জাতীয়

কোমেনের আঘাতে বিধ্বস্ত উপকূলীয় এলাকা, নিহত ৭

ঢাকা, ৩১ জুলাই(ডেইলি টাইমস ২৪):

ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে উপকূলজুড়ে প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় গাছচাপা পড়ে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বহু বসতঘর।
কোমেন উপকূল পার হওয়ার সময় দ্বীপ ও চরগুলো প্লাবিত হয়েছে ৩-৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে। ঘূর্ণিঝড়টি কাছাকাছি আসার পর উপকূলে ঝড়ো হাওয়ায় ভেঙে পড়ে বহু গাছ, এতে চাপা পড়ে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া নৌকাডুবিতে আরো তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।


উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে ভোরে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে মোহাম্মদ ইসলাম (৫০) নামে একজন নিহত হন। দুপুরে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় নুরুল ইসলাম ফকির (৫৫) এবং ভোলার লালমোহন উপজেলায় মনজুরা বিবি (৫৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয় গাছচাপা পড়ে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় ঝড়ের কবলে পড়ে আট দিনের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে পড়ে শিশুটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঝড়ে নৌকাডুবিতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন।
কক্সবাজার ও টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কোমেন উপকূলের দিকে আসার পথে গতকাল ভোরে টেকনাফ ছুঁয়ে যায়। এতে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে প্রায় দুই হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। দ্বীপে অন্তত ৫০০ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ বসতবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। দ্বীপের ১৫টি গ্রাম পানিবন্দি হয়েছে। প্রায় ২০টি নৌকা ও ট্রলার নিখোঁজ ও বিধ্বস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোমেনের আঘাতে টেকনাফ উপজেলায় জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, দক্ষিণ জালিয়াপাড়া, পুরান, মুণ্ডাল ডেইল, পুরানপাড়া, ডেইল্লর বিল, মহেষখালিয়াপাড়াসহ সব গ্রামই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপে। ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, শাহপরীর দ্বীপ থেকে হোয়াইক্যং উনচিংপ্রাং পর্যন্ত বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় উপকূলীয় বেশির ভাগ গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, দিনভর একটানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সন্দ্বীপে উড়িরচর ইউনিয়ন। সেখানে ৩০ থেকে ৪০টি বসতঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনোয়ারায় বিধ্বস্ত হয়েছে ১০টি বসতঘর। বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর গাছপালা উপড়ে পড়ায় উপজেলার কয়েকটি স্থান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড বাতাসে চট্টগ্রামের টাইগারপাসে বাটালী পাহাড় ও পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ এলাকায় বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে পড়ে।
বরিশাল প্রতিনিধি জানান, বুধবার রাত থেকে বরিশালসহ দক্ষিণের পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলার উপকূলীয় এলাকার জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সারারাত দক্ষিণাঞ্চলে বয়ে গেছে মাঝারি ঝড়-বৃষ্টি। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে ঢাকাগামী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপকূলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দুপুর ১২টার পর ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, মেঘনা নদীতে ঝড়ের কারণে নৌকাডুবে আবদুল কাহার (৬৫), ফাতেমা আক্তার (৪০), তানিশা বেগম (২) নামের তিনজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় শিরিনা আক্তার (১৮) নামের এক তরুণী নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সরাইলের দুবাজাইলে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন পাঁচ লাখ মানুষ। বেশ কিছু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জেলার ৯০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা।
ভোলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চরফ্যাশনে উত্তাল সাগরে তিনটি ট্রলার ডুবে অন্তত ২৪ জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। লালমোহনের গজারিয়ায় গাছচাপায় মনজুরা নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। মনপুরার কলাতলির ১০টি কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

ঢাকা,৩১ জুলাই(ডেইলি টাইমস ২৪)বা/থ:

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button