জাতীয়

ঘূর্ণিঝড়ে কক্সবাজারে শিশুসহ নিহত ৫

ঢাকা, ৩০ জুলাই(ডেইলি টাইমস ২৪):

ঘূর্ণিঝড় কোমেনের অগ্রভাগ বুধবার মধ্যরাতের পর সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে আঘাত হেনে উত্তর-পূর্বদিকে এগিয়ে আসছে।

এতে টেকনাফ সদর উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রাম ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ে সেন্টমার্টিনে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্টমার্টিনে গাছের নিচে চাপা পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে বুধবার মহেশখালীতে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।


চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম, কক্সবাজার থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিম, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করছে।

দুপুরের দিকে এটি চট্টগ্রাম উপকূল পার হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। এটি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায় ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলছে। জোয়ারের পানি বেড়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতের ঝড়ো হাওয়ায় সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে গাছপালা উপড়ে ও বসতবাড়ির ছাউনি উড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে বসতবাড়ির গাছ উপড়ে মোহাম্মদ ইসলাম নামের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ভোর ছয়টার দিকে তিনি মারা যান। সেন্টমার্টিনে অন্তত ২০ জন মানুষ বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে কক্সবাজার শহরসহ জেলা উপকূলীয় এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ার তীব্রতা বেড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় পরিবেশ গুমোট আকার ধারণ করেছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। বৃষ্টিপাত বন্ধ আছে। বাতাসও বন্ধ। তবে মাঝে মাঝে দমকা আকারে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও এই এলাকায় সারারাত বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সেন্টমার্টিনে ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, দ্বীপের ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘর থেকে বের হওয়ারও সুযোগ মিলছে না। জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন দ্বীপবাসী।

তার দাবি, দ্বীপের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভভ নয়।

সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, তারাও ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। আপাতত কিছুই করা যাচ্ছে না। বাতাস থামলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে লোকজনকে নিরাপদে অবস্থান করার জন্য ইতোপূর্বেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নাই টংপাড়া, দক্ষিণ জালিয়াপাড়া, ইসলামাবাদ, ফলিয়াবাদসহ ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ।

তিনি বলেন, মানুষজনকে বুধবার রাত থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ফুট পর্যন্ত বেড়েছে।

টেকনাফ থানার ওসি মো. আতাউর রহমান খন্দকার বলেন, ঝড়ো বাতাসে সেন্টমার্টিন দ্বীপে শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে ও নারকেল গাছ ভেঙে পড়েছে।

সেন্টমার্টিনে ভোরে গাছের নিচে চাপা পড়ে মো. ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলেও জানান তিনি।

ঘূর্ণিঝড় কোমেন ঘিরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বুধবার রাতে বিশেষ প্রস্তুতি সভা করেছে।

সভা শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. অনুপম সাহা সাংবাদিকদের বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দুর্যোগকালীন আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বুধবার বিকেল থেকেই উপকূলীয় এলাকার মানুষদের নিরাপদস্থানে সরে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। রাতে অধিকাংশ উপকূলীয় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে এসেছেন।

অন্যদিকে টানা বর্ষণ ও সাগরের জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় ও নিচু এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে পানির নিচে রয়েছে। এখনো সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাননি লাখ লাখ মানুষ।

কক্সবাজারের উপকূলীয় মহেশখালী দ্বীপে নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বুধবার এই উপজেলায় নিহত হয়েছে শিশুসহ চারজন। আহত হয়েছে শতাধিক।

উত্তাল সমুদ্র সোনাদিয়া থেকে কাঁকড়া আহরণ করে ফেরার পথে ট্রলারডুবির ঘটনায় দুই জেলে নিহত হন। এ সময় পানিতে ডুবে আহত হন আরো সাতজন।

নিহতরা হলেন- তাজিয়াকাটা কুতুবজোমের জাফর আলমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন কালু (৩০) ও বড় মহেশখালীর মগরিয়াকাটা এলাকার ইয়ার মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ একরাম (২১)।

বড় মহেশখালীর পাহাড়তলী এলাকায় জনৈক দিনমজুর সৈয়দ নুরের কাঁচাবাড়ি ধসে দেয়াল চাপায় তার পাঁচ বছরের শিশুকন্যা হুমায়রা বেগমের মৃত্যু হয়।

এছাড়া সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বাঁকখালী মোহনায় ট্রলার থেকে পড়ে গিয়ে নিহত হয়েছেন উপজেলার কালামার ছড়ার আব্দুল করিমের ছেলে জেলে আব্দুল করিম (৩০)।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল নাসের বলেন, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের সতর্কতার পর উপজেলায় ১২৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

ঢাকা,৩০ জুলাই(ডেইলি টাইমস ২৪)বা/থ:

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button