লাইফস্টাইলস্বাস্থ্য

অন্ত্রের কৃমি স্বাস্থ্যের উপর যে প্রভাব ফেলে

ঢাকা, ২৬ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

আন্ত্রিক পরজীবী প্রধানত দুই ধরণের হয় যেমন- হেলমিন্থ ও প্রোটোজোয়া। হেলমিন্থ হচ্ছে কৃমি যাদের দেহ অনেকগুলো কোষের সমন্বয়ে গঠিত। হেলমিন্থ মানবদেহে সংখ্যা  বৃদ্ধি করতে পারেন। প্রোটোজোয়ার দেহ মাত্র ১ টি কোষ নিয়ে গঠিত এবং এরা মানবদেহে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে  পারে। এরা মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। সংক্রমিত ব্যাক্তির মলের সংস্পর্শে যেমন- দূষিত মাটি, খাদ্য বা পানির মাধ্যমে অন্ত্রের পরজীবী ছড়িয়ে পরে।  পরজীবীরা বছরের পর বছর অন্ত্রে বাস করে কোন লক্ষণ প্রকাশ করা ছাড়াই। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, ভারতের ১-১৪ বছর বয়সের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে অন্ত্রের কৃমিতে আক্রান্ত হওয়ার যা সয়েল ট্রান্সমিটেড হেলমিন্থ নামে পরিচিত। এমনকি বড়দেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চলুন অন্ত্রের কৃমিতে আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিই যার মাধ্যমে প্রারম্ভিক অবস্থাতেই রোগ শনাক্ত করে নিরাময়ের ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে।

১। পায়ুর চুলকানি

আপনার শিশু কি অনবরত পায়ু অঞ্চলের চুলকানিতে ভুগে? যদি বিশেষ করে রাতের বেলায় চুলকায় তাহলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান আপনার সন্তানকে অন্ত্রের কৃমি থেকে মুক্ত করার জন্য।

২। অনেক বেশি ওজন কমে যাওয়া

পরজীবীর সংক্রমণ শরীরকে পুষ্টি গ্রহণে বাধা দেয়। এ কারণে ক্ষুধা কমে যায় ও ওজন হ্রাস পায়।  এছাড়াও মারাত্মক ধরণের প্রোটিনের ঘাটতির ফলে উদরে তরল জমা হয় যাকে অ্যাসসাইটেস বলে।

৩। হজমের সমস্যা

ক্ষুধা কমে যাওয়ার সাথে সাথে পানি গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ম্যালঅ্যাবজরবশন হয় যার ফলে খুদ্রান্তে খাদ্য উপাদানের অসম্পূর্ণ শোষণ হয়। এ কারণে ডায়রিয়া বা আমাশয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যতে ভোগার সমুহ সম্ভাবনা দেখা দেয়।

৪। নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

ভিটামিন বি ১২ এবং জিংক এর ঘাটতির ফলে মুখে নোংরা স্বাদ তৈরি হয়। এছাড়াও এসিডের প্রতিপ্রবাহের জন্য অন্ত্রের এসিড উপরের দিকে উঠে আসার ফলে মুখে খারাপ স্বাদ ও গন্ধ তৈরি  হয়।

৫। অ্যানেমিয়া

অনেক মানুষই জানেন না যে পরজীবী কীট ইনফ্লামেশন ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ত কমে যাওয়ার কারণ। কেননা পরজীবীরা রক্ত ও টিস্যু খেয়ে জীবন ধারণ করে। ফলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রোগ অ্যানেমিয়া হয়।

এছাড়াও আরো যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তা হল – পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, গ্যাস হওয়া, পেট ফাঁপা, ক্লান্ত অনুভব করা ও মলের সাথে কৃমি বাহির হওয়া ইত্যাদি।

কারণ :

–   পরজীবী আছে এমন স্থানে বাস করা

–   আন্তর্জাতিক ভ্রমণ

–   দরিদ্র স্বাস্থ্যব্যবস্থা (খাদ্য ও পানি উভয়ের ক্ষেত্রে)

–   বয়স : শিশু ও বয়স্কদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

–   চাইল্ড কেয়ারে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে

–   রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে

–   এইচআইভি বা এইডস

চিকিৎসা :

চিকিৎসক অন্ত্রের কৃমিনাশক ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেবেন। সতর্কতার সাথে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঔষধ সেবন করতে হবে না হলে ঔষধ সঠিকভাবে কাজ করবেনা। তাছাড়া ফল, জুস, দুগ্ধ জাতীয় খাবার এবং চিনি খাওয়া এড়িয়ে যেতে হবে তবে মধু ছাড়া। কাঁচা রসুন, কুমড়ার বীজ, ডালিম, বীট ও গাজর খান কারণ এগুলো পরজীবী ধ্বংস করতে সাহায্য করে। প্রচুর পানি পান করুন। কৃমি মুক্ত হতে বেশি করে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button