খেলাধুলা

ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ঢাকা, ১৮আগষ্ট (ডেইলি টাইমস ২৪):

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হলো ১-১ গোলে। সুতরাং, চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারণে বেছে নিতে হলো টাইব্রেকার। সেখানেই শক্তিশালি ভারতকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে সাফঅনুর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতলো বাংলাদেশের কিশোররা। টাইব্রেকারে শট ছিল ৪টি। বাংলাদেশ সবগুলো শটই জড়িয়ে দেয় ভারতের জালে। ২টি শট মিস করে ভারতের কিশোররা।

প্রথমার্ধে কোন দলই গোলের সুযোগ পেলো না। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে না হতেই গোল পেয়ে গেলো বাংলাদেশের কিশোররা। ৪৭ মিনিটেই শাওনের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক শটে ভারতের জাল কাঁপিয়ে দিলেন ফাহিম মোর্শেদ। ১-০ গোলে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।

তবে লিড নিয়েও বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের কিশোররা। ৬৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে বাংলাদেশের জালে বল জড়িয়ে দেন ভারতের অময় অবিনাশ। এই গোলেই সমতায় ফেরে ভারত।

শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলেই শেষ হলো নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা। কিশোরদের টুর্নামেন্ট বলে এখানে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলার নিয়ম নেই। সুতরাং, বিজয়ী দল নির্ধারণে ম্যাচ গড়াল টাইব্রেকারে।

বৃষ্টির কারণে ভেজা মাঠ। কোথায় কাদায় পূর্ণ। বিশেষ করে মাঠের মাঝখানে ক্রিকেট পিচের অবস্থা আরও নাজেহাল। ফলে ম্যাচের শুরুতে কোন দলই ভারসাম্য রাখতে পারছিল না। তবে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে দুই দলই।

তবে প্রথমার্ধে ভারতের চেয়ে বল পজিশন, আক্রমণ, লক্ষ্যে শট; সবদিক থেকেই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে কয়েকটি গোলের সুবর্ণ সুযোগও পেয়েছিল স্বাগতিক শিবির। কিন্তু কোন আক্রমণেই পূর্ণতা আসেনি।

২৪ মিনিটে গোলের মোক্ষম সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বা প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ শাওনের ক্রসে বক্সের মধ্য থেকেই দুর্দান্ত হেড নিয়েছিলেন মোস্তাজেব খান। তবে বল চলে যায় পোস্ট ঘেষে। এর এক মিনিট পরই আচমকা শটে ভারতীয় রক্ষণভাগকে চমকে দেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার মোহাম্মদ শাওন। বক্সের অনেকটাই বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নেন শাওন। তবে বল চলে যায় বারপোস্টে বাতাস লাগিয়ে।

মুহুমুর্হ আক্রমণে ব্যস্ত তখন বাংলাদেশ। ২৭ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে হৃদয়ের শট কোনমতে তালুবন্দী করে বিপদমুক্ত করেন ভারত গোলরক্ষক ও অধিনায়ক প্রাবুসখান সিং। একই কায়দায় ৩৫ মিনিটে মোস্তাজিবের শটও রুখে দেন ভারত গোলরক্ষক।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোটা স্টেডিয়ামকে উত্তুঙ্গ উৎসবে শামিল করে বাংলাদেশের কিশোররা। ৪৭ মিনিটে মোহাম্মদ শাওনের ক্রসে দুর্দান্ত শটে ভারতের জাল কাপান ফাহিম মুরশেদ। উচ্ছ্বাসের তরঙ্গ তখন গ্যালারী জুড়ে। ১-০তে লিড নেয় বাংলাদেশ।

লিড নেয়ার পর বেশ উজ্জীবিত তখন বাংলাদেশ। ৫০ মিনিটে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল জয়ের নায়ক সাদ গোল পেতে পারতেন একক প্রচেষ্টায়। কিন্তু হয়নি। মাঝ মাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের বক্সে। তারপর কৌশলী শট, কিন্তু তা তালুবন্দী করেন ভারত অধিনায়ক।

এরপর ভারত কিছুটা দুর্দমনীয় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের রক্ষণও তখন ঢিলেঢালা। ৫৫ মিনিটে কর্ণার কিক থেকে অল্পের চেয়ে গোল পায়নি ভারত। সেভ করেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। ৬৩ মিনিটে বক্সের মধ্যে ইন্ডাইরেক্ট ফ্রি কিকে গোলই দিয়েছিল ভারত, তবে তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।

কিন্তু দমে যায় নি ভারত। ৬৪ মিনিটেই ভারত শিবিরে স্বস্তি এনে দেন মিডফিল্ডার অমিয় অবিনাশ। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে দুর্দান্ত বা পায়ের শটে বাংলাদেশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। ভারত ম্যাচে সমতা আনে ১-১ ব্যবধানে।

এরপর লড়াই হয়েছে সমানে সমান। ৭৮ মিনিটে বক্সের মধ্যে সুবর্ন গোলের সুযোগ নষ্ট করেন বাংলাদেশের ফাহিম মুরশেদ। ইনজুরি টাইমেও গোলের সুযোগ এসেছিল। তবে খলিলের উড়ন্ত ক্রসে হেড নিলেও তা লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি বদলি খেলোয়াড় রনি।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ না হতেই চলে যায় বিদ্যুত। গোটা স্টেডিয়াম ঢেকে যায় অন্ধকারে। প্রায় ৯ মিনিট পর আসে বিদ্যুত। জ্বলে উঠে ফ্লাডলাইট। শুরু হয় বাকি অংশের খেলা। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে সমতা থেকেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

বাংলাদেশ স্কোয়াড: শাওন হোসেন (অধিনায়ক), ফাহিম মুরশেদ, হৃদয়, মোহাম্মদ শাওন, ইমন খান, সাদ উদ্দিন, ফয়সল আহমেদ, মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম সজীব, খলিল ভুইয়া, মোস্তাজেব খান।

ভারত স্কোয়াড: মোহাম্মদ সাকলাইন খান, আজিন টম, মোহাম্মদ রাকিপ, জিয়ানচুন রংমেই, মোহাম্মদ শাজাহান, অময় অবিনাশ, রহিম আলী, অভিজিত সরকার, জেরেমি, অমল চঙ্গোমপিপা, প্রাবসুখান সিং (অধিনায়ক)।

ঢাকা, ১৮আগষ্ট (ডেইলি টাইমস ২৪),বা/খ:

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button