রাজনীতি

হাসিনাই জঙ্গিস্রষ্টা, দাবি রিজভীর

ঢাকা, ২২ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

নিজেই জঙ্গি সৃষ্টি করে তাদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ খেলা’র এক অভিনব রণকৌশল আবিষ্কার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দাবি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর।

কেন এ কৌশল? রিজভী মনে করেন, গণতন্ত্রের জন্য কেউ যাতে আওয়াজ করতে না পারে সেজন্যই এটা করছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (২২ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা ওই কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘জঙ্গি দমনের নামে গণগ্রেপ্তারের পাশাপাশি ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ডের হিড়িক পড়েছে। আইন ও জনমতের তোয়াক্কা না করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা মানুষ হত্যার নেশায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা জানে, দেশের প্রচলিত কোনো আইনই তাদের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারবে না। তাদের সকল অপকর্মের রক্ষাকবচ হচ্ছে, বর্তমান জনসমর্থনহীন সরকার।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা সংঘটিত এই সমস্ত হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে চালানো হচ্ছে। প্রতিদিনকার এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে সারা জাতি যেন আতঙ্কে চমকে উঠছে।”

‘প্রতিদিন বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যাকাণ্ডে জনগণের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র সন্দেহ। রহস্য ভেদ করে সরকারের ষড়যন্ত্র ও কুবুদ্ধি প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। অথচ জঘন্য খুনিরা সুষ্ঠু বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়ে উপযুক্ত শাস্তি পাবে, এটাই হচ্ছে আইনের শাসনের বিধান’, বলেন রিজভী।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘জঙ্গি কিংবা অন্য কোনো অপরাধীই হোক, সরকারের জিম্মায় তারা খুন হয় কিভাবে? বন্দি মানুষ বন্দুক-গোলাবারুদ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেবে কিভাবে?’

‘বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত আসামি খুন হয় কিভাবে? যেখানে বন্দুকযুদ্ধ হয়, সেখানে যুদ্ধের ডামাডোল কিংবা বন্দুকের শব্দ আশপাশের মানুষ শুনতে পায় না কেন?’ এ প্রশ্নগুলোও করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ মহাসচিব।

রিজভী মনে করেন, এসব প্রশ্ন শুধু দেশের মানুষ ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অধিকার গ্রুপের নয়, এখন এই প্রশ্ন করছেন স্বয়ং জঙ্গি হামলায় প্রাণহারানো সন্তানের পিতারাও।

বন্দুকযুদ্ধের নামে পুলিশের যে বক্তব্য মানুষ আর বিশ্বাস করে না, মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘এগুলোকে তারা ঠান্ডা মাথার খুন বলেই বিশ্বাস করে। এমনকি সরকারের একজন মন্ত্রীও বলেছেন, পুলিশ ব্যর্থ হয়ে ক্রসফায়ার দিচ্ছে। প্রকৃত জঙ্গি ধরতে ব্যর্থ হয়ে এবং চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেদারসে ক্রসফায়ার দিচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এতে প্রতীয়মান হয়, পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ সত্যকে চেপে রেখে ন্যায়কে কবর দেয়া। প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সহায়তা করা। সরকার কোনো গভীর সত্যকে লুকোতে চেষ্টা করছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘জঙ্গিদের দিয়ে খুনোখুনি করিয়ে দেশে একটি সাজানো অস্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাচ্ছেন, যাতে তার মখমলের সাধের গদির দিকে গণতান্ত্রিক শক্তি ধেয়ে আসতে না পারে।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন-অর রশিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সম্পাদক কাজী রফিক, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার বসু (মিন্টু) প্রমুখ।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button