আইন ও আদালত

স্বৈরশাসকের জুলুমের প্রতিবাদ করেই যাবো : আদালতে মাহমুদুর রহমান

নিউজ ডেস্ক,(ডেইলি টাইমস ২৪):  দুদক-এর দায়ের করা মামলায় আদালতে ৩৪২ ধারায় বক্তব্য দিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি আদালতে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, নিকৃষ্ট স্বৈরশাসকের অপশাসনের ইতিহাস লিখে জেলে এসেছি। যদি কোনোদিন মুক্তি মেলে তাহলে আজীবন দখলদার স্বৈরশাসকের জুলুমের প্রতিবাদ এভাবেই করে যাবো।
দুদক-এর নোটিশ অনুযায়ী সম্পত্তির হিসাব না দেয়ার অভিযোগে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে শুনানি চলছে ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-এ। বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১২ মে মাহমুদুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থন করে ৩৪২ ধারায় আদালতে এই বক্তব্য রেখেছেন, যা ‘অভিযুক্ত ব্যক্তির পরীক্ষা’ হিসাবে চিহ্নিত।
মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফরহাদ হোসেন (নিয়ন) আদালতে দেয়া তার সার্টিফাইড কপি আদালত থেকে সংগ্রহ করেছেন। যা পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো :
মাননীয় আদালত,
আমি মাহমুদুর রহমান, বয়স ৬১ বৎসর ১০ মাস। পিতা মরহুম আবদুল লতিফ। পেশা: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দৈনিক আমার দেশ, সাবেক নির্বাহি চেয়ারম্যান বিনিয়োগ বোর্ড, সাবেক জ্বালানী উপদেস্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৩৪২ ধারা মোতাবেক আপনার নিকট আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতের কাঠগড়ায় দাড়িয়েছি।
আমি সুস্পস্ট ও দৃঢ়ভাবে এবং যাবতীয় Supporting evidence সহকারে দাবী করছি যে, আমি সম্পূর্ণরুপে নির্দোষ। কোন অপরাধ করে আমি আপনার আদালতে আসামী হইনি। আমি বিবেক দ্বারা পারিচালিত হয়ে বাংলাদেশের এক ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতি, অপশাসন ও জুলুমের খবর আমার সম্পাদিত পত্রিকায় বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করেছি। আমার দেশ পত্রিকার এই বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী ভুমিকা আমার ভিন্ন মতের লেখালেখি, চলমান ভয়ঙ্কর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশের দেশপেমিক জনগনকে উদ্বুদ্ধ করার প্রচেস্টা এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রদত্ব নাগরিকের মত প্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রামের ফলেই এক প্রতিহিংসামূলক, দখলদার সরকার প্রধানের নির্দেশে দুদক বানোয়াট, জালিয়াতিপূর্ণ, অবৈধ, হয়রানিমূলক ও বেআইনি মামলা দায়ের করেছে। আমি বক্তব্যের প্রারম্ভে ফিরিস্তি সহকারে ১৫টি evidence আপনার সদয় অবগতি এবং মামলার Record রুপে আদালতে পেশ করছি। বক্তব্য প্রদানকালে ৩৪২ ধারার Mandatory provision অনুসারে এই দলিল গুলো পর্যায়ক্রমে উপস্থাপিত হবে এবং আমি আশাবাদী যে ধারাবাহিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ শেষে মাননীয় আদালতের কাছে অবশ্যই আমার নির্দাষিতা প্রমানে সক্ষম হবো।
মাননীয় আদালত, এই মামলার বাদী মো: নূর মোহাম্মদ যিনি নিজেও ২০০৮ সালে দুদকে প্রশ্নবোধক পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত। ২০১০ সালের ১৩ জুন সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে গুলশান থানায় আমার বিরুদ্ধে দুদক আইন ও বিধি লঙ্ঘনপূর্বক উপরের নির্দেশ পালনে মামলা দায়ের করেন। সেই সময় অন্য মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে আমি রিমান্ডে ডিবিতে নির্যাতিত হচ্ছিলাম।
২০১০ সালের ২ জুন ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে শত শত দাঙ্গা পুলিশ আদালতের কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই আমার দেশ কার্যালয়ে থেকে আমাকে গ্রেফতার করে। একটি বানোয়াট জিডির ভিত্তিতে আমাকে গ্রেফতারের পর পুলিশ একের পর এক বানোয়াট মামলায় Shown arrest দেখানো শুরু করে। এমনই এক পরিস্থিতিতে আপনারই আদালতে বাদীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কোন অনুসন্ধান ও তদন্ত ব্যতিরেখে, এমনকি মামলা দায়েরের জন্য কমিশনে নথি উপস্থাপন ছাড়াই সরাসরি উপরের নির্দেশে বাদী মো; নূর আহাম্মদ রাতের বেলা গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে। অত্র মামলায় আমাকে Shown arrest দেখানো হয় । ০১-০২-২০১৫ ইংতারিখে এই আদালতে প্রদত্ত বাদীর সাক্ষ্যের Certified copy থেকে সংশ্লিস্ট অংশ উদ্ধৃত করছি:
‘০৬-০৬-২০১০ ইং তারিখে আমি পূর্ববর্তী কর্মকর্তার অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় অনুসন্ধানের জন্য নথি গ্রহন করি। তবে ঐ তারিখে মামলা রুজুর কোন নির্দেশনা ছিল না। ০৬-০৬-২০১0 ইং তারিখে আমি নথি গ্রহন করে নিজে কোন অনুসন্ধান কার্যক্রম গ্রহন করি নাই এবং পরবর্তী নির্দেশ পাওয়ার জন্য নথি আমার কাছেই রেখেছিলাম। অনুসন্ধান নথিটি আমি কমিশনের কাছে উপস্থাপন করি নাই। আমি নিজে অনুসন্ধান নথি উপস্থাপন না করলেও ১৩-০৬-২০১০ তারিখে আমি কমিশন থেকে নির্দেশ পাই মামলা দায়ের করা জন্য। আমি দুদকে কোন অনুসন্ধান রিপোর্ট দাখিল করি নাই।’
(Ref-১; ফিরিস্তি-১)
বাদীর নথি গ্রহনের সময় মামলা রুজুর কোন নির্দেশনা ছিল না। তিনি ০৬-০৬-২০১০ ইং তারিখে অনুসন্ধানের জন্য নথি গ্রহন করেছিলেন। এরপর তিনি নিজে আর কোন অনুসন্ধান কার্যক্রম গ্রহন করেন নাই। মামলা রুজুর নির্দেশনা চেয়ে কমিশনের কাছে নথিও উপস্থান করেন নাই। অথচ রহস্যজনভাবে আমি অন্য বানোয়াট মামলায় বন্দি থাকা অবস্থায় ১৩-০৬-২০১০ ইং তারিখে কমিশন মামলার নির্দেশ দিয়েছে।
কেন উপরের এই অতি উৎসাহ? উপর থেকে মামলা দায়েরের এই নির্দেশ প্রাপ্তির সেই রহস্য উদঘাটনে ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারিখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐ তারিখে দখলদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জ্বালানী উপদেস্টা ড. তৌফিক ই এলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি বহুজাতিক জ্বালানী কোম্পানীর কাছ থেকে ৫ (পাঁচ) মিলিয়ন ডলার ঘুষ গ্রহনের অভিযোগের তদন্ত বিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
(Ref-২; ফিরিস্তি-২)
উক্ত সংবাদকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় আমার এবং আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কেবল অসংখ্য মামলা দায়েরই নয়, সরকারি ক্যাডাররা প্রাণনাশের প্রচেস্টায় আমাদের উপর শারিরীক হামলাও শুরু করে।
ঘুষ গ্রহণে অভিযোগ সম্পর্কিত সংবাদটি সংবাদদাতা, সিনিয়র সাংবাদিক মো. আবদুল্লাহ এয়ারপোর্ট রোডে আক্রান্ত হন।
(Ref-৩; ফিরিস্তি-৩)আমিও এয়ারপোর্ট রোডে এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায় একাধিকবার আক্রান্ত হই। ২০১০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী ইংরেজী দৈনিক New Age পত্রিকায় Amar Desh Acting Editor attacked in city শিরোনামে সংবাদে লেখা হয়: Daily Amar Desh acting editor Mahmudur Rahman came under attack gain by a group of the ruling party at the city’s satrasta crossing Trusday evening.
