সাক্ষাৎকার

‘ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার চাই’

ঢাকা, ০১ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

জাতীয় দলের বাইরে থাকা শামসুর রহমান শুভ গত বছরের ২৮ জুন দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘একটি মৌসুম ভালো করতে পারলে আমি আবারো লাইমলাইটে চলে আসব। ঘরোয়া ক্রিকেটে আগামী মৌসুমে আমি আমার নিজের সেরা ক্রিকেট খেলতে চাই। সেরাদের কাতারে নিজেকে দেখতে চাই।’

ক্রিকেটের এক মৌসুম শেষ হয়েছে। সেরাদের কাতারে নিজেকে দেখতে চাওয়া শামসুর রহমান নিজেই সেরা! ২০১৫-১৬ বর্ষপঞ্জিকায় ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার শামসুর রহমান শুভ। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে শামসুর রহমান শুভর ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৪৪ রান।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিগে সর্বোচ্চ সংগ্রাহক রকিবুল হাসানের থেকে পাঁচ ম্যাচ কম খেলে শামসুর রহমানের রান ৫৫৮। জাতীয় ক্রিকেট লিগে ৬ ম্যাচে ৫৭৮ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ৬ ম্যাচে ৫০৮ রান করেছেন শামসুর। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৫টি সেঞ্চুরিও হাঁকিয়েছেন তিনি।

পাক্কা এক বছর একদিন পর আবারো মুখোমুখি শামসুর রহমান শুভ। এক বছরে পর আবারো নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনার কথা জানালেন হার্ডহিটার এ ব্যাটসম্যান। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্যে দেওয়া হলো:

সদ্য শেষ হওয়া ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ কেমন গেল?

শামসুর রহমান:  লিগ ভালো গেছে। তবে আক্ষেপ তো আছেই। সুপার লিগে খেলতে পারলে আরো ভালো হতো। বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতাম। আরো কিছু রান করারও সুযোগ হতো।

গত এক বছরের পারফরম্যান্সের বিচারে আপনি তো সবার সেরা। জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের রান মিলিয়ে আপনি তো সবার থেকে বেশি রান করেছেন?

শামসুর রহমান : এটা আমার জানা ছিল না। যে রান করেছি, সেটা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো পারফরম্যান্স হয়েছে। এরকম একটি মৌসুমই চাচ্ছিলাম, যেখানে আমি অনেক ভালো করব। তবে আমার মতে ২ হাজার রান হলে আরো ভালো হত।

 ২ হাজার রানের কি সুযোগ ছিল? 

শামসুর রহমান :  ২ হাজার রানের সুযোগ অবশ্যই ছিল। অল্প কিছু রান লাগত। সুপার লিগ যদি খেলতে পারতাম তাহলে হয়ত ল্যান্ডমার্কে পৌঁছানো যেত।

যাই হোক, যেটা হয়েছে সেটাতে কি সন্তুষ্ট না?  

শামসুর রহমান : অবশ্যই সন্তুষ্ট, আলহামদুল্লিাহ। যেভাবে চাচ্ছিলাম, ঠিক সেভাবেই সব কিছু হয়েছে।

 ভালো করার কি আরো জায়গা ছিল?

শামসুর রহমান :  ভালোর তো শেষ নেই। অবশ্যই ভালো করার জায়গা ছিল। যে ভুলগুলো করেছি, যে শটগুলো খেলে আউট হয়েছি, সেসব জায়গায় আরেকটু মনযোগ রাখতে পারলে ভালো হতো।

গত মৌসুমে আপনার পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। এই এক বছরে আপনার শীর্ষে ওঠার পেছনের গল্প যদি বলতেন। বলতে চাচ্ছি আপনার কষ্ট, ত্যাগের কথা।

