রাজনীতি

অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশ আরো সংকটের দিকে যাবে: খালেদা জিয়া

ডেইলি টাইমস ২৪:

দ্রুত সব দলের অংশগ্রহনে একটি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশ আরো সংকটের দিকে যাবে বলে মনে করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

শাসকদলের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ এনে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) লুটপাটে ব্যস্ত, দেশের দিকে তাদের কোনো নজর নেই। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘গণতান্ত্রিক সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
খাদ্য অধিদপ্তরের পচাগম আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার পচা গম নিয়ে এসেছে। কিন্তু কেই প্রতিবাদ করে না। আর প্রতিবাদ করলেও কোনো বিচার হয় না। কারণ সরকারি দল দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়। আর দুর্নীতি যারা করে তারা আওয়ামী লীগ করে। তাই খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আরামে মন্ত্রীত্ব করে যাচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার হয়রানি ও নির্যাতন করছে। বিএনপির নেতাদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে তাদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে এবং বাড়ি-ঘর জ্বালালি দিচ্ছে। এর নাম কি রাজনীতি, এর নাম কি গণতন্ত্র?’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘সবাই জানেন, দেশের আজ কী অবস্থা। আজ বন্যায় কবলিত দেশ। কিন্তু বন্যা বাড়ি-ঘর হরানো মানুষ কোনো সাহায্য পাচ্ছে না। কারণ এ সরকার মানুষের বিপদের সময় পাশে থাকে না। আর এ কারণে গ্রামের মানুষ ঢাকা মুখী হচ্ছে এবং দালালের হাতে পড়ে নদীতে ভাসছে।’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার শুধু জুলুম, নির্যাতন ও লুটপাট করতে পারে। কিন্তু মানুষকে কোনো শান্তি দিতে পারে না।’

আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এ সরকারের কাছে কোনো কিছু চেয়ে লাভ হবে না। তাই আপনি বেল নিন। কারণ দেশের মানুষের জন্য প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’
রোববার বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার ‘নবরাত্রিতে’ অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন পি ইঞ্জ এবং পরিচালনা করেন সহ সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু। খালেদা জিয়া বিকেল ৬টা ৪০ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান।

ইফতার পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, উন্নয়ন ও শান্তি চায়, কাজ চায়। কিন্তু এই সরকার জনগণকে কাজ, শান্তি, নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষের দিকে তাদের কোনো নজর নেই। সেজন্য দ্রুত নির্বাচন না হলে দেশ আরো সংকটের দিকে চলে যাবে।

তিনি বলেন, বিদেশিরাও বলছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়নি। সিটি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে ‘গণতান্ত্রিক সরকার’ প্রতিষ্ঠা হবে। দেশে উন্নয়ন হবে।

বিএনপি প্রধান বলেন, ‘এখন দেশ চলছে না, দেশ আজ অচল। দেশে কোন কাজ নেই। গ্রামের মানুষ কাজ না পেয়ে ঢাকামুখী হচ্ছে। ঢাকায় এসেও কাজ না পেয়ে দালালের খপ্পরে পরে সাগরে ভাসছে। অনেক জীবন দিয়েছে।’

শাসকদলের লোকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, যারা দুর্নীতিবাজ, তারাই আওয়ামী লীগ। যারা আওয়ামী লীগ করে তারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস করে সুখে শান্তিতে আছে। দেশে বন্যা চলছে। কিন্তু বন্যা কবলিত এলাকায় মানুষ সাহায্য পাচ্ছে না। এ সরকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ায় না।

বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, ‘বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের সমস্ত সম্পদ লুটপাট করে নিচ্ছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। এর নাম কী রাজনীতি? এর নাম কী গণতন্ত্র?’

ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে অ্যাবের মহাসচিব হাসিন আহমেদ, আফজাল হোসেন সবুজ, আহসান হাবিব রাসেল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ. বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা  আমির খসরু আহমুদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খানম রিতা, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ২০ দলের মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ, কল্যান পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি টাইমস ২৪,বা/খ: 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button