(Ref-৪; ফিরিস্তি-৪)
এসকল মামলা এবং হামলা যখন চলছিলো সেই একই সময় ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-২ কবির-বিন আনোয়ার সূত্র নং ২২.০৯.১.০.০২৪.২০৩৯ (অংশ-৮)-৩৫ স্মারকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংস্থাপন সচিব বরাবরে নি¤েœাক্ত ডিও পত্র প্রেরণ করেন:-‘বিষয় জ্বালানী উপদেস্টা মাহমুদুর রহমানের বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন প্রসঙ্গে।
(Ref-৫; ফিরিস্তি-৫) পত্রটি উদ্ধৃত করছি :
‘উপযুক্ত বিষয়ে সংযুক্ত একটি গোপনীয় প্রতিবেদনের উদ্ধৃতাংশের আলোকে উল্লেখিত বিষয়ে যথাযথভাবে তদন্তপূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
আবারো সেই উপরের নির্দেশে মাননীয় আদালত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই দুদক আমাকে শায়েস্তা করার প্রজেক্ট হাত দেয়। কথিত স্বাধীন দুদক, আইন বা বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমন নির্দেশ জনসমক্ষে আনতে পারে না। তাদের alibi এর প্রয়োজন হয়। alibi আবিস্কারে এক্ষেত্রে তারা সরাসরি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।
২৭-০১-২০১০ইং তারিখে কথিত এক বেনামী অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। ০৩-০২-২০১০ইং তারিখে মো: রফিকুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক ও সদস্য, অভিযোগ যাচাই- বাছাই কমিটি এবং নাসিম আনোয়ার উপ- পরিচালক ও আহবায়ক যাচাই- বাছাই কমিটি কর্তৃক স্বাক্ষরিত জানুয়ারী/২০১০ প্রতিবেদন অনুসারে প্রমানিত হচ্ছে যে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বেনামী।
(Ref- ৬; ফিরিস্তি-৬)
মাননীয় আদালত, আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বেআইনী, বানোয়াট ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাটির প্রেক্ষাপট ও চিত্র পরিস্কারভাবে উপলব্ধি করার জন্য তারিখগুলো লক্ষ্য করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ও প্রসঙ্গিক। প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ আমার দেশ পত্রিকায় ছাপা হয় ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৯। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-২, কবির-বিন আনোয়ার আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়ে ডিও পত্র পাঠান ১৯ জানুয়ারী, ২০১০। আর দুদক কথিত বেনামী অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় ২৭ জানুয়ারী, ২০১০। কী চমৎকার কাকতালীয় বন্দোবস্ত!!
মাননীয় আদালত, বেনামী অভিযোগে সন্তুষ্ট থাকতে দুদকের সম্ভবতঃ আইনগত সমস্যা ছিল। তাদের অভিযোগকারীর কোন একটা নাম এবং পরিচয় দরকার। অতএব, সেই সমস্যা সমাধানকল্পে দুদক এবার জালিয়াতিকেই মোক্ষম পন্থা হিসাবে বিবেচনা করলো। আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানার একজন শ্রমিকের জাল স্বাক্ষরে আমার বিরুদ্ধে একখানি অভিযোগনামা manufacture করে দুদক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিও পত্রের সঙ্গে আমার সম্পর্কে মিথ্যায় ভরপুর একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত ছিল। সেই প্রতিবেদনের পাশাপাশি আমার দেশ শ্রমিকের নামে জাল অভিযোগনামাটি পড়া হলেই আদালতের সামনে কমিশনের জালিয়াতি অকাট্যভাবে প্রমানিত হবে।
(Ref- ৭; ফিরিস্তি-৭)
আমি আপাতত : দুটি Document এর শুধু প্রথম প্যারাটি একে একে পড়ছি। দুটোই কী একই কারখানার Production নয় মাননীয় আদালত?
আমার দেশ পত্রিকার কথিত শ্রমিক আবুল হোসেনের নামে প্রস্তুত জাল চিঠির বিষয়বস্তু নি¤œরূপঃ
‘ দূর্নীতিবাজ মাহমুদুর রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা থেকে পরিত্রান লাভের আকুল আবেদন।’
কি আশ্চর্য্য, চিঠির কোথাও আমার কথিত স্বেচ্ছাচারিতার কোন বিবরন নেই। একজন শ্রমিকের সাধারনভাবে মালিকের বিরুদ্ধে বেতন,বোনাস,ওভারটাইম, ছুটি নিদেন পক্ষে দূর্ব্যবহার সম্পর্কিত যে সকল অভিযোগ থাকার কথা চিঠিতে তার কিছুই নেই। আমার দেশ পত্রিকার মালিকানা আমি ২০০৮ সালে গ্রহন করি। কথিত শ্রমিকের যত অভিযোগ তার সাথে আমার মালিক- শ্রমিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার অনেক আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারী দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে যে ঘটনার সাথে শ্রমিকের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই। শ্রমিক নাকি চাইলো আমার স্বেচ্ছাচারিতা থেকে পরিত্রান। চিঠির কোথায় সেই পরিত্রানের আবেদন? সে কি সরকারকে আমার দেশের মালিকানা নিতে বলছে? নাকি অন্য কোন মালিকের কাছে আমাকে পত্রিকা বিক্রি করতে বাধ্য করতে বলছে? নাকি সে দুদকের কাছে আবেদন করছে যাতে কমিশন আমার উপর স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে? না, সেই কথিত শ্রমিক এসব কিছুই চায়নি। বিজ্ঞ শ্রমিক শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদন হুবহু কপি করে দুদকে পাঠিয়েছে। অথবা দুদক কার্যালয়ে বসেই কপির কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। দুদকের জালিয়াতিটাও একেবারেই কাঁচা কাজ হয়েছে মাননীয় আদালত। অপরাধীরা হয়তো এইভাবেই অপরাধের প্রমান রেখে যায়।
দুদক আইন প্রনয়নকালে আইন প্রনেতারা অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্যে কমিশন এবং কর্মকর্তাদের দায়মুক্তির বিধান রেখেছিলেন।
দুদক আইন ২০০৪ এর ৩১ অনুচ্ছেদে নিন্মোক্ত প্রক্রিয়ায় কমিশনকে দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে ঃ
(Ref- ৮; ফিরিস্তি-৮)
‘সরল বিশ্বাসে কৃত কার্যক্রম রক্ষণ।- এই আইন বা তদধীন প্রনীত বিধি বা আদেশের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যাক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভবনা থাকিলে, তজ্জন কমিশন, কোন কমিশনার অথবা কমিশনের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা গ্রহন করা যাইবে না।’
আমার বিরুদ্ধে জাল অভিযোগনামা তৈরীর সময় দুদক কর্মকর্তারা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন যে দুদক আইনে সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকেই কেবল দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। জালিয়াতির মতো ফৌজদারী অপরাধ নিশ্চয়ই সরল বিশ্বাসের সংজ্ঞায় পড়বে না। বাংলাদেশ পেনাল কোডের ১৯২ ধারায় Fabricating false Evidence এর যে ব্যাখ্যা রয়েছে সেখান থেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানোতে যারা এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে তাদের আশা করি ছাড় পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এই মামলা প্রক্রিয়ায় তিন অভিযোগকারীর সন্ধান মিলছে। এক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুই দুদকের নথিতে কথিত বেনামী এবং তিন দুদক কারখানায় জন্ম লাভকারী জাল শ্রমিক আবুল হোসেন।
বাদী মোঃ নূর আহাম্মদ তার সাক্ষ্যে একাধিকবার বলেছেন, তিনি কোন অভিযোগকারীকেই চেনেন না, কোন অভিযোগকারী তার কাছে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি এবং তিনি কোন অভিযোগকারীকে খোঁজেন নাই বা সাক্ষ্য গ্রহন করেন নাই। সেক্ষেত্রে, কেবল প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেই দুদক দেশের একজন নাগরিককে কী এই ভাবে হয়রানি করতে পারে? দুদক আইন ও বিধির প্রাসঙ্গিক ধারা ও অনুচ্ছেদ এই ক্ষেত্রে অবশ্যই আমলে নিতে হবে।
