রাজনীতি

পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে: খালেদা জিয়া

ডেইলি টাইমস ২৪: 

দেশকে ধ্বংস করতে ‘পরিকল্পিতভাবে’ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এখন সেই ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

এর বিরুদ্ধে জেগে উঠতে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে সবাইকে জেগে উঠতে হবে।’

রাজধানীর লেডিস ক্লাবে মঙ্গলবার ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘যারা দেশকে ভালোবাসেন, নিজেকে ভালোবাসেন, পরিবারকে ভালোবাসেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্মান করেন, তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সজাগ হতে হবে। তবেই দেশে শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবাধিকারসহ সার্বিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে। নিরাপদ জীবন যাপন নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে।’

এই সরকারের বিদায়ের জন্য রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বিজিবিকে শেষ করে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এখন মায়ানমারের সঙ্গেও পারেনা। আগে এই বাহিনী অনেক চৌকস ছিলো। মায়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবর সদস্যকে ধরে নিয়ে যায়। দেশের সম্মান আর কোথায় রেখেছে?’

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী শেষ করে দিয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান শেষ করে দিয়েছে। সীমান্তে প্রতিনিয়তই মানুষ খুন, গুম হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করার কেউ নেই। এই অপদার্থ সরকার কোনো প্রতিবাদ তো করেই না, কেউ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়।

বিজিবির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষী বাহিনী আর নেই। জানি না, সীমান্তে তাদের কোনো অবস্থান আদৌ আছে কি না, তা বলা মুশকিল। এরা শুধু দেশের ভেতরে নিজেদের মানুষকে গুলি করতে পারে। জনগণের ট্রাক্সের টাকায় কেনা গুলি এদশের মানুষের ওপরই ব্যবহার করা হয়।’

পুলিশের কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি প্রধান বলেন, এই বাহিনীতে খুবই দুরবস্থা। ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি চলছে। সবাই নয়, কিছু কিছু পুলিশ এই সরকারের লাই (সমর্থন) পেয়ে আজকে সবকিছু ছাড়িয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ধার ধারেনা। বিচারের কোনো পরোয়া করেনা। কারন তারা জানে তাদের কেউ স্পর্শ করতে পারবেনা। যখন ইচ্ছে মানুষ ধরছে, চাঁদা চাইছে, গুম করছে, খুন করছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা সরকারের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে কথা বললেও কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছেনা। আজ জাতীয় সংসদে কোনো আলোচনা হয় না। এটা গান-বাজনার আসর হয়ে গেছে। সংসদে এখন কোরাম হয়না। বিরোধী দল বলে সেখানে কিছু নেই। এই সংসদে বির্তক করার কোনো এ্যাজেন্ডা খাকে না। এর মধ্য দিয়ে সংসদ সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হয়ে গেছে।’

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সব দলের অংশগ্রহনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএনপি নেত্রী।

তবে তিনি সংশয় প্রকাশ করে বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায়না। এটি অপদার্থ, অকার্যকর নির্বাচন কমিশন। তাদেও সত্য কথা বলার মতো সাহস নেই।

কেউ সরকারের সমালোচনা করলেই তাকে তার নামে মামলা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া। প্রশাসনসহ দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতিদও ক্ষেত্রে যোগ্য লোক ডিঙ্গিয়ে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে বলেও এ সময় দাবি করেন বিএনপি প্রধান।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক টেবিলে ইফতার করেন মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অন্যদের মধ্যে এলডিপির অলি আহমেদ, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর আমীনুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন প্রকাশ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামা ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুর রহমান, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমেদ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল আলম চৌধুরী, আহমেদ আজম খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মাহবুবউদ্দিন খোকন, মসিউর রহমান, আসাদুজ্জামান রিপন, নিতাই রায় চৌধুরী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈমুর আলম খন্দকার, আবেদ রাজা, গফুর ভুঁইয়া, এবিএম আশরাফউদ্দিন নিজান, নিলোফার চৌধুরী মনি, শিরিন সুলতানা, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, ২০ দলীয় জোটের রিদওয়ান উল্লাহ শাহিদী, খন্দকার লুৎফর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সাহাদাত হোসেন সেলিম, শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, শামীম বিন সাঈদী, প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন, লোকমান হাকিম, ইমদাদুল হক, ফারুক রহমান, মাহমুদ খান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সদরুল আমিন, সুকোমল বড়ুয়া, সাবেক সচিব জাফর আহমেদ চৌধুরী ইফতারে অংশ নেন।

ডেইলি টাইমস ২৪,বা/খ: 

 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button