বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

নোবেল দৌড়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী

টেক ডেস্ক,২৩ জুলাই(ডেইলি টাইমস ২৪):  ১৯২৯ সালে হারম্যান ভাইল নামের একজন পদার্থ বিজ্ঞানী ভরহীন একটি কণা ‘ফার্মিয়ন’ এর অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। ভাইলের সেই ধারণাকে ৮৫ বছর পর সত্য প্রমাণিত করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একদল পদার্থ বিজ্ঞানী। পরীক্ষাগারে নিরলস প্রচেষ্টায় সেই কণা শনাক্ত করে পুরো পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তারা।

জাহিদ হাসানের এই আবিষ্কারের ফলে তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা পাল্টে যাবে। সেই সঙ্গে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে ইলেকট্রনিক ও কম্পিউটারের বাস্তব জগতেও।

এ বিষয়ে জাহিদ হাসান বলেন, ‘ভাইল ফার্মিয়নের অস্তিত্ব প্রমাণিত হওয়ায় দ্রুতগতির ও অধিকতর দক্ষ ইলেকট্রনিক্স যুগের সূচনা হবে। এই আবিষ্কার কাজে লাগিয়ে আরো কার্যকর নতুন প্রযুক্তির স্মার্টফোনসহ স্মার্ট ডিভাইস বাজারে আসবে। যা অনেকক্ষণ ব্যবহারেও তাপ সৃষ্টি হবে না। কারণ ভাইল ফার্মিয়ন কণার ভর নেই। এটি ইলেকট্রনের মতো পথ চলতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে না।’

পৃথিবীর গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে নদী-নালা, খাল-বিল, সমুদ্র, পর্বত, প্রাণিজগৎ, গাছপালা, মানুষ, সব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার পিণ্ড। মহাজগতের এসব বস্তুকণাকে বিজ্ঞানীরা দুটি ভাগে বিভক্ত করেন। একটি ‘ফার্মিয়ন’, অন্যটি ‘বোসন’। ‘বোসন’ কণার ধারণা দিয়েছিলেন আরেক বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। তার নামেই নামকরণ করা হয় এ কণার। ‘ফার্মিয়ন’ কণার একটি উপদল হল ‘ভাইল ফার্মিয়ন’।

এই কণা খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে ভাইল ফার্মিয়নের পরীক্ষামূলক প্রমাণের বিষয়টি বিস্তারিত ছাপা হয়েছে। এরপরই পুরো দুনিয়ায় বিজ্ঞানীদের মধ্যে হৈ-চৈ পড়ে যায়।

জাহিদ হাসানের জন্ম গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে। তিনি রাজধানীর ধানমণ্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধাতালিকায় শীর্ষ ঠাঁই হয়েছিল তার। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে। ভর্তি হন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা বিভাগে। সেখানে তিনি কাজ করেছেন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী স্টিভেন ভাইনবার্গের সঙ্গে। তার আগ্রহেই জাহিদ পরীক্ষা নির্ভর পদার্থবিজ্ঞানে কাজ করতে শুরু করেন। এরপর প্রথম সুযোগেই জাহিদ হাসান আইনস্টাইনের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাত প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন শিক্ষক হিসেবে। বর্তমানে তিনি সেখানে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা করছেন।

২০১৪ সালে জাহিদ হাসান টপোলজিক্যাল ইনসুলেটর নামের এক বিশেষ ধরনের অন্তরক পদার্থ উদ্ভাবন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানী তথা গবেষকদের।

১৯৯৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত ইউএসএ, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ২২৫ এর অধিক কনফারেন্স, সেমিনারে লেকচার দিয়েছেন। কাজ করছেন সিইআরএন ল্যাব, ব্রুকহেভেন ন্যাশনাল ল্যাব, লরেন্স বার্কলে ল্যাবের মত বিখ্যাত সব ল্যাবরেটরিতে। ইতালি, সুইডেন, ভারত, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশে প্রতিনিয়ত প্রাতিষ্ঠানিক লেকচার দিচ্ছেন। যুক্ত আছেন সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও।

জাহিদ হাসান তার এই অনন্য আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কারের জন্যও মনোনীত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পৃথিবীতে গত কয়েকবছরে পদার্থ বিজ্ঞানে যারা নোবেল পেয়েছেন তাদের অবদানের সঙ্গে জাহিদ হাসানের অবদানের তুলনা করলে বোঝা যায় এ সম্মান যেনো তারই প্রাপ্য।

২০১৪ সালে পরিবেশবান্ধব বিকল্প আলোর উৎস নীল লাইট ইমিটিং ডায়োড (এলইডি) আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন দুই জাপানি ও এক জাপানি বংশোদ্ভূত মার্কিন গবেষক। এরা হচ্ছেন জাপানের গবেষক ইসামু আকাসাকি, হিরোশি আমানো ও জাপানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক শুজি নাকামুরা। এদের কাতারে এখন জাহিদ হাসানের নাম দেখার জন্য পুরো বাঙালি জাতি অপেক্ষা করে আছে।

 

-আ/বি/আ , ডেইলি টাইমস ২৪

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button