অর্থ ও বাণিজ্য

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে সরকার চিন্তিত: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ০৩ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশের প্রেক্ষাপটে সরকার উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাজেট অধিবেশনের বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে সেই সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ এবং ‘কনসার্ন’ প্রকাশ করেছেন। সেজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংক সেক্টরে যে লুটপাট হচ্ছে এটা নিয়ে খুবই চিন্তিত এবং এটা যাতে না হয় তার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। হ্যাঁ, আমরা টাকার দায়িত্ব নিয়েছি। এই টাকা গরিব জনগণেরও হতে পারে আবার ধনী জনগণের হতেও পারে। এই টাকা লুটপাট হওয়াতে জনগণের অসুবিধা হয়। রাষ্ট্র জনগণের অসুবিধা করতে দিতে পারে না। এজন্য রাষ্ট্রই এর দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং করছে।

মন্ত্রী বলেন, দুদকে বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে সবগুলো মামলা এখনো হয়নি। এই রিপোর্টটা দুদকের কাছে আছে। আস্তে আস্তে মামলা হচ্ছে এবং আপনারা নিশ্চিত থাকেন, যেসব লোকের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে এবং তদন্তে দোষ প্রমাণিত হয়েছে তাদের

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় জাতীয় পার্টির নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ ব্যাংক খাতের অনিয়ম নিয়ে বলেন, রাস্তাঘাটে জনগণের টাকা ছিনতাই বন্ধ করেছে পুলিশ। এখন ব্যাংকগুলোতে ছিনতাই হচ্ছে- অর্থমন্ত্রীকে এটা বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত হচ্ছে এখন লুটপাটের জায়গা। যে যত পারে লুটপাট করছে, আর ফেরত দিতে হচ্ছে না। তারা লুটপাট করবে আর আমরা টাকা দেব- এটা তো হতে পারে না।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ২ হাজার ৫২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে অব্যবস্থা তাতে তাদের টাকা দেওয়ার কোনও মানেই হয় না। এখানে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা লুটপাট হলে যে ক্যাপিটাল ঘাটতি হচ্ছে, সেটা জনগণের টাকা দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে, সারা জীবন এভাবে চলতে ‍পারে না।

ব্যাংক খাতে ‘লুটপাট’ ও সংসদ সদস্যদের এই উদ্বেগ দেখে অর্থমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে সব মামলা এখনও হয়নি। এই রিপোর্টটি দুদকের কাছে আছে। তবে আপনারা নিশ্চিত থাকেন, যেসব লোকের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়েছে তাদের সকলকেই দুদক মামলার আওতায় নিয়ে আসবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়েও গত কয়েক বছর ধরে সমালোচনার মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। এই দুটি ব্যাংকের অনিয়মও দুদক তদন্ত করছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button