দুদক আইন ২০০৪ ( ২০০৪ সনের ৫ নম্বর আইন) এর ১৭(গ) এবং ২৬ নম্বর ধারা এই মামলায় প্রাসঙ্গিক ঃ
(Ref – ৯; ফিরিস্তি-৮)
১৭(গ)। দুর্নীতি সম্পর্কিত কোন অভিযোগ স্বউদ্যেগে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান;
২৬। সহায় সম্পত্তির ঘোষনা। কমিশন কোন তথ্যের ভিত্তিতে এবং উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালনার পর যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে কোন ব্যক্তি, বৈধ উৎসের সহিত অসঙ্গতিপূর্ন সম্পত্তির দখলে রহিয়াছেন বা মালিকানা অর্জন করিয়াছেন, তাহা হইলে কমিশন লিখিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে দায়- দায়ির্তে¡র বিবরন দাখিলসহ উক্ত আদেশে নির্ধারিত অন্য যে কোন তথ্য দাখিলের নির্দেশ দিতে পারিবে।
দুদক বিধিমালা ২০০৭ এর ৩(১) এবং ১৭(১) অনুচ্ছেদ একইভাবে অত্র মামলায় প্রসঙ্গিক ঃ
(Ref- ১০; ফিরিস্তি-৯)
৩ (১)- কমিশন ও উহার অধ:স্তন কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের কোন ব্যক্তি আইনের তফছিলে উল্লেখিত অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনের জেলা কার্যালয় বা বিভাগীয় কার্যালয় বা প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করিতে পারিবে।
১৭ (১)- আইনের ধারা ২৬ অনুযায়ী সহায়- সম্পত্তি ঘোষনা বিষয়ক পদ্ধতি- কমিশন কোন তথ্যের ভিত্তিতে এবং উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালার পর যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে অন্য ব্যক্তি, বৈধ উৎসের সহিত অসঙ্গতিপূর্ন সম্পত্তি দখলে রাখিয়াছেন বা মালিকানা অর্জন করিয়াছেন তাহা হইলে কমিশন বা কমিশন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনারের অনুমোদন ক্রমে উপ- পরিচালক পদমর্যাদার নিন্মে নহেন এমন একজন কর্মকর্তা নিজ স্বাক্ষরে উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে তফসিলের ফরম- ৫ এ বর্নিত ছক অনুযায়ী তাহার সম্পদ ও দায়দেনার হিসাব সরবরাহের আদেশ জারি করিতে পারিবেন।
মাননীয় আদালত,
আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ manufacture, অনুসন্ধান, সম্পদের হিসাব দেয়ার নোটিশ প্রেরণ ও মামলা দায়ের প্রক্রিয়ায় কমিশন জালিয়াতিসহ দুদক আইন ও বিধি নির্বিচারে লঙ্ঘন করেছে। দুদক আইন ও বিধির Spirit সুস্পষ্ট। দুদক উপরের নির্দেশে এমনকি সেই উপর প্রধানমন্ত্রী হলেও বাংলাদেশের কোন নাগরিকের বিরুদ্ধেই এভাবে হয়রানিমূলক ও অবৈধ অনুসন্ধান পরিচালনা অথবা তাকে সম্পদের নোটিশ পাঠাতে পারে না। দুদক আইনের ১৭(গ) ধারায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি অথবা সেই ব্যক্তির পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তির অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিটি কে ? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক কবির বিন আনোয়ার কি সেই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি? নাকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি এবং পরিচালক কবির বিন আনোয়ার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অভিযোগ দায়ের করেছেন?
অথবা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি একজন বেনামী? নাকি দুদক আমার দেশ পত্রিকার জাল শ্রমিক কথিত আবুল হোসেনকেই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি রূপে হাজির করেছে? বেনামী কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন না। আর আবুল হোসেন যে দুদকের জালিয়াতির ফসল সেটি ইতোমধ্যে প্রমান করেছি। উপরোক্ত বিষয়ে মামলার বাদী মোঃ নূর আহাম্মদ বিভিন্ন দিনে জবানবন্দি প্রদান ও জেরার জবাবে নিন্মোক্ত বক্তব্য দিয়েছেন ঃ
‘অনুসন্ধান নথিটি দুদকের স্বউদ্যোগে কিংবা কারও অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছিল কি না তা এই মুহুর্তে আমার স্মরন নাই। ’
(মোঃ নূর আহাম্মদ,২২-১-২০১৫) (Ref- ১১; ফিরিস্তি-১)
‘ আসামী মাহমুদুর রহমানের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানের জন্য কোথা থেকে বা কোন কোন এজেন্সী থেকে চিঠিপত্র বা অভিযোগ ছিল তা অনুসন্ধান নথি না দেখে বলতে পারবো না।’
(মোঃ নূর আহাম্মদ,০১-০২-২০১৫) (Ref- ১২; ফিরিস্তি-১)
‘ আসামী মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ থাকার বিষয়ে কেউ কোন সময় কোন প্রকার অভিযোগ করেছিল কি না তা আমার জানা নাই এবং আমার অনুসন্ধান ও তদন্তকালেও কেউ আমার কাছে ঐ রূপ কোন অভিযোগ দাখিল করে নাই। আমার অনুসন্ধান বা তদন্তকালে অভিযোগকারীকে খুঁজি নাই।’
(মোঃ নূর আহাম্মদ,০১-০৪-২০১৫) (Ref- ১৩; ফিরিস্তি-১)
মামলার প্রথম আইও মোঃ জহিরুল হুদা যার কাছ থেকে বাদী মোঃ নূর আহাম্মদ অসমাপ্ত অনুসন্ধানের দায়িত্বভার গ্রহন করেছিলেন তাকে prosecution রহস্যজনকভাবে আদালতে সাক্ষ্যদানের জন্য উপস্থাপন থেকে বিরত থেকেছে। অথচ মামলার চার্জসীটে তাকে গুরুত্বপূর্ন ২ নম্বর স্বাক্ষী রূপে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।
(Ref- ১৫; ফিরিস্তি-১)
মাননীয় আদালত,
আমার দাখিলকৃত Evidence যেগুলো সম্পর্কে এ পর্যন্ত আমি যে ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং বাদীর সাক্ষ্যে আশা করি, প্রমানিত হয়েছে যে দুদকের কাছে আমার জ্ঞাত আয় বহিভূর্ত কোন রকম সম্পদের তথ্য নেই এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ব্যতীত আমার বিরুদ্ধে অন্য কোন অভিযোগকারীরও অস্তিত্ব নেই। দুদক প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাপূরণে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে, এবং By fabficating false evidence সম্পূর্ন অবৈধভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরম্ভ করে। এর মাধ্যমে কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ দুদক আইন ভঙ্গের পাশাপাশি Crpc’ র ১৯২ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারী অপরাধ সংঘটিত করেছেন। অতএব, দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান সম্পূর্ন অবৈধভাবে শুরু হওয়ায় মামলা খারিজযোগ্য।
এবার সম্পদের নোটিশ প্রদান প্রসঙ্গ। দুদক আইনের তোয়াক্কা না করে আমার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরম্ভের পর সেটি চলমান অবস্থায় একই বেআইনী প্রক্রিয়ায় কমিশন আমার নামে সহায় সম্পত্তি ঘোষনার নোটিশও প্রেরন করেছে। দুদক আইন ২০০৪ এবং বিধি ২০০৭ অনুযায়ী তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালনার পর বৈধ উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ন সম্পত্তির বিষয়ে সন্তুষ্ট হলেই কেবল দুদক এই নোটিশ প্রেরন করতে পারে। কমিশনের তথ্য প্রাপ্তি বিষয়ক জালিয়াতির সকল প্রমানাদি আমি ইতোমধ্যেই মাননীয় আদালতের কাছে পেশ করেছি। আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান সমাপ্ত হলে তদন্ত পরিচালানর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার ফলাফল কি ছিল? অনুসন্ধান কী সমাপ্ত হয়েছিল? তদন্ত কী আদৌ শুরু হয়েছিল? আমার বৈধ উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ন কোন সম্পদের অস্তিত্ব দুদক কী পেয়েছে? এই প্রসঙ্গে বাদী আপনার আদালতে বিভিন্ন সময়ে নি¤েœাক্ত বক্তব্য দিয়েছেন ঃ
‘০৬/০৬/২০১০ইং তারিখে এই মামলার আসামীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান নথিটি আমার নামে হাওলা করার পূর্বেই উক্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান ছিল।.
অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু ছিল আসামী জনাব মাহমুদুর রহমানের অবৈধ ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ থাকার অভিযোগ অনুসন্ধান করে দেখা।
০৬/০৬/১০ইং তারিখে আমি অনুসন্ধান নথি পাওয়ার পর এবং ১৩-৬-২০১০ইং তারিখে এই মামলা দায়েরের পূর্বে এই বিষয়ে আমি কোন অনুসন্ধান প্রতিবেদন দুদকে দাখিল করিনি।
(মোঃ নূর আহাম্মদ; ২২/০১/২০১৫) (Ref- ১৬; ফিরিস্তি-১)
‘০৬/০৬/২০১০ইং তারিখে আমি পূর্ববর্তী কর্মকর্তার অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় অনুসন্ধানের জন্য নথি গ্রহণ করি তবে ঐ তারিখে মামলা রুজুর কোন নির্দেশনা ছিল না। ০৬/০৬/২০১০ইং তারিখে আমি নথি গ্রহন করে আমি নিজে কোন অনুসন্ধান কার্যক্রম গ্রহন করি নাই। আমি দুদকে কোন অনুসন্ধান রির্পোট দাখিল করি নাই।’
(মোঃ নূর আহাম্মদ; ০১/০২/২০১৫) (Ref- ১৭; ফিরিস্তি-১)
‘আমি অনুসন্ধানকালে বা তদন্তকালে মাহমুদুর রহমান সাহেবের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাইনি কারন আমি ঐ বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত করিনি। মাহমুদুর রহমান সাহেবের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান এখনও চলমান রয়েছে।
কি কি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া গিয়েছিল তা বলতে পারবো না।
মাহমুদুর রহমান সাহেবের কি কি সম্পদ ছিল বা আছে তা আমার জানা নাই।
(মোঃ নূর আহাম্মদ; ০১/০৪/২০১৫) (Ref- ১৮; ফিরিস্তি-১)
বাদীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মোঃ নূর আহাম্মদ আমার বিরুদ্ধে একটি চলমান অনুসন্ধানের নথি অনুসন্ধানের জন্য গ্রহন করেন, নথি গ্রহন করার সময় কোন মামলা রুজুর নির্দেশনা ছিল না, তিনি কোন অনুসন্ধান নিজে করেন নাই, কোন অনুসন্ধান প্রতিবেদন দুদকে দাখিল করেন নাই, আমার কি কি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে তিনি জানেন না, এমনকি আমার কি কি সম্পদ ছিল বা আছে তাও তিনি জানেন না। তিনি আরও বলেছেন ২০১০ সালে শুরু হওয়া অনুসন্ধান ২০১৫ সালেও চলমান আছে। বাদী এবং দ্বিতীয় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো: নূর আহাম্মদ যেখানে পরিস্কারভাবে বলেছেন যে, নথি গ্রহনের পর তিনি নিজে আর কোন অনুসন্ধান করেন নাই সেক্ষেত্রে এখনও অনুসন্ধান কার্যক্রম কে চালিয়ে যাচ্ছে? বাদী যে সকল তথ্য জানেন না বলেছেন সে সব তথ্য কী মামলার প্রথম আইও মোহাম্মদ জহিরুল হুদার কাছে আছে? কিন্তু, তিনি তো মামলার ২ নম্বর সাক্ষী হওয়া সত্ত্বেও এই মামলায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সম্পৃক্ততা প্রমানিত হওয়ার আশংকায় স্বাক্ষ্য দিতেই আসেন নাই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-২ কবির বিন আনোয়ারকেও সাক্ষী করা হয় নাই। দুদকের মিথ্যা, সাজানো, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা বালির প্রাসাদের মতোই ভেঙে পড়েছে।
মাননীয় আদালত,
দুদকের কাছে আমার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের কোন তথ্য থাকার প্রশ্নই ওঠে না কারন দীর্ঘ কর্মজীবন সম্পূর্ন সততার সঙ্গে কাটানোর সর্বাতœক চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যলায়ের নির্দেশ মোতাবেক দুদক আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্রের নামে জাল evidence তৈরি করেছে, হয়রানিমূলক ও অবৈধ অনুসন্ধান অসমাপ্ত ও পাঁচ বছর ধরে নাকি চলমান রেখেছে, দুদক আইনে বর্নিত প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালনা করেনি বা করতে সক্ষম হয়নি, শেষ পর্যন্ত আমার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কোন সম্পদ খুঁজে না পেয়ে দুদক আইন ও বিধির কোনরূপ পরোয়া না করে হয়রানি অব্যাহত রাখার অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তির হিসাব প্রদানের নোটিশ বেআইনীভাবে পাঠিয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতারও বোধহয় একটা সীমা থাকা দরকার। আইনের আলোকে এই নোটিশ প্রেয়নও সম্পূর্ন অবৈধ, অতএব মামলা খরিজযোগ্য।
আমার বিরুদ্ধে দুদকের হয়রানিমূলক সকল অবৈধ কার্যক্রমের একমাত্র উৎস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিও পত্র নং- ২২.০৯.১.০.০.২৪.২০৩৯(অংশ-৮)-৩৫ তারিখ ১৯-১-২০১০ এবং সেই পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত আমার সম্পর্কে মিথ্যা,বানোয়াট,বিদ্বেষমূলক, অর্ধসত্য তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনকে আমলে নিয়েই মামলার প্রথম আইও মোঃ জহিরুল হুদার স্বাক্ষরে স্বারক নং-৪২৫১ তারিখ ১০/৩/২০১০ পত্রটি আমাকে দুদক প্রেরন করে।
(Ref- ১৯; ফিরিস্তি-১১)
বাদী মোঃ নূর আহাম্মদ এই পত্রটি সম্পর্কে আদালতে প্রথম দিনের জবানবন্দিতে অসম্পূর্ন ও অর্ধসত্য বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি ঐ দিন বলেন,
‘উল্লেখ্য যে, মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলাকালে তার বক্তব্য শ্রবনের জন্য নোটিশ ইস্যু করা হয়। উক্ত নোটিশের বিরুদ্ধে তিনি বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ, ১ম আদালত, ঢাকাতে টি.এস. ২৫০/২০১০ মোকদ্দমা দায়ের করেন’। (মোঃ নূর আহাম্মদ, ২৫/৯/২০১৪)
(Ref- ২০; ফিরিস্তি-১)
প্রকৃত এবং সম্পূর্ন তথ্য হলো দুদকের উপরোক্ত অভিযোগনামাকে কেন্দ্র করে আমি মামলা দায়ের করলেও যথাযথভাবে সেই পত্রের জবাব দুদক নির্ধারিত ৭ দিনের মধ্যেই ১৫/৩/২০১০ তারিখে মোঃ জহিরুল হুদার বরাবরে পাঠিয়েছিলাম এবং তিনি সেটি গ্রহন করেছিলেন। দুদকের নোটিশ এবং আমার জবাব যথাক্রমে ১১ এবং ১২ নম্বর evidence রূপে আদালতে পেশ করেছি। পূর্বেই উল্লেখ করেছি মোঃ জহিরুল হুদার ওই পত্রের উৎস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদন। মো: জহিরুল হুদাকে সাক্ষ্যদানের জন্য আদালতে উপস্থাপন করলে আমরা এ বিষয়ে হয়তো বিশদ তথ্য পেতাম। জনাব মো: জহিরুল হুদার চিঠিতে বর্নিত আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট ও উদ্ভট অভিযোগের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিও পত্রের সংযোগ প্রমান করার জন্য আমি এখানে মাত্র দুটি বিষয় উত্থাপন করবো।