শামসুর রহমান :  আমি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর আলাদা কোনো অনুশীলনের সুযোগ পাইনি। ফিটনেস ট্রেনিংয়েও যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। সে সময়ে আমাদের এখানে প্রচুর আন্তর্জাতিক ম্যাচও হচ্ছিল। এজন্য চাইলেও মিরপুর স্টেডিয়াম ও একাডেমিতে যখন-তখন অনুশীলন করা যেত না। সিডিউল করা থাকত অনেক আগে থেকে। তবুও সময়-সুযোগ বের করে একাডেমিতে অনুশীলন করেছি। অফ সিজনে প্রচুর অনুশীলন করেছে। নেটে প্রচুর সময় দিয়েছি।

আপনি তিনটি লিগের একটিতেও টপ স্কোরার নন। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে আপনি প্রতিটিতেই ভালো করেছেন?

শামসুর রহমান : জাতীয় লিগে টায়ার-১ এ আমি টপ স্কোরার। শাহরিয়ার নাফিস টায়ার-২ এ টপ স্কোরার ছিল। যদি আলাদা করে বিবেচনা করা হয় তাহলে আমি টায়ার-১ এর সেরা স্কোরার। তবে যৌথভাবে আমি দুইয়ে আছি। বিসিএলে ভালো খেলেছি, ওয়ালটনকে চ্যাম্পিয়ন করেছি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়েই যত আফসোস। ওটা আরেকটু ভালো হলে ষোলোকলা পূর্ণ হত।

আপনি বলেছিলেন, জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করতে পারলে ভালো হতো। সে সুযোগ তো পাননি!

শামসুর রহমান : হ্যাঁ উনাদের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করতে পারলে অবশ্যই ভালো হতো। কারণ, আমার যে ভুলগুলো হতো, সেগুলো তাৎক্ষণিক শুধরে নিতে পারলে খুবই ভালো হতো। আমি অনুশীলন করেছি একা একা। সে সময়ে ভালো কোচের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারলে অনেক ভালো হতো।

এ সময়ে বিশেষ কারো কাছে অনুশীলন করেছেন?

শামসুর রহমান :  আমি আমার নাজমুল আবেদীন ফাহিম স্যারের কাছেই অনুশীলন করেছি। উনার কাছেই বেশি সময় দিয়েছি। উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। জাতীয় দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গেও ফোনে দুই-একবার কথা হয়েছে। টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে যেসব সমস্যা হচ্ছিল হাথুরুসিংহের সঙ্গে সেসব নিয়ে কথা বলেছি। উনি ফাহিম স্যারকে কীভাবে কী করতে হবে সেগুলো বলে দিয়েছেন। সেই মোতাবেক আমি কাজ করেছি।

এক কথায় হাথুরুসিংহে আপনাকে টিপস দিয়েছেন?

শামসুর রহমান : জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার আগে উনি আমাকে নিয়মিত নেটে দেখতেন। টেকনিক্যাল কী সমস্যা হচ্ছে, সেগুলো উনাকে বলার পর উনি আমাকে টিপস দিয়েছেন। সেগুলো নিয়ে আমি কাজ করেছি।  

এখন পরিকল্পনা কী?

শামসুর রহমান :  সবাই দিন শেষে তার কাজের মূল্যায়ন চায়। আমিও চাচ্ছি। আমি যেহেতু ভালো খেলেছি, তাই আমি চাচ্ছি পুরস্কার পেতে। ‘এ’ দলে ফিরতে চাই। জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য আশা করি নির্বাচকরা আমাকে মূল্যায়ন করবেন। এখনই জাতীয় দল নিয়ে চিন্তা করছি না। ক্যাম্পে থেকে আরো ভালোভাবে নিজের ভুলগুলোকে শুধরে নিতে পারলে আমার নিজের জন্যে ভালো হবে। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে জাতীয় দলে ফিরতে চাই।

যদি ‘এ’ দল কিংবা জাতীয় দলের ক্যাম্পে নিজেকে দেখতে না পান। তাহলে কি হতাশ হবেন?

শামসুর রহমান :  অবশ্যই হতাশ হব। পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলে আমার আবারও জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে। আমি দেশের হয়ে কিছু করতে পারব।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button