আইন ও আদালত

রায়ে হতাশ, রিভিউ করব: আসামিপক্ষ

ঢাকা, ২৯ জুলাই(ডেইলি টাইমস ২৪):  মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের আপিল মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে আসামিপক্ষ। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করার কথা জানিয়েছেন সাকা চৌধুরীর আইনজীবী।
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করার পর সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ও রিভিউ আবেদন করার কথা জানান সাকা চৌধুরীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন সাকা চৌধুরী। আজ ওই আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত আপিল আংশিক মঞ্জুর করে একটি অভিযোগ (৭ নম্বর) থেকে আসামিকে খালাস দিয়েছেন। এই অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে ২০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। চারটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশসহ তাঁকে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের বাকি সাজা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। পরিবার হতাশ হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর আমরা রিভিউ করব।’
খন্দকার মাহবুব হোসেন দাবি করেন, মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে হীন উদ্দেশ্যে এই মামলা সাজানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যদি একাত্তরে এত বড় অপরাধ করতেন, তাহলে বারবার সাংসদ নির্বাচিত হতেন না তিনি।
আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাকা চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘রায়ে আমরা হতাশ হয়েছি। আমার বাবা যে নির্দোষ ছিলেন, সেটা একদিন না একদিন প্রমাণিত হবেই।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ও খালাস চেয়ে ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর আপিল করেন সাকা চৌধুরী। চারটি অভিযোগে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেনি। চলতি বছরের ১৬ জুন আপিলের শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৭ জুলাই। ওই দিন আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২৯ জুলাই (আজ) তারিখ ধার্য করেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুর বণিকপাড়া ও ঊনসত্তরপাড়ায় গণহত্যা, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোজাফফর আহমেদ ও তাঁর ছেলে শেখ আলমগীরকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
ওই রায়ে বলা হয়, সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২৩টি অভিযোগ এনেছে, যার মধ্যে নয়টি (২ থেকে ৮ এবং ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগ) প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় অভিযোগে নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, পঞ্চম অভিযোগে সুলতানপুর বণিকপাড়া ও ষষ্ঠ অভিযোগে ঊনসত্তরপাড়ায় গণহত্যা, অষ্টম অভিযোগে হাটহাজারীর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোজাফফর ও তাঁর ছেলেকে অপহরণ করে খুনের দায়ে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
দ্বিতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম অভিযোগে হত্যা, গণহত্যার পরিকল্পনা, সহযোগিতা এবং লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও দেশান্তরে বাধ্য করার ঘটনায় সাকা চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে ২০ বছর করে ৬০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে তাঁকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলো থেকে তাঁকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল।
হরতালে গাড়ি পোড়ানোর এক মামলায় ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর সাকা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাঁর বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

 

-আ/বি/আ , ডেইলি টাইমস ২৪

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button