মো: জহিরুল হুদার পত্রে আমার বিরুদ্ধে ঋন-খেলাপী হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব কাটিয়ে ঋন রিসিডিউলিং এর অভিযোগ আনা হয়েছে। মাননীয় আদালত, আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে আমি কখনো ঋন খেলাপী হই নাই। কাজেই আমার প্রভাব খাটিয়ে ঋন রিসিডিউলিং এর প্রয়োজনই পড়ে না। এখন প্রশ্ন হলো দুদককে এই সর্বৈব মিথ্যা তথ্য কে সরবরাহ করলো? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিও পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার গ (২) অনুচ্ছেদ উদ্বৃত করলেই ঐ প্রশ্নের জবাব মিলবে। সেখানে লেখা আছে,
‘উক্ত সময়কালে তিনি ক্লাসিক মেলামাইন ইন্ডাস্ট্রিজের অনুকূলে প্রদেয় জনতা ব্যাংকের খেলাপী ঋন পুন:তফসিলকরনে চাপ সৃষ্টি করেন। উল্লেখ্য, ক্লাসিক মেলামাইন ইন্ডাস্ট্রিজ তার ও তার স্ত্রী মিসেস ফিরোজা মাহমুদের মালিকানাধীন।’
(Ref – ২১; ফিরিস্তি-৫)
মাননীয় আদালত, প্রায় এক যুগ আগে ক্লাসিক মেলামাইন অবশ্যই আমার পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ছিল। সেই সময়ই প্রতিষ্ঠানটি বিক্রয় করে দেয়া হয়। তবে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অভিযোগ সবৈব মিথ্যা প্রমানে এটা হয়তো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ন তথ্য নয়। ক্লাসিক মেলামাইন কখনই ঋনখেলাপী প্রতিষ্ঠান ছিলো না। আমার সেই দাবীও হয়তো sufficiently গুরুত্বপূর্ন বিবেচিত নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ন ও বিস্ময়কর তথ্য হলো, ক্লাসিক মেলামাইন কেন, আমার বা আমার পরিবারের কোন সদস্যের ব্যক্তিগত অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জনতা ব্যাংকে কোনদিনই ছিল না, আজও নেই। যেখানে ব্যাংক হিসাবই নেই সেখানে ঋনই বা আসবে কোথা থেকে, আর সেটা খেলাপীই বা হবে কেমন করে? আর জনতা ব্যাংকে আমার চাপ সৃষ্টি করার সুযোগই বা মিলবে কি করে? এভাবেই মিথ্যার মুখোশ উম্মেচিত হয়। মো: জহিরুল হুদাকে স্বাক্ষী রূপে পাওয়া গেলে এই প্রসঙ্গে তাকে কিছু প্রশ্ন করার ছিল। সেই সুযোগ prosecution আমাদেরকে দেয়নি। তাই মাননীয় আদালতের মাধ্যমে দুদকের কাছে আমি তিনটি প্রশ্ন করতে চাই। প্রথম প্রশ্ন, ঋন পুন:তফসিলকরন দুদকের কোন সিডিউল অনুযায়ী দুর্নীতির মধ্যে পড়ে? দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে কত প্রকৃত বিশাল আকারের ঋন খেলাপী প্রতিষ্ঠান সমূহ রয়েছে, তাদের ঋন রিসিডিউলিংও হচ্ছে,দুদক কী তাদেরকে কখনও এধরনের নোটিশ পাঠিয়েছে? শেষ প্রশ্ন, ক্লাসিক মেলামাইন জনতা ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে খেলাপী হয়েছে এমন কোন চিঠি কী দুদক ব্যাংক থেকে পেয়েছে?
মোহাম্মদ জহিরুল হুদা স্বাক্ষরিত নোটিশের ৭ নম্বর অভিযোগ হলো,
‘ ঢাকাস্থ উত্তরা মডেল টাউন এলাকায় সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে ষড়যন্ত্র বৈঠক করাসহ অন্যান্য বহুবিধ অভিযোগ।’
একই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনে ‘ক’ অনুচ্ছেদ উদ্বৃত করছি:
‘ অবসরপ্রাপ্ত ও সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে:
গত ২৪ নভেম্বর ২০০৬ তারিখে মাহমুদুর রহমানের মালিকানাধীন উত্তরায় অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর্টিসান সিরামিক ভবনে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তাদের এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকটি নিয়ে তৎকালীন সময়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেলেও অদ্যাবধি কোনরূপ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ’
অবশেষে, এই আইনানুরাগ ব্যবস্থা গ্রহনের মহান দায়িত্ব দুদক কী নিজ স্কন্ধে তুলে নিয়েছে? তারা এই দায়িত্ব নিলে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু, কোন আইনবলে ও এখতিয়ারে একটি পরিষ্কার রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ইস্যুতে দুদক সম্পৃক্ত হয়েছে সেটা জানার অধিকার রাষ্ট্রের একজন সাধারন নাগরিক হিসাবে আমার থাকার কথা। আসল কথা হলো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদন হুবহু অনুসরণ করতে গিয়েই মো: জহিরুল হুদা অভিযোগপত্র তৈরীর সময় দুদক আইন ও তফসিলভূক্ত অপরাধের সংজ্ঞা গুলিয়ে ফেলেছেন। অপরাধ বিজ্ঞানে নাকি বলে একজন খুনী কোন না কোনভাবে খুনের চিহৃ রেখে যায়। আমার বিরুদ্ধে এই বানোয়াট এবং অবৈধ মামলা দায়ের প্রক্রিয়ায় দুদক বেআইনী কার্যকলাপের প্রমান পদে পদে রেখে গেছে। উদাহরন স্বরূপ কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা আমার দেশ ছাপাখানার শ্রমিকের নাম ব্যবহার করে যে জাল চিঠি বানিয়েছেন সেখানেও উপরোক্ত উভয় মিথ্যা অভিযোগ অভিন্নভাবেই রয়েছে। চিঠির প্রথম পাতার শেষ অনুচ্ছেদ নিম্নরূপ:
‘ অবসরপ্রাপ্ত ও সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে ষড়যন্ত্র বৈঠক:
২৪ নভেম্বর ২০০৬ তারিখে তিনি কতিপয় উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে উত্তরায় তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর্টিসান ভবনে এক গোপন ও ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠকে অংশগ্রহন করেন যা তৎকালীন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদন এবং দুদকের জাল চিঠিতে একই রকম ভুল। আর্টিসান সিরামিক ভবন বা আর্টিসান ভবন নামে কোন ভবন উত্তরায় কখনো ছিলো না। একটি ভাড়া করা বিল্ডিং এ আমার অফিস ছিল। জনতা ব্যাংকের ভূতুরে ঋন নিয়েও আমার দেশ এর কথিত শ্রমিকের অভিন্ন অভিযোগ। জাল চিঠিতে লেখা হয়েছে,
‘ঋন খেলাপী। তার মালিকানাধীন ক্লাসিক মেলামাইন ইন্ডাস্ট্রিজের অনুকূলে প্রদেয় জনতা ব্যাংকের খেলাপী ঋণ রিসিডিউলিং এর জন্য তার বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া যায়।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনেও জনতা ব্যাংকে ঋন, জাল চিঠিতেও সেই জনতা ব্যাংক। মাছি মারা কেরানীদের দশা এমনটাই হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনের সবৈব মিথ্যা তথ্যে হাত দিতেও দুদক কর্মকর্তাদের সাহস হয়নি।
মাননীয় আদালত.
