ফিচার

একটি ফেসবুক পোস্ট ও দেড়শ মানুষ হত্যা

ঢাকা, ১৪ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

 

২০১৬ সালের বাস্তবতা। অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক কতটা শক্তিশালী! এই প্রশ্নের উত্তর বোধকরি এখন আর বিশ্লেষণ করে বোঝানোর দরকার হয় না যেখানে আরব বসন্তের মতো একটি কথিত অভ্যুত্থান রচিত হয়ে গেল স্রেফ অনলাইনের বদৌলতে। গত দুই দশকেরও অধিক সময় ধরে বিশ্ব মিডিয়াতে যে শূণ্যতা বিরাজ করছিল সেই শূণ্যতার মাঝে, বিশেষ করে ২০১১ সাল পরবর্তী সময়ে গোটা বিশ্বেই সামাজিক খবরের আদান প্রদানের অন্যতম সূত্র হিসেবে আবির্ভূত হয় ফেসবুক। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সবগুলো দেশেই এর প্রভাব দৃশ্যমান হতে থাকে ক্রমশ, আর তথ্য সন্ত্রাসের এক নতুন মাত্রার দিকে এগিয়ে যায় বিশ্ব।

গত দুদিন আগেই সর্বশেষ স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশ দক্ষিণ সুদানে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রায় দেড়শ’র অধিক মানুষ নিহত হয় বা হত্যা করা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট সালভা কির এবং উপ প্রেসিডেন্ট রিয়েক ম্যাচার উভয়ই সংঘর্ষের পর নিজেদের দুই পক্ষের সৈন্যদের লড়াই বন্ধ করার নির্দেশ দেন। দেশটি স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই মূলত প্রেসিডেন্ট এবং উপ প্রেসিডেন্টের মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। যেহেতু দুই পক্ষের হাতেই সেনাবাহিনীর অংশ রয়েছে তাই যে যার অংশ নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পরছে সুযোগ বুঝলেই। কিন্তু সেনাবাহিনীর এই দুপক্ষের সুযোগের বোঝাপড়াতে মারা যায় সাধারণ মানুষ।

২০১১ সালে সুদান থেকে বিভক্ত হয়ে স্বাধীন দক্ষিণ সুদান রাষ্ট্র গঠিত হয়। বিভক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে কূটনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হলেও কয়েক দশকের রক্তপাতের অবসান ঘটে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সুদানের অধিকাংশ মানুষই ধর্মে মুসলিম হলেও, বিভক্ত হয়ে যাওয়া দক্ষিণ সুদানের অধিকাংশই আবার খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশটি তাদের পাঁচ বছরের স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন সেই প্রস্তুতির স্থানে জায়গা করে নেয় গুলি আর গ্রেনেডের শব্দ। কারণ ওইদিনই আবারও পুরনো হিসেব মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের বক্তব্য হলো, উপ প্রেসিডেন্ট তাকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিল। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেবার জন্য ২০১৩ সালে ক্যাবিনেটনহ উপ প্রেসিডেন্ট রিয়েক ম্যাচারকে মন্ত্রীসভা থেকে বের করে দেয়া হয়।

 

সংঘর্ষের ওই সূত্রপাতে এই পাঁচ বছরে কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার মানুষ মারা যায় এবং প্রায় বিশ লাখ মানুষ ভূমিচ্যুত হয়। এছাড়াও বর্তমানে দেশটির প্রায় ৫০ লাখের অধিক মানুষ খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে। সর্বশেষ সংঘর্ষ সম্পর্কে কেনিয়ায় নিযুক্ত দক্ষিণ সুদানের রাষ্ট্রদূত একটি স্থানীয় মিডিয়াকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়েছে ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে।’ গত সপ্তাহেই উপ প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র ফেসবুকে লেখেন, ‘ম্যাচারকে প্রেসিডেন্ট ভবনে আটক রাখা হয়েছে, তিনি সেখানে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলৈাচনা করতে গিয়েছিলেন।’ ওই পোষ্টের ফলে ম্যাচারের অনুগত সেনাসদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং প্রসাদের বাইরে গোলাগুলি করতে শুরু করে। ভাইস প্রেসিডেন্টের বাহিনী যখন প্রাসাদে জোরপূর্বক ঢোকার চেষ্টা করে তখনই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আবার অন্য একটি মিডিয়া বলছে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুদানের রাজধানীর নিকটবর্তী একটি তল্লাসিচৌকিতে ম্যাচার অনুগত কয়েকজন সৈন্যকে হত্যা করা হয় এবং ওই হত্যাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সুদান কি নিরাপদ?
দক্ষিণ সুদান এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে রাষ্ট্র জন্মের পর থেকে আজ অবধি শান্তির ছোয়া লাগেনি। উল্টো দীর্ঘমেয়াদী সাংঘর্ষিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। আর আভ্যন্তরীন বিভেদ প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ও উপ প্রেসিডেন্টের এই দ্বন্দ্বে বহির্দেশীয় শক্তিগুলোও হস্তক্ষেপ করছে না শুধু নয়, অনেকটা চোখ খোলা রেখে নির্বাক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সর্বশেষ দেশটি থেকে কেনিয়া এয়ারওয়েজ তাদের সকল ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছে এবং রাজধানী জুবা থেকে কূটনীতিকদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাসে কর্মরত সকল অপ্রয়োজনীয় কর্মচারীদের অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার জুবা থেকে দুটি বিমান উগান্ডার দিকে যাবে এবং সেই বিমানে করে তাদের দক্ষিণ সুদান ত্যাগের জন্য বলা হয়েছে। এমনকি যুক্তরাজ্য এবং জার্মানিও জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ সুদানে থাকা তাদের দূতাবাসগুলোতে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button