ফিচার

অনাহার ঠেকাতে রবিনহুড আর্মি

ঢাকা, ১৮ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

দ্বি-জাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তিতে জন্ম নেয়া দুটি দেশ ভারত ও পাকিস্তান। জন্মের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বৈরিতার যেন শেষ নেই। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দুই দেশের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় থেকে গোলা বিনিময়ও হয়। যার ফলে দুই দেশের জমিনই প্রায় রক্তাক্ত হয় তপ্ত বুলেট আর বোমার আঘাতে। কিন্তু কথায় আছে, প্রচণ্ড বৈরি পরিবেশের মাঝেও কোথাও না কোথাও ঠিকই ফুল ফোটে, তেমনি দুই দেশের বৈরিতা চললেও তার মধ্যেই ভালোবাসার বীজ গজিয়ে ওঠে কখনও।

২০১৪ সালের কথা। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বাসিন্দা নীল ঘোষ চিন্তা করলেন শহরের অন্তত দেড়শ জন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেবার। নিজের স্থানীয় বন্ধুদের সাহায্যে এবং সহযোগিতায় তিনি একাজ শুরু করে দেন। অনাহারীদের খাবারের প্রকল্প চালাতে চালাতেই এই কর্মকান্ড সম্পর্কে নীল ঘোষ আলোচনা করেন তার পাকিস্তান নিবাসী বন্ধু সারাহ আফ্রিদির সঙ্গে। বন্ধুর এই প্রকল্পের কথা শুনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আফ্রিদি। পরের মাসেই তিনি স্থানীয় বন্ধুদের সহায়তায় গঠন করলেন রবিনহুড আর্মি(আরএইচএ) নামের একটি সংগঠন।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার দেয়া এক পরিসংখ্যান মতে, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় দেড় বিলিয়ন টন খাবার স্রেফ নষ্ট হয়ে যায়। এই বিপুল পরিমান খাবার দিয়ে কমপক্ষে সাড়ে সাত বিলিয়ন মানুষের এক বেলার ক্ষুধা নিবারন করা যায়। এশিয়ার পাকিস্তানের প্রতি দশজন মানুষের মধ্যে একজন খাদ্য অনিরাপত্তার ভেতর বাস করেন। যার অর্থ দাড়ায়, দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষেরই রয়েছে পর্যাপ্ত খাবারের অভাব। শুধু খাবারের অভাবের পাশাপাশিও রয়েছে পুষ্টিকর খাবারের ব্যাপক অভাব। যে কারণে পাকিস্তানে অপুষ্টিতে ভুড়ে শিশু মৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্য।

করাচি, লাহোর এবং ইসলামাবাদের একদল তরুণ প্রতি রোববার মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাবারের সন্ধানে বের হন। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তারা উদ্বৃত্ত খাবারটুকু নিয়ে আসেন এবং কয়েক শত অনাহারী পরিবারকে তারা এই খাবার দিয়ে সহায়তা করেন। আনাম আফ্রিদি নামের এক রবিনহুড বলেন, ‘যারা নিজেরা জানে না যে পরবর্তী বেলায় তাদের খাবার জুটবে কি জুটবে না, আমরা চেষ্টা করি খাবারটুকু তাদের কাছে পৌছে দিতে।

বর্তমানে রবিনহুড আর্মি পাঁচটি দেশে কাজ করছে। পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় রবিনহুড আর্মির সদস্য সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। আর এই তিন হাজার সদস্য পাঁচটি দেশের মোট ৫০ হাজার মানুষের মুখের খাবার জোগান দিয়ে আসছেন। সংঘাতময় এই পৃথিবীতে আজও রবিনহুডেরা বেঁচে আছে বলেই হয়তো, মানুষ আজও আশা করে বেঁচে থাকেন। প্রতিদিন একই সূর্যকে সাক্ষী রেখে দিন শুরু হলেও হাজারো অনিশ্চয়তার মাঝেও মানুষ যে তার প্রিয় জীবন নিয়ে আগামীর পথে হেটে যাচ্ছে, এটাই প্রমাণ করে মানুষ একদিন শান্তি স্নিগ্ধ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button