আশা করি প্রমান করতে সক্ষম হয়েছি যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থের লক্ষ্যে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশক্রমেই দুদক আইন ও বিধি লঙ্ঘন পূর্বক হয়রানির উদ্দেশ্যেই আমাকে সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার বেআইনী নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশ প্রদান প্রক্রিয়া এবং মামলা দায়ের কালেও আইনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন লক্ষনীয়। বেপরোয়া দুদক কর্মকর্তাগন বেআইনী নোটিশ ঠিকানাবিহীন অবস্থায় পাঠাতেও কুন্ঠিত হয়নি। ডাক বিভাগের যে ব্যক্তি সম্পদের নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে দাবী করেছেন তিনি এই আদালতেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, তিনি ঐ সময় ডাক বিভাগের কর্মচারীই ছিলেন না। ২৪-০২-২০১৫ইং তারিখে প্রদত্ত সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন:
‘১৮-০৪-২০১০ইং তারিখে আমি প্যাকার পদের একজন ক্যান্ডিডেট ছিলাম।’ (মো: নুরুল আমিন, ২৪-০২-২০১৫)
(Ref- ২২; ফিরিস্তি-১)
উপরোক্ত বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে মামলার বাদী মো: নূর আহাম্মদ ০১-০৪-২০১৫ইং তারিখে বলেছেন:
‘ সাক্ষী নুরুল আমিন তার পদমর্যাদা লিখেছে প্যাকার (ক্যান্ডিডেট)। ক্যান্ডিডেট কোন পদ নয় এবং ক্যান্ডিডেট কোন পদের চাকুরী প্রার্থী একথা সঠিক।’
বহিরাগত, এখতিয়ারবহিভূত একজন ব্যক্তিকে দিয়ে কোন সরকারী চিঠি প্রেরিত হলে সেটি আইনসিদ্ধ হবে কিনা তা মাননীয় আদালতই নির্ধারন করবেন।
অনুসন্ধান এবং সম্পদের নোটিশ প্রদান উভয়ই অবৈধ প্রমাণের পর এবার উপরের নির্দেশে মামলা দায়ের প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য। মামলা দায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে বাদী মো: নূর আহাম্মদ চার ভিন্ন তারিখে আদালতে নিন্মোক্ত তথ্য দিয়েছেন:
‘মহামান্য আদালত গত ২৭-০৪-২০১০ তারিখ দুদকের বিরুদ্ধে স্থতিগাদেশ প্রদান করে। স্থতিগাদেশের বিরুদ্ধে দুদক কর্তৃক মহামান্য আদালতে আপীল বিভাগের চেম্বার মাননীয় বিচারপতির নিকট ৩৩০/১০ Leave to Appeal দায়ের করা হয়। মাননীয় চেম্বার জজ ০৫-০৫-২০১০ তাং আদেশে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ ১০ দিনের স্থগিত করেন ও নিয়মিত আপীল দায়েরের নির্দেশ দেন। এমতে Regular Leave to Appeal দায়ের করা হয়। তৎপরও ১৩-০৬-২০১০ইং তাং পর্যন্ত আসামী সম্পদ বিবরনী দাখিল না করায় এই মামলা।’
(মো: নূর আহাম্মদ, ২ ৯-০৯-২০১৪) (Ref- ২৩; ফিরিস্তি-১)
‘ ০৬-০৬-২০১০ ইং তারিখে আমি পূর্ববর্তী কর্মকর্তার অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় অনুসন্ধানের জন্য নথি গ্রহন করি তবে ঐ তারিখে মামলা রুজুর কোন নির্দেশনা ছিল না।
অনুসন্ধান নথিটি আমি কমিশনের কাছে উপস্থাপন করি নাই। আমি নিজে অনুসন্ধান নথি উপস্থাপন না করলেও ১৩-০৬-২০১০ইং তারিখে আমি কমিশন থেকে নির্দেশ পাই মামলা দায়ের করার জন্য। পূর্বের অনুসন্ধানের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলা দায়েরের অনুমোদন বা নির্দেশ পাই।
১৯-০৪-২০১০ইং তারিখে সম্পদ বিবরনী দাখিলের নোটিশ জারী করা হয় এবং ২৫-০৪-২০১০ইং তারিখে সম্পদ বিবরনী দাখিলের নির্ধারিত ৭(সাত) দিন মেয়াদ শেষ হয়। এই নোটিশের কার্যকারিতা মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ স্থগিত করেছিলেন। ১৯-০৪-২০১০ইং তারিখে জারীকৃত নোটিশের মেয়াদ কাল শেষ হওয়ার পর আমি অনুসন্ধানের জন্য নথি পেয়ে এই আসামীকে তার সম্পদ বিবরনী দাখিলের জন্য আমি কোন নোটিশ প্রেরণ বা জারী করি নাই। আমি এই মামলা দায়েরের পূর্বে আসামী মাহমুদুর রহমানকে তার বক্তব্য প্রদানের জন্য ডাকি নাই।’
(মো:নূর আহাম্মদ, ০১-০২-২০১৪) (Ref- ২৪; ফিরিস্তি-১)
‘ এই মামলায় চার্জশীট দাখিলের অনুমোদন জ্ঞাপন প্রক্রিয়ায় আমার কোন ভূমিকা ছিল না।
চার্জশীট দাখিলের মঞ্জুরী জ্ঞাপনের প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়েই কমিশন আমার ব্যাখ্যা চেয়ে আমাকে তলব করেনি।’
(মো: নূর আহাম্মদ, ০৩-০৩-২০১৫) (Ref- ২৫; ফিরিস্তি-১)
‘নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়া মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে মাননীয় আপিল বিভাগে লীভ টু আপীল দায়ের করা হয়েছিল তবে লীভ টু আপীলের ফলাফল আমার জানা নাই।’
(মো:নূর আহাম্মদ, ০১-০৪-২০১৪) (Ref -২৬; ফিরিস্তি-১)
মাননীয় আদালত, বাদীর স্বাক্ষ্যেই দুদকের হয়রানিমূলক অসৎ উদ্দেশ্য এবং আইনের তোয়াক্কা না করে আমার বিরুদ্ধে উপরের নির্দেশে অবৈধভাবে মামলা দায়েরের বিষয় প্রমানিত হয়েছে। তার স্বাক্ষ্যের অসঙ্গতি এবং অসম্পূর্ন অংশটুকু আমি শুধু সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
(১) বাদী লীভ টু আপীল দায়ের করার তথ্য দিলেও দাবী করেছেন যে তিনি ফলাফল জানেন না। একজন আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট তৈরী, সেটা থানা ও আদালতে দাখিল এবং মামলা দায়েরের আগে পর্যন্ত মামলার বাদী লীভ টু আপীলের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেবেন না এটা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি সত্য গোপনের উদ্দেশ্যেই আদালতে এই দাবী করেছেন। প্রকৃত তথ্য হলো বাদী কর্তৃক আমার বিরুদ্ধে ১৩-০৬-২০১০ইং তারিখে মামলা দায়েরের সময় লীভ টু আপীল সুপ্রীম কোর্টের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে শুনানীর অপেক্ষায় ছিল। দুদক তাদেরই দায়েরকৃত লীভ টু আপীল সেখানে অনিস্পন্ন রেখেই আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল।
(২) বাদী আমার বিরুদ্ধে অসমাপ্ত অনুসন্ধান অব্যাহত রাখার জন্য পূর্ববর্তী কর্মকর্তা নিকট হতে নথি গ্রহণ করেছিলেন এবং তার নথি গ্রহণের সময় মামলা রুজুর কোন নির্দেশনা ছিল না। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তিনি নিজে আর কোন অনুসন্ধানও করেননি এবং কমিশনে কোন রিপোর্টও দাখিল করেনি। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী অনুসন্ধান এখনও চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় পূর্বের অনুসন্ধানের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলা দায়েরের যে পরস্পরবিরোধী দাবী তিনি জেরার জবাবদান কালে করেছেন সেটি সত্য হতে পারে না। বাদীর জবানবন্দিতেই স্বীকারোক্তি রয়েছে যে, উপরের নির্দেশ পালনেই আইনবহির্ভূতভাবে আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখানে দুদকের আইন ও বিধির পরোয়া করা হয় নাই।
