জাতীয়

ইসলামের সম্মান উচ্চতায় নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে

ঢাকা, ২২ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা যেন এই শান্তির ধর্মের সম্মান উচ্চতায় নিতে পারি, সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ জন্য জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যা যা করণীয়, বাংলাদেশ সরকার তাই-ই করবে।

বুধবার ১০ম জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা  বলেন, সৌদি আরব জঙ্গি-সন্ত্রাস দূর করার জন্য যে ইসলামী জোট করেছে সেই জোটে  বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৪০টি দেশ এতে যুক্ত হওয়ার ফলে আজকে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই  সুযোগে বাংলাদেশও আছে।

তিনি বলেন, ওআইসিতে আমি যতবারই গিয়েছি এই প্রসঙ্গটা তুলেছি এবং আবেদনও করেছি। মহাসচিবের সাথে দেখা হয়েছে, আমি এ কথাটা বলেছি। তবে সৌদি আরব একটা উদ্যোগ নিয়েছে। আপনারা জানেন  জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস দূর করার জন্য একটি ইসলামী জোট করেছে। সেই জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে।

শহীদুজ্জামান সরকারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী গত ৩-৭ জুন সৌদি আরব সরকারি সফরের প্রসঙ্গে বলেন, জবাবে শেখ হাসিনা তার সৌদি আরবের সফর সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের অফুরন্ত সুযোগ জেনে আনন্দিত হন এবং তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সবশেষে আমার উপস্থিতিতে সৌদি আরবের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে দক্ষ অদক্ষ শ্রমিক নেওয়ার জন্য সেনাকল্যাণ সংস্থার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মরক স্বাক্ষর করেন। মাইন ক্লিয়ারিং, প্রশিক্ষণ ও সামরিক স্থাপনা নির্মাণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও বিভিন্ন পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সফরের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব গতি বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের এই সফর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নারীর ক্ষমতায়নে সফলতা মুসলিম বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে সৌদি নেতৃবৃন্দ মত প্রকাশ করেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের এই নতুন সম্পর্কের ফলে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশে গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে ও ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বলতর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই সফর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ভ্রাতৃপ্রতিম দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনবে। এই সফরের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে আওয়ামী লীগ সরকারের দুরদর্শী নেতৃত্ব পূর্ণ স্বীকৃত হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য সামশুল হক চৌধুরীরপ্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি রক্ষায় দক্ষিণ এশিয়াসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অর্জনকে সমুন্নত রাখতে আমরা বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও নৈরাজ্যমুক্ত একটি শান্তির আবাসভূমিতে পরিণত করতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।

এ লক্ষ্যে আমরা পেট্রোলসহ অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যের অপব্যবহার এবং সকল ধরনের অস্ত্রের বিস্তার রোধে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাব।

এর পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের যেকোনো শুভ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে আমরা একযোগে কাজ করে যাব।

এ সময় বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় ভাবমূর্তি বজায় রাখতে দেশের সব নাগরিককে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংরক্ষিত নারী এমপি বেগম আখতার জাহানের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার যেহেতু একটি রূপকল্প-২০২১ সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে। এ কারণে তার দৃষ্টি কেবল এক বছরে সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি বলেন, ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৪-তে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথম সারির উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে উন্নীত করার রূপরেখা অংকিত হয়েছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button