সাক্ষাৎকার

‘দেশের মানুষের ভালোবাসা আমার প্রেরণা’

ঢাকা, ১৪ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

 

দেশ সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান অলিম্পকে যাচ্ছেন এটা অনেকটা নিশ্চিতই ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে  সোমবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায়। বাংলাদেশের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে সরাসরি রিও অলিম্পিকে খেলবেন সিদ্দিকুর।

অলিম্পিকের জন্য আলাদা র‌্যাঙ্কিং করায় ৫৬তম অবস্থান নিয়ে ৬০ প্রতিযোগীর সঙ্গে অলিম্পিকের মঞ্চে লড়বেন সিদ্দিকুর রহমান। অলিম্পিকে বাংলাদেশের সম্মান রাখা আর খেলাটা উপভোগ করাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু দেশের মানুষের ভালোবাসা সিদ্দিকুরকে দেখাচ্ছে পদকের স্বপ্ন। দেশের মানুষের দোয়া থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়-বলে মনে করছেন সিদ্দিকুর।দেশের মানুষের ভালোবাসাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে অলিম্পিকে ভালো করতে আশাবাদী হয়ে উঠছেন তিনি। স্বপ্নের পদক যদি সত্যিই ধরা দেয় সেটি ‘বাংলাদেশ’কেই উৎসর্গ করবেন বলে জানালেন এ গলফার। অলিম্পিক গেমসকে ঘিরে সিদ্দিকুর তার স্বপ্ন, সম্ভাবনা, প্রস্তুতি, আনন্দ-অনুভূতির কথা শেয়ার করেছেন।

 

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অলিম্পিকে সরাসরি খেলতে যাচ্ছেন। কেমন লাগছে?

সিদ্দিকুর রহমান: আমি সত্যিই খুব আনন্দিত, বাংলাদেশ থেকে সরাসারি অলিম্পিকে সুযোগ পেয়ে। বেশি ভালো লাগছে যে, দেশে গলফ অপরিচিত একটা খেলার নাম সেখান থেকে অলিম্পিকে যাওয়া সত্যিই অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। বাংলাদেশ থেকে অলিম্পিকে যাব, মাঠে নামবো, বাংলাদেশের ফ্ল্যাগ ক্যারি করবো-এগুলো ভাবতেই অবাক লাগছে। এটা আমার জীবনের অনেক বড় পাওয়া।

 

অলিম্পিকে খেলবেন-এমন স্বপ্ন মনের কোনে ছিল?

সিদ্দিকুর রহমান: আমি ছোটবেলা থেকেই অ্যাম্বিশিয়াস , ডেডিকেটেড ছিলাম। মনের ভেতরে কাজ করতো ‘নাথিং ইজ ইমপসিবল।’ লোকালি অনেক ‍টুর্নামেন্ট জিতি। আস্তে আস্তে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। এশিয়ান ট্যুর জিতলাম। তারপর মনে হলো যে কোনো ট্যুরেই খেলা সম্ভব এবং জেতা সম্ভব।

 

পরিবারের মানুষ কতটা খুশি। বিশেষ করে আপনার বাবা-মা?

সিদ্দিকুর রহমান: তারা অনেক খুশি। অলিম্পিকটা কি সেটা জানে তারা। তাদের ছেলে অলিম্পিকে যাচ্ছে-এটা ভেবে তারা অনেক বেশি গর্ববোধ করে। যখন তাদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলি তখন সত্যিই ভালো লাগে।

 

অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া গলফ কোর্সের সেই ‘বলবয়’ আজ অলিম্পিকে যাচ্ছে। স্বপ্নের মতো মনে হয়?

