রাজনীতি

বিডিআর এখন বাঘ থেকে বিড়ালে পরিণত হয়েছে

ঢাকা, ০১ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

পিলখানা ট্রাজেডির সঠিক তদন্ত ও বিচার হয়নি উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আজকে বিডিআর নেই। মায়ানমারের (মিয়ানমার) মতো দেশ আজ আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরে। কিন্তু বিডিআর একটা গুলিও মারতে পারে না? বিডিআর আজকে বাঘ থেকে বিড়ালে পরিণত হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে সেরিনা হোটেলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া। মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এতে সভাপতিত্ব করেন।

ইফতারে উপস্থিত সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখাানে সেনাবাহিনীর সাবেক অনেক কর্মকর্তা রয়েছে। কিন্তু বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলে না। জোরে কথা বলেন। হাসিনা ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। এর কি তদন্ত হয়েছে ঠিকমতো? কোনো সঠিক তদন্ত হয়নি, কোনো বিচার হয়নি। এর সঙ্গে কারা জড়িত, আমরা জানি। যদি সাহস থাকে, এগুলো বলা উচিত। সাহস করে এগুলো বলবেন।’

বিডিআরের ৫৭ জন অফিসারকে শেষ করে দেয়া হয়েছে, বাকিদের অবসরে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে বিডিআর নেই। এর নামও বদলে দেয়া হয়েছে। এরা এক সময় বাঘ ছিল। কিন্তু এখন বাঘ থেকে বিড়াল হয়েছে। তাদের হাতে বন্দুক আছে, কিন্তু গুলি মারে না। অথচ দেশের মানুষকে বললে গুলিটা পট করে চালিয়ে দেবে। আজকে মায়ানমারের মতো দেশ আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে, হেলিকপ্টার নিয়ে ঘুরে। কিন্তু বিডিআর একটা গুলিও মারতে পারে না? কেন পারে না? সীমান্তেও তারা গুলি মারতে পার না, কিন্তু কেন? বিডিআর আজকে বাঘ থেকে বিড়ালে পরিণত হয়েছে।’

দেশ পুলিশী রাষ্ট্র হয়ে গেছে উল্লেখ করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা আজকে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের মারছে। পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। সাঁড়াশি অভিযানের নামে ১৬ হাজার লোককে তারা কারাগারে ঢুকিয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ৪ হাজার নেতাকর্মী আছে।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ সাহেব সত্য ভাষায় কথা বলেন। উনি ভালো কথা বলেন, অনেক উপদেশও দেন। কিন্তু উনার সব উপদেশ শুনতে পারি না। কিছু শুনি, কিছু শুনতে পারি না। কারণ, এখানে পলিটিক্যাল কিছু ব্যাপার আছে। আমি চাই, আপনার মতো আরো যারা আছেন তাদেরকে আপনি নিয়ে আসুন। আমি সকলের সঙ্গে কথা বলবো, সবার কথা শুনবো। যেখানেই বসতে চান আমি বসবো। আমি কথা বলতে রাজি আছি। কারণ, আমাদের সামনে এখন বড় কাজ হচ্ছে, দেশটাকে রক্ষা করা।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ নিয়ে অত্যন্ত ভালো বিতর্ক হয়েছে। অন্যরা আমাদের নিয়ে কথা বলছে। অথচ আমরা কথা বলতে পারি না। কথা বললেই মামলা হবে, ধরে নিয়ে যাবে, গুম হয়ে যাবে। কথা না বললেও হবে। কাজেই গুম-খুনের ভয় করে লাভ নেই। এখন করছে, আবার সুযোগ পেলেই করবে তারা (সরকার)।’

নিজের মামলা সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, ‘হাসিনার ১৫টি মামলা উঠে গেলে, আমার মামলাও উঠতে হবে। কারণ, আমি কোনো অন্যায় ও অবিচার করিনি। কিন্তু দেশে কোনো ন্যায় বিচার নেই।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের এ ইফতার মাহফিলে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে চলতি রমজানে নেতাকর্মী ও অন্যদের সঙ্গে খাালেদা জিয়ার ইফতারের কর্মসূচি শেষ হলো। তিনি নিজে পাঁচটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরসহ বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, ২০ দলীয় জোট শরিক এবং বিএনপি সমর্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের ১২টি ইফতারেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলেম-ওলামা ও এতিমদের সঙ্গে আমরা ইফতার মাহফিল শুরু করেছিলাম। আজ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ইফতারের মধ্য দিয়ে তা শেষ করছি।’

খাালেদা জিয়ার সঙ্গে মূলমঞ্চে একই টেবিলে বসে ইফতার করেন- ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ২০ দলীয় জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button