কবলিত মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেশী। পানি এখনো কমেনি। যার কারনে কেউ রান্না করেও খেতে পারছে না। আবার দরিদ্র লোকজন কাজ কর্ম বন্ধ থাকায় অর্থাভাবে খাবার কিনতে পারছে। প্রশাসন ও ব্যক্তি পর্যায়ে ত্রান সামগ্রী খবুই অপ্রতুল। জরুরী ভিত্তিতে ত্রানের পরিমান না বাড়ালে লোকজনের ভোগান্তি বেড়ে যাবে।

লন্ডভন্ড যোগাযোগ ব্যবস্থা : কয়েকদিনের টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, একাধিক স্পটে নদী ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় রামু উপজেলার প্রায় সবকটি সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে রামু-মরিচ্যা আরাকান সড়ক, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক, অফিসেরচর-লম্বরীপাড়া সড়ক, ঈদগড়-ঈদগাও সড়ক, তেমুহনী-জাদিমুরা সড়ক, রাজারকুল-চেইন্দা সড়ক অন্যতম। এছাড়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীন পাকা ও কাঁচা সড়কে ব্যাপক ভাঙ্গনের খবর পাওয়া গেছে। তবে বিভিন্ন এলাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও মুঠোফোন সংযোগ বিপর্যয়ের কারনে ক্ষয়ক্ষতির সকল তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে না। কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. কায়েস জানিয়েছেন, এ ইউনিয়নের গাছুয়াপাড়া, ডিককুল পাড়া, ফুলনীর চর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক বসত বাড়ি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় ধ্বসে আমির হোসেন নামের ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১০ টি বসত বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ২০ টি বসত বাড়ি আংশিত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব গ্রামে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমলের পক্ষ থেকে ৫ শত মানুষকে রান্না করা ও শুকনো খাবার এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮০ জনকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রামু-কক্সবাজার আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম গতকাল উপজেলার কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বন্যা দূর্গত এলাকায় রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। এছাড়া বিএনপি কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের পক্ষ থেকে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে ২০ হাজার বন্যা দূর্গত মানুষকে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। রামু উপজেলা প্রশানের উদ্যোগে বন্যা দূর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের শুকনো খাবার, চাল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ হোসেন। রামু উপজেলার দক্ষিন মিঠাছড়িতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্যা দূর্গতদের ত্রান সামগ্রী বিতরণ এবং আক্রান্ত লোকজনকে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন, চাইল্যাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তরুন সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানিয়েছেন, এখানকার লোকজন এখনো পানি বন্দি। সরকারি ত্রান সহায়তা দ্রæত না পৌঁছালে মানুষের দূর্ভোগ বেড়ে যাবে।

[icon name=”*”]

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button