জাতীয়

‘মূল পরিকল্পনাকারী’কে গ্রেফতারের দাবি

ঢাকা, ০১ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

মাদারীপুরের সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় একই বিভাগের প্রধান কাজী বেলায়েত হোসেনের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ জামিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট সাইফুল্লাহকে গ্রেফতার করে।

তাকে রিপন চক্রবর্তী হত্যাচেষ্টার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ বলে দাবি করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (জনসংযোগ) মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, কলেজ শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ সাইফুল্লাহকে বৃহস্পতিবার রাতে ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রেফতার সাইফুল্লাহর পরিচয় ও সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।

তবে জামিলের পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর বড় মসজিদে রমজানে তারাবির নামাজ পড়াচ্ছিল জামিল। সেখান থেকে তাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়।

সাইফুল্লাহ মাদারীপুরের সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান কাজী বেলায়েত হোসেনের ছেলে। তিনি ফরিদপুরের মার্কাজ মাদ্রাসার সরহে বেকায়া বিভাগের ছাত্র।

সাইফুল্লাহর মামা গোলাম রসুল মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, সাইফুল্লাহকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেলে মসজিদের মোয়াজ্জিন আমাকে খবর দেন। আমি সড়কে ছুটে গিয়ে দেখি একটি পুলিশের পিকআপ ও একটি সাদা মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে আছে। আমার পরিচয় জানতে পেরে আমাকেও তুলে নিয়ে মাদারীপুরে আসে। সাদা পোশাকের পাশাপাশি পোশাক পরা পুলিশ সদস্যরাও গাড়িতে ছিলেন। মাদারীপুর সদর থানার এসআই বারেক করিম হাওলাদার ওই অভিযানে ছিলেন।

মাদারীপুর আসার পর তারা আমাকে নিয়ে সাইফুল্লাহদের বাসায় অভিযান চালায়। এরপর রাত ৩টার দিকে জজকোর্টের সামনে পারভেজ, সাজ্জাদ ও আমাকে ছেড়ে গাড়ি দুটি চলে যায়।

গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে সাইফুল্লাহর বাবা কাজী বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় আমরা জানতে পারছি না তিনি কোথায় কি অবস্থায় আছেন।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ মসজিদ থেকে কোনো মাদরাসাছাত্রকে আটক করেনি। পুলিশ পরিচয়ে কেউ আটক করছে এমন অভিযোগও পুলিশের কাছে নেই।’

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন মাদারীপুরে প্রভাষক রিপনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা হয়। ওই সময় জনতার হাতে আটক গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম তিন দিন পর পুলিশ রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

পুলিশ জানায়, ফাহিম নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষক হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button