প্রবাসের খবররাজনীতি

লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের ইফতার

ডেইলি টাইমস ২৪:
লন্ডনে বাংলা মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে ইফতার করেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সাত বছরের প্রবাস জীবনে এই প্রথম তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং খোলামেলা আড্ডায় বসেন। প্রায় তিন ঘন্টার আড্ডায় প্রশ্ন আর পাল্টা প্রশ্নে উঠে আসে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পরবর্তী পদক্ষেপ, সরকারের অপশাসন, বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল এবং ভবিষ্যতের নানা দিক।
পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেনে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য বিএনপির সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করে। এতে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ইফতারের পূর্বে এবং পরে তিনি দীর্ঘ আড্ডায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। আবার নিজেও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নানা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল, গণহত্যা ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে এখন নেতিবাচক পরিচয় বহন করছে। দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণেœর জন্য শেখ হাসিনা-ই দায়ী। সংসদের মতো আওয়ামী লীগ জাতীয় প্রেস ক্লাবও দখল করে নিয়েছে। গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকুও তারা রাখেনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট আছে। ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভাল-ই আছে বলে তিনি দাবি করেন।
‘কবে দেশে ফিরছেন’ এবং ‘চিকিৎসার সর্বশেষ পরিস্থিতি কি?’ এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান স্পষ্ট জবাব দেননি। বলেন, দ্রুতই তিনি দেশে ফিরতে চান। শরীর আগের চেয়ে অনেক ভাল। এখন সপ্তাহে একদিন ফিজিও থেরাপি দিতে হয়। পুরোপুরি সুস্থ্যের প্রশ্নে তিনি বলেন, ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগলেও পূর্বের অবস্থায় আরে ফেরে না। ৮ জুলাই পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছেন তিনি। একইসময়ে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ওমরাহ পালন করবেন এবং সৌদিতে তাদের সাক্ষাত হবে বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন গুম খুন অপহরণের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছে। নির্যাতন হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপর। দখল হয়ে গেছে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম জাতীয় প্রেসক্লাব। এর কারণ দেশে গণতন্ত্র নেই। গনতান্ত্রিক শাসন নেই। গনমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। সাংবাদিকরা নির্যাতন  ও হয়রানীর শিকার। এই সরকার ২৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের শাসনামলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনী হত্যাকান্ডের পর এত বছর পার হয়ে গেলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। অথচ সে সময় সরকারের মন্ত্রীরাই বলেছিলেন, শেখ হাসিনা নিজেই নাকি এ মামলার তদারকি করছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমি কেবল ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরেছি। সত্য বলায় তা জিয়াউর রহমানের পক্ষে গেছে। আর শেখ মুজিবুর রহমানের বিপক্ষে গেছে। এ প্রসঙ্গে সরকারি দলের নেতাদের সমলোচনার প্রশ্নে তিনি বলেন, ইতিহাসের সত্য তথ্যের ভিত্তিতে আমার তুলে ধরা বক্তেব্যর কোনো জবাব তারা দেয়নি। কেবল আমাকে গালাগাল করেছে। ঐতিহাসিক তথ্যের আলোকে আমি জবাবের অপেক্ষায় আছি।
গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে অপপ্রচারের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তারেক রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে অব্যাহত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন অপপ্রচারই সত্য প্রমান করতে পারেনি সরকার। বরং যে-ই মিডিয়াকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে, সেই মিডিয়াকে এখন আওয়ামী লীগই গলা টিপে ধরেছে।
তিনি দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, আমার প্রতি ও আমার দলের প্রতি অনেক অবিচার হয়েছে। দেশে আজ মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে ব্রিটেনের মত ট্রান্সপোর্ট ও গার্বেজ সিস্টেম গড়ে তুলবেন।
‘জামায়াতের সাথে তারেক রহমান কিংবা দলের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে কি-না’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা মিডিয়ার সৃষ্টি। মিডিয়া অনেক কিছু লেখে। আজ পর্যন্ত আমি কিংবা আমার দলের পক্ষ থেকে এমন কোন বক্তব্য আসেনি। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেছেন জামায়াতের সাথে আগের মতই জোটগত ভাবে আমরা আছি। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসংঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে বিচার হলে সবার মত আমরাও মেনে নিতাম।
ইফতার পার্টিতে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আর্ন্তজাতিক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, সাধারন সম্পাদক কয়সর এম আহমদ, প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, যুক্তরাজ্য বিএনপির মিডিয়া টিমের আহবায়ক তাজ উদ্দীন, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সদস্য ড. এম মুজিবুর রহমান, নাজমুল হোসেন জাহিদ, আখতার মাহমুদ প্রমুখ।
সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন লন্ডন বাংলা পত্রিকার সম্পাদক কেএম আবু তাহের চৌধুরী, সাবেক সম্পাদক শাহ ইউসুফ, বিবিসি’র মাসুদ হাসান খান, জনমতের প্রধান সম্পাদক নাহাস পাশা, নিউজ এডিটর মুসলেহ উদ্দিন, চ্যানেল আই ইউরোপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা আহমদ ফয়ছল চৌধুরী শোয়েব, চ্যানেল এস -এর এক্সিকিউটিব এডিটর সালেহ শিবলী, সুরমার পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ ময়েজ, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, বাংলা পোস্ট ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী, লন্ডনবাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহিব চৌধুুরী, দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইছির মাহমুদ, প্রমুখ।

ডেইলি টাইমস ২৪,বা/খ: 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button