জাতীয়

বোনাস দিয়েই বোনাস শেষ

ঢাকা, ০৩ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

ঈদের সময়টাতে সবাই বাড়তি কিছু চায়। সেই চাওয়াটা হতে পারে নতুন জামা-প্যান্ট-শাড়ি-পাঞ্জাবি অথবা শখের গাড়ি। নগরবাসীদের কেউ কেউ আবার ঈদকে ঘিরে নতুন ফ্ল্যাট বাড়িও নিয়ে থাকেন। তবে বরাবরই সব কিছুকে ছাপিয়ে ‘ঈদ সেলামি’ ঈদ উদযাপনের বড় অংশ জুড়ে থাকে। বড়দের কাছ থেকে ছোটরা ঈদ সেলামি নেয়। তেমনই অফিসের বড়কর্তার কাছ থেকেও সেলামি গ্রহণ করেন সাধারণ কর্মচারীরা।

এতে যতটা আনন্দ ঠিক যেন ততটাই বিড়ম্বনাও। ঈদ বোনাস দিতে দিতে সেই বিড়ম্বনার কথাই জানালেন অনেকে। রিকশা, বাস, মোবাইলের দোকান এমনকি সেলুনে চুল কাটতে বসেও যে তাদের ‘বোনাস’ বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে যে কথাই উঠে এসেছে অনেকের মুখে।

ঘড়ির কাঁটা সকাল সাড়ে ৮টা ছুঁইছুই। মিরপুরে অফিস যেতে পল্টন থেকে নিউ ভিশন পরিবহনের একটি গাড়িতে উঠেছেন আলমগীর হোসেন। বাসের ভাড়া জনপ্রতি ২৪ টাকা হলেও দিতে হলো ৩০ টাকা করে। ঈদ বোনাস হিসেবে সবার কাছে থেকেই এ বাড়তি ভাড়া আদায় করছিলেন বাসের কন্ট্রাকটর।

বিকেলে আলমগীর অফিস থেকে বের হওয়ার সময় গেটে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরাও চেয়ে বসলো ঈদ বোনাস। এর আগে সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ডে যেতে রিকশাচালককেও দিতে হলো ১০ টাকা বেশি।

শুধু আলমগীর নন, এমন বোনাস বিড়ম্বনায় রাজধানীর অনেকেই। ঘর থেকে বের হওয়ার পর ফেরা পর্যন্ত সব কাজেই দিতে হচ্ছে বোনাস। এক টাকার এক গ্লাস পানির জন্যও দিতে হয়েছে এক টাকা বোনাস। আর এ ধরনের বোনাস দিতে দিতে শেষ হতে চলেছে আলমগীরের মতো অনেকেরই ঈদ বোনাস।

আলমগীর হোসেন বাংলামেইলকে বলেন, ‘ছোট একটি কোম্পানিতে স্বল্প বেতনে চাকরি করি। তাই ঈদ বোনাসও কম। কিন্তু ঘরের বাইরে যেভাবে বোনাস দিতে হচ্ছে তাতে বোনাসের সব টাকাই শেষ হওয়ার পথে। অফিসের পিয়ন, লিফটম্যান, নিরাপত্তাকর্মী, বাসার নিরাপত্তাকর্মী, পত্রিকার হকার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গৃহকর্মীসহ প্রায় সবাইকেই দিতে হয়েছে ঈদ বোনাস। বোনাস দিতে হয়েছে লন্ড্রি এবং সেলুনেও।‌’

মোবাইলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় একটি রিচার্জ পয়েন্টে যান রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবু সালেহ সায়াদাত। দোকানদার প্রতি রিচার্জে তার কাছে থেকে ৫ টাকা বেশি নিলেন। ঈদের সময়ে ‘সার্ভিস’ দেয়ার জন্য ‘বোনাস’ হিসেবে সেখানেও তাকে দিতে হয় এই টাকা।

তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘৫০ টাকা রিজার্জ করলাম। কিন্তু দোকানি ৫৫ টাকা রেখে দিয়ে বলল, ভাই ৫ টাকা ঈদ বোনাস।’

রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্ধা মামুনুর রশিদ বাংলামেইলকে বলেন, ‘৫০ টাকার বিনিময়ে বাসা-বাড়ি থেকে গোটা মাসের ময়লা সংগ্রহ করেন পরিচ্ছন্নকর্মীরা। বিকেলে এসব ময়লা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে এ মাসে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ময়লা বিল দিতে হয়েছে ১০০ টাকা।’

প্রায় একই ধরনের বোনাস বিড়াম্বনার বর্ণনা দেন জাকির, তমাল, নজরুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা বলেন, তাদের পরিচিতদেরও একই ধরনের বিড়ম্বনার কথা। রাজধানীর অনেকের কাছেই এখন আতঙ্কের আরেক নাম ‘ঈদ বোনাস’।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button