আন্তর্জাতিক

কৃত্রিমভাবে রক্ত তৈরি করছে জাপান

ঢাকা, ২৭ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

রক্তদান জীবন দান। তবে আর বোধহয় ‘দান’-এর উপর নির্ভর করে থাকবে না রক্তের সংগ্রহ। কারণ জাপানের পরীক্ষাগারে কৃত্রিম উপায় তৈরি হচ্ছে রক্ত। যা অচিরেই গোটা বিশ্বে রক্তের সংকট মেটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রক্তের সংকট গোটা পৃথিবীতেই একটা জ্বলন্ত সমস্যা। বিভিন্ন ধরনের চিকিত্সা সংক্রান্ত কাজে প্রতিদিন সারা বিশ্বে যত রক্তের চাহিদা থাকে, সে তুলনায় রক্ত সংগ্রহের পরিমাণ নেহাতই নগণ্য।

জাপানেও এই সমস্যা যথেষ্ট। বিশেষ করে জাপানে জনসংখ্যা কমছে হু হু করে। এই দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৫%-এর বয়স ৬৫-র ওপরে। ২০১০-এর মধ্যে জাপানের মোট জনসংখ্যা ৮৩ মিলিয়নে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনসংখ্যা কমে যাওয়ার আরও একটি আশঙ্কার দিক হল রক্তদাতার সংখ্যাও কমে যাওয়া। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই পরীক্ষাগারে কৃত্রিম ভাবে রক্ত তৈরির কাজ শুরু করেন জাপানি বিজ্ঞানীরা।

এই কর্মযজ্ঞের প্রধান গবেষক গেঞ্জিরো মিওয়া ২০০৮-এই কৃত্রিম ব্লাডব্যাঙ্কের বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেন। সেই থেকেই কৃত্রিম ভাবে প্লেটলেট তৈরির জন্য গবেষণা শুরু করেন তিনি।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে এই গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি। কৃত্রিম প্লেটলেট তৈরির জন্য তার কোম্পানি মোগাকারিয়ন ২০১১-য় গঠিত হয়।

তবে এখনও পর্যন্ত প্রযুক্তিগত এবং ম্যান পাওয়ার অনুযায়ী, যে পরিমাণ কৃত্রিম রক্ত তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, প্রয়োজনের তুলনায় তা নেহাতই নগন্য। প্রতি দু-সপ্তাহে মাত্র কয়েক ইউনিট রক্ত তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে শুধু জাপানেই বছরে আট লক্ষ ইউনিট রক্ত লাগে।

জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সহযোগিতায় কৃত্রিম রক্তের উত্পাদন আরও বাড়াতে চাইছে মোগাকারিয়ন। ২০২০-র মধ্যেই গণ উত্পাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় রক্ত বিনিময়ের মাধ্যমে এইডস-এর মতো যে সব মারণ অসুখ ছড়িয়ে পড়ে, তার থেকেও মুক্তি সম্ভব হবে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button