সিদ্দিকুর রহমান: ছোটবেলায় অনেক কষ্ট ছিল, সংগ্রাম ছিল। যদি লক্ষ্য থাকে আর তা বাস্তবায়ন করার জন্য ডেডিকেশন যদি থাকে তাহলে সেটি হয়ে যায়। আমি এটা ভাবি, টাইগার উডস যদি পারে আমি কেন পারবো না। সবাই তো মানুষ। সবাই –ই পারে। আমাদের সবারই দুটো হাত, দুটো পা, দুটে চোখ। আমাদের ইচ্ছাশক্তি হচ্ছে বড়। এটা যদি থাকে কোনো কিছুই অর্জন করা অসম্ভব না।

 

কখন মনে হলো গলফে বড় কিছুই হবে আপনাকে দিয়ে?

সিদ্দিকুর রহমান: আস্তে আস্তে এগিয়েছি। দেশের ভেতর যখন ভালো করতে শুরু করলাম তখন থেকে। এর পর ২০১০ সালে প্রথম এশিয়ান ট্যুর জয় ক্যারিয়ারের মোর ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন যেখানে আছি র‌্যাঙ্কিংয়ে হয়তো আরও উপরে উঠে আসবো। এভাবে ধাপে ধাপে সাফল্য আসে। সাফল্যের সঙ্গে লক্ষ্যও বড় হতে থাকে।

 

রিও ডি জেনিরোর গলফ র্কোসে নামবেন আগামী ১১ আগস্ট। এক মাসেরও কম সময়। নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত করছেন?

সিদ্দিকুর রহমান: রুটিন অনুযায়ী অনুশীলন করবো ২৪ জুলাই থাইল্যান্ডে যাবো প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট কিংস কাপ খেলতে।  ১ আগস্ট দেশে ফিরে পরদিন ব্রাজিলের ফ্লাইট ধরবো। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। একজন ওয়ার্ল্ডক্লাস প্লেয়ার  যতটা  করে। বাকিট আল্লাহর ইচ্ছা।

 

কন্ডিশন নিয়ে কোনো ভাবণা আছে কিনা?

সিদ্দিকুর রহমান: কন্ডিশন নিয়ে আমি চিন্তিত না। গরম হলেও অসুবিধা নেই ঠান্ডা হলেও অসুবিধা নেই। আমি আগেভাগেই যাচ্ছি। মনে হয় না কোনো অসুবিধা হবে। অলিম্পিকের গলফ কোর্সের লে-আউট দেখিনি।  দেখে নেব। সেই অনুযায়ী অনুশীলন করব। সেখানে যারা খেলবেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই খেলেছি। তাই স্নায়ুচাপে ভুগছি না।  আমার মনে হয় সবকিছু মিলে খুব সুন্দর সময় কাটবে ওখানে। আমার মনে হয় যারা অংশ নেবে সবাই খুব এনজয় করবে।

 

গলফে সব প্রথমের সঙ্গেই ‘সিদ্দিকুর রহমান’ নামটা এসে পড়ে। কেমন অনুভূতি হয় তখন?

সিদ্দিকুর রহমান:  আবারো বলি এটা আমার জীবনের অনেক বড় একটা পাওয়া। সরাসরি বাংলাদেশ থেকে অলিম্পিকে সুযোগ পেয়েছি। যেটা আসলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো স্পোর্টসই পায়নি। আমি দোয়া করি হয়তো অনেকেই পাবে। আমি হয়তো প্রথম। এটাকে ইনসপায়ারড হয়ে অন্যান্য স্পোর্টসের প্লেয়ারও সামনে পাবে।

 

অলিম্পকে যদি পদক পেয়ে যান। কেমন হবে ব্যাপারটা?

সিদ্দিকুর রহমান: আমি মনে করি অলিম্পিকে সুযাগ পেয়েছি এটা একটা অর্জন। ইনশাআল্লাহ, আমি অনেক ভালো খেলবো। যদি একটা পদক পাই ওটার আনন্দ তো বলে শেষ  করা যাবে না।  এটা হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এমন হলে সেটি দেশকেই উৎসগ করতে চাই। দেশের মানুষের ভালোবাসা আমার প্রেরণা।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button