রাজনীতি

'সংকটের নিরসন চাইলে অর্থবহ নির্বাচন দিতে হবে'

ঢাকা, জুলাই(ডেইলি টাইমস ২৪):  দেশের চলমান সংকট নিরসন করতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই অর্থবহ নির্বাচন দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

রবিবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশে আজ ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। তাই দেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায়, শান্তিতে থাকতে চায় ও দেশের উন্নয়ন চায়।সরকার জনগণের চাহিদা পূরন করতে পারছে না। আর এই জন্য আমাদের নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। অন্যথায় দেশ আরো ভয়াবহ অবস্থার দিকে চলে যাবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন,  দেশ চলছে না। দেশ আজ অচল। বিদেশীরাও বলছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়নি, সিটি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হবে, দেশে উন্নয়ন হবে।

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, এ সরকার লুটপাটে ব্যস্ত। পচা গম নিয়ে আসার পর তাদের বিচার হয় না। এ গম কাবিখা, টিআর-এ ব্যবহার করা হবে। এ গম আস্তে আস্তে শহরেও আসবে। সবার কাছে পৌঁছাবে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী আরামে মন্ত্রিত্ব করে যাচ্ছেন।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশ বন্যাকবলিত হলেও বন্যার্ত মানুষ সাহায্য পাচ্ছে না। মানুষের বিপদে এ সরকারের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস নেই। এখন মানুষ সাহায্যও পাচ্ছে না, গ্রামে কাজও নেই; তাই তারা ঢাকামুখী হচ্ছে। এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি বলে জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব নেই বলে মনে করেন তিনি।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন তাঁর দল ও জোটের নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বাড়িঘরে হামলা ও ধনসম্পদ লুট করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন এর নাম কী রাজনীতি? এর নাম কী গণতন্ত্র?
এ্যাবের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, মাহমুদুর রহমান প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। এ জন্য তাঁকে দিনের পর দিন জেল খাটতে হচ্ছে। সামনেই প্রকৌশলীদের একটি নির্বাচন রয়েছে। সেখানে জাতীয়তাবাদী প্যানেলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহ-সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু। খালেদা জিয়া বিকেল ৬টা ৪০ মিনিটে বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার নবরাত্রীতে এসে পৌঁছান।

এসময় এ্যাবের মহাসচিব হাসিন আহমেদ, আফজাল হোসেন সবুজ, আহসান হাবিব রাসেল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ. বিএনপি ভাইসচেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা  আমির খসরু আহমুদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খানম রিতা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ২০ দলের মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ, কল্যান পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

-আ/বি , ডেইলি টাইমস ২৪

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button