(৩) প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আক্রোশের ফলেই যে দুদক আমার বিরুদ্ধে যাবতীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এই সত্যটি ঢাকতেই কমিশন এ পর্যন্ত একের পর মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।
মাননীয় আদালত,
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশেই আমার কথিত জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের কোন তথ্য প্রাপ্তি ব্যতিরেকে এবং কোন তথ্য দাতার অস্তিত্ব ছাড়াই বেআইনীভাবে দুদক আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক অনুসন্ধান আরম্ভ করেছে, সেই অনুসন্ধান অসমাপ্ত রেখেই দুদক আইন উপেক্ষা করে সম্পদের হিসাবের অবৈধ নোটিশ জারী করেছে, সেই নোটিশ হাইকোর্ট স্থগিত করার পর আপীল বিভাগে দুদকের লীভ টু আপীল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় উপরের নির্দেশে আমার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে কমিশন আইন কেবল অমান্য করেই সন্তষ্ট থাকে নি, বেপরোয়াভাবে False Document Fabrication এর মতো গুরুতর ফৌজদারী অপরাধও করতে দ্বিধা করেনি। প্রধানমন্ত্রী তার অসীম ক্ষমতা প্রয়োগ করে দুদকের সকল অপকর্মকে Indemnity দেবেন এই আস্থা থেকেই কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা এভাবে অন্যায় করে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছেন। মামলার বাদী মো: নূর আহাম্মদ আদালতে সত্য বলার শপথ গ্রহন সত্ত্বেও নিজের চাকুরী সংক্রান্ত অসত্য, খন্ডিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অবলীলায় দিয়ে গেছেন। তিনি False statment on oath এর অধীন ফৌজদারী অপরাধ করা নিয়েও কোন দূর্ভাবনা করেননি। ২২-০১-২০১৫ইং তারিখে দুদকে তার চাকুরী বিষয়ে মো: নূর আহাম্মদ নিন্মোক্ত বক্তব্য দিয়েছিলেন:
‘ দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হওয়ার সময় আমি কোন সময়ই উদ্বৃত্ত কর্মকর্তা ছিলাম না। দুদক গঠিত হওয়ার পর আমি দুদকে আত্মীকরনের জন্য মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে রীট দায়ের করেছিলাম তবে উক্ত রীট পিটিশনের নম্বর মনে নাই। উক্ত রীট পিটিশন শুনানীর পূর্বেই আমাদের দুদকে আত্মীকরন করায় আমরা রীটটি তুলে নেই।’
বাদী দাবী করেছেন যে তিনি কোন সময়ই উদ্বৃত্ত কর্মকর্তা ছিলেন না। সেক্ষেত্রে দুদকে আত্মীকরনের জন্য তাকে আবার মাননীয় হাইকোর্টে রীট পিটিশন করতে হলো কেন? বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সকল কর্মকর্তা- কর্মচারীকেই কী এই ভাবে রীট করেই দুর্নীতি দমন কমিশনে আত্মীকরনের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল? ২০০৫ সালে রীট দায়ের এবং আদালতে তারই দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সালে দুদকে চাকুরী প্রাপ্তির মধ্যকার সময়ে তার অবস্থাকে আমরা কি নামে অভিহিত করবো? উদ্বৃত্ত নাকি বরখাস্তকৃত নাকি প্রত্যাহারকৃত নাকি বেকার? এ সকল প্রশ্নের উত্তর মাননীয় আদালতে পেশকৃত আমার ফিরিস্তির ১৩ এবং ১৪ নম্বর evidence এ পাওয়া যাবে।
১৩ নম্বর evidence রূপে আমি দুর্নীতি দমন কমিশনের ০৬-০৯-২০০৫ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরনী আদালতে পেশ করেছি। বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কর্মকর্তা- কর্মচারীদের যাচাই-বাছাই করার লক্ষ্যে কমিশনের সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কার্যবিবরনীতে ‘ বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর এসিও, ডিএসিও ও পিএসিওদের যাচাই বাছাই শেষে বহাল ও প্রত্যাহার সম্পর্কে নি¤œরূপ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়’ শিরোনামে একটি তালিকা রয়েছে। সেই তালিকার ১৯ নম্বরে জনৈক নূর আহাম্মদকে যার পদবী ও কর্মস্থল যথাক্রমে ডিএসও ও যশোর, কমিশন চাকরী থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। মাননীয় আদালত, এই কার্যবিবরনীতে আরও একটি বিষয় দ্রষ্টব্য। যাচাই- বাছাই প্রশ্নে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের কারও কারও ক্ষেত্রে কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে মতভিন্নতা থাকলেও জনাব নূর আহাম্মদকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহনে তারা একমত ছিলেন।
এবার ১৪ নম্বর evidence ব্যাখ্যা। বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর যে ২৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কমিশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন তাদেরকে দুদক থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে তৎকালিন দুদক সচিব ০২-১০-২০০৫ ইং তারিখে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নিকট পত্র দেন। সেই পত্রের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার তালিকার ৬ নম্বরে নূর আহাম্মদ, চাকুরীস্থল যশোর রয়েছেন। ধারনা করছি আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী মো: নূর আহাম্মদ এবং evidence ১৩ ও ১৪ তে উল্লেখিত নূর আহাম্মদ একই ব্যক্তি। আদালতে সত্য বলার শপথ নিয়ে মামলার বাদী মো: নূর আহাম্মদ কমিশনে তার চাকুরী কোন সময়ই উদ্বৃত্ত হয় নাই মর্মে যে দাবী করেছেন তা সত্য নয় বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। মাননীয় হাইকোর্টে রীট পিটিশন নিয়েও তিনি একই ভাবে আংশিক ও অর্ধসত্য তথ্য দিয়েছেন।
২০০৫ সালে কমিশন বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর ২৬৩ জন কর্মকর্তা- কর্মচারীকে চাকুরীতে বহাল না করে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলে আমি যতখানি জানতে পেরেছি তারা হাইকোর্টে ডজনেরও অধিক রীট আবেদন দায়ের করে। সেই রীট আবেদনের কয়েকটি হাইকোর্টে নিস্পত্তিও হয়। হাইকোর্টে নিস্পত্তিকৃত সকল রায় কমিশনের পক্ষেই যায়। রীট পিটিশন নং ১৬৯২ এবং রীট পিটিশন নং ৭৪২৮ নিস্পত্তি করে মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ মুহাম্মদ দস্তগীর হোসেন এবং মাননীয় বিচারপতি মামুনূন রহমান যে রায় প্রদান করেন সেটি ফিরিস্তির ১৫ নম্বর evidence রূপে আমি আদালতে পেশ করেছি। আলোচ্য রীট দুটি খারিজ করে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ বলেন যে:
Considering the facts and circumstances, provisions of laaw and the case as referred to, We find no substance in these writ petitions. Accordingly, the Rules in writ petition No, 1692 of 2006 and writ petition No. 7428 of 2005 are discharged without any order as to cost.
