জাতীয়

ফাইলবন্দি পুলিশের সংস্কার প্রস্তাব

দিনের শেষে প্রতিবেদক : আট বছর ধরে ফাইলবন্দি হয়ে আছে পুলিশের সংস্কার প্রস্তাব। অথচ বাহিনীর প্রধান থেকে শুরু করে সবাই স্বীকার করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে পুলিশের সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।
আর বিশ্লেষজ্ঞরা বলছেন, সংস্কার হলে পুলিশের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব কমে আসবে অনেকটাই। আর এ কারণেই কোনো সরকারই সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যতম প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী পুলিশ। ১৮৬১ সালের পুলিশ রেজুলেশন অব বেঙ্গল-পিআরবিকে ভিত্তি করেই চলছে এই বাহিনী। যদিও পুলিশের সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বারবারই। সবশেষ ২০০৭ সালে সংস্কারের একটি উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি এখনও।
প্রস্তাবিত সেই খসড়ায় বলা হয়েছিল পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে মহাপরিদর্শক পর্যন্ত কাউকেই পদায়নের দুই বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক চাপে বদলি করা যাবে না। পুলিশের কোনো নিয়োগ, বদলি বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের তদবির ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি বলছেন, রাজনৈতিক কারণে পুলিশের সংস্কার হচ্ছে না এমন অভিযোগ ঠিক নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনের জন্য দেশে সংবিধান আছে, সেভাবেই কাজ করা উচিত। রাজনৈতিক উদ্দেশের জন্য সংস্কার হচ্ছে না এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। কিছুটা সংস্কার তো হচ্ছেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি কল্যাণমুখী ও সেবাধর্মী পুলিশ বাহিনী গড়তে সচেষ্ট রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৭ সালের প্রস্তাবিত পুলিশ অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে একদিকে পুলিশের জবাবদিহি বাড়বে, অপরদিকে পুলিশের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব কমবে অনেকটাই।
অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, পুলিশ সংস্কার হলে এ ধরনের সমস্যাগুলোর সমাধান আমরা দেখতে পেতাম। পুলিশ মহাপরিদর্শক বলছেন, সংস্কারের তাগিদ অনুভব করছেন তারাও। আর সে লক্ষ্যেই দেয়া হয়েছিল প্রস্তাবনা। এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক বলেন, পুলিশ যেন তার মতো করে কাজ করতে পারে এমন বিধান আমরা করেছি, বাকিটা মন্ত্রণালয়ের হাতে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button