(Ref- ২৭; ফিরিস্তি-১৫)
মাননীয় আদালত, evidence ১৩,১৪ এবং ১৫ এর মাধ্যমে আমি সম্ভবত: প্রমান করতে পেরেছি যে জনাব মো: নূর আহাম্মদের দুদকে ২০০৮ সালে চাকুরী প্রাপ্তি নিয়ে বৈধতার প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। তদুপরি তিনি এই আদালতে সত্য বলার শপথ গ্রহন করেও সেই শপথের মর্যাদা রাখতেও ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের পেনাল কোড অনুযায়ী কোন দন্ডনীয় অপরাধ করেছেন কি না সেই সিদ্ধান্ত গ্রহনের এখতিয়ার সম্পূর্ন ভাবেই মাননীয় আদালতের। তিনি আইনসিদ্ধভাবে এই মামলার বাদী থাকতে পারেন কিনা সেই আইনগত প্রশ্নও যৌক্তিকভাবে উত্থাপিত হবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, এই বিচিত্র মামলার অভিযোগকারী ভুয়া, অভিযোগ ভুয়া, যিনি ডাকবিভাগের কর্মচারী সেজে সম্পদের নোটিশ আমার নামে পাঠিয়েছিলেন সেই ব্যক্তি ভুয়া, এবং মামলার যিনি বাদী তার চাকুরীও ভুয়া। এত ভুয়ার মধ্যে একমাত্র সত্য হচ্ছে, কোন অপরাধ না করেও শুধু ভিন্নমতের কারনে ভুয়া মামলায় আমি বছরের পর বছর জেল খেটে যাচ্ছি।
মাননীয় আদালত,
আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুদকের এই মামলা একটি ফ্যাসিষ্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থের লক্ষ্যে দেশের একজন নিরাপরাধ, ভিন্নমতের নাগরিককে হয়রানি ও নিপীড়নের এবং আইন ও ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের Classic উদাহরন হয়ে থাকবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আইনের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এই মামলার Proceedings অধ্যয়ন করবে, পক্ষে-বিপক্ষে উত্তপ্ত বিতর্ক হবে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সংজ্ঞা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে নবীন প্রজন্ম নির্মোহ ও স্বচ্ছ দৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে। এই বিশেষ চরিত্রের মামলাটির উৎপত্তি হয়েছে এক দোর্দন্ত প্রতাপশালী প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত সংক্রান্ত সংবাদ খবরের কাগজে প্রকাশকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৭০টি বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছি, দিনের পর দিন পুলিশ হেফাজতে নির্যাতিত হয়েছি, ফ্যসিষ্ট সরকারের পুলিশের পোষাক পরিহিত খুনী বাহিনী নির্যাতন শেষে আমাকে মৃত ভেবে থানা গারদে ফেলে রেখে গেছে, দুই দফায় প্রায় তিন বছর কারাগারে আছি। দুদক আইন অনুসারে সম্পদের হিসাব জমা না দেয়ার সর্বোচ্চ সাজাই তিন বছর। এই ধরনের মামলায় আমি ব্যতীত আর কোন নাগরিক এত দিন কারাগারে আছেন বা কখনও ছিলেন বলে আমার জানা নাই। আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত এই বিশেষ আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম প্রায় পৌনে দুই বছর ধরে চলছে। এই সময়ের মধ্যে আমার আইনজীবীদের জেলখানায় সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি। জেল প্রশাসন নির্বিকারভাবে আইনের সমান আশ্রয়লাভের সাংবিধানিক অধিকার হরণ ও জেল কোড ভঙ্গ করেছে। বন্দি অবস্থায় চিকিৎসার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। সময়মতো চিকিৎসা না হওয়ায় হাড় ক্ষয় হয়ে আমার ডান হাত আর আগের মতো কর্মক্ষম নেই। আমার পক্ষে দুদকের মামলা লড়ার অপরাধে একজন আইনজীবীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জুলুমের এটাই শেষ নয়। আমার ৭৭ বৎসর বয়সী, সরকারী কলেজের অবসর প্রাপ্ত প্রবীন অধ্যাপিকা মায়ের বিরুদ্ধে পর্যন্ত বানোয়াট মামলা দিতে নারী প্রধানমন্ত্রী সংকোচ বোধ করেন নি। এটাই আজকের বাংলাদেশের আইনের শাসনের চিত্র।
বাংলাদেশের আইনের সিংহভাগ বৃটিশ আইনের ধারাবাহিকতাতেই প্রনয়ণ করা হয়েছে। সেই ঔপনিবেশিক আমলেও সাদা চামড়ার পুলিশ কর্মকর্তা, সিভিল সার্ভেন্ট উপমহাদেশের স্বাধীনতাকামী, লড়াকু জনগোষ্ঠীকে পদানত রাখতে আজকের মতোই জাল evidence তৈরী করতো। সাদা চামড়ার ম্যাজিস্ট্রেটরা জাল স্বাক্ষ্য, জাল evidence বুঝতে পেরেও আম্লান বদনে সাজার রায় শোনাতো। বৃটিশরা ৬৮ বছর আগে এ দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। এর মধ্যে পূর্ববঙ্গ দুইবার স্বাধীন হয়ে রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ নাম নিয়েছে। অথচ শাসক শ্রেনীর জুলুম সর্বত্র একইভাবে চলছে, ক্ষেত্র বিশেষে জুলুমের তীব্রতা ও ব্যপকতা বেড়েছে। দলবাজির জোয়ারে ন্যায়- অন্যায় বোধ লোপ পেয়েছে। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এগুলো আজও শুধুই ফাঁকা বুলি।
‘জেল ভালো। লোহার বেড়ি মিথ্যা কথা বলে না, কিন্তু জেলের বাহিরে যে স্বাধীনতা আছে সে আমাদিগকে প্রতারনা করিয়া বিপদে ফেলে। আর, যদি সৎসঙ্গের কথা বল তো, জেলের মধ্যে মিথ্যাবাদী কৃতঘœ কাপুরুষের সংখ্যা অল্প, কারন স্থান পরিমিত বাহিরে অনেক বেশি।’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শতবর্ষ আগে এই কথা তার ছোট গল্পের নায়কের জবানীতে লিখেছিলেন। মাত্র তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহজাদপুরে সেই বিশ্বকবির নামেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এসেছেন। মনিষীদের আদর্শ অন্তরে লালন না করে কেবল বাইরে থেকে তাদের পোষাকী সম্মান প্রদর্শন মানব চরিত্রের সেরা ভন্ডামি।
মাননীয় আদালত,
যে বয়সে পৌঁছে গেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়া যায়, আমি সেই বয়স পার হয়ে এসেছি। জীবনের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সম্পূর্ন সততার সাথে জীবন যাপনের চেষ্টা করেছি। সরকারী দায়িত্ব পালনকালে আপোষহীনভাবে জনগন ও রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষা করেছি। কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করি নাই। ব্যক্তিগত লোভ মনে জাগ্রত হয় নাই। শিখেছি প্রকৃত মানুষের ধর্মই হচ্ছে জুলুম ও অবিচারের প্রতিবাদ করা। এক নিকৃষ্ট স্বৈরশাসকের অপশাসনের ইতিহাস লিখে জেলে এসেছি। যদি কোনদিন মুক্তি মেলে তাহলে আজীবন দখলদার স্বৈরশাসকের জুলুমের প্রতিবাদ এভাবেই করে যাব। মহান আল্লাহ্ তায়ালার কাছে এই আমার অঙ্গীকার।
আপনাকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।

http://www.freemahmudurrahman.org থেকে সংগৃহীত ।

 

 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button