জেলার সংবাদ

ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ছয় গ্রাম প্লাবিত

ঢাকা, ১৮ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গতকাল রবিবার রাতে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে এসব পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ফলে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ফসলের। এদিকে, বন্যাদুর্গত পানিবন্দি মানুষের জন্য ১০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বরিবার জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসানের নির্দেশে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বরাদ্দকৃত চাল তুলে দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবু দাউদ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। এর আগে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের তীরে দৌলতপুরের সেকান্দর মাস্টার বাড়ির পাশে বেড়িবাঁধ ভেঙে উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর, সাহাপাড়া, ঘনিয়ামোড়া, বরইয়া, বসন্তপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। স্থানীয়রা জানায়, বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে বন্যার পানি গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং আশপাশের ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়। গ্রামের রাস্তাঘাট ছাড়াও বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এতে এলাকাগুলোর বীজতলা পুকুরের মাছ- সব ভেসে গেছে। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা। পানিবন্দি জীবনযাপন করছে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন জানান, গত বছরের বন্যায় মুহুরী নদীর বাঁধ যে জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মেরামত করলেও এ বছর মাঝারি বর্ষণে একই জায়গায় বাঁধ ভেঙে এসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানির তোড়ে বাঁধের মুখে কয়েকজনের ঘরবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় বলে জানান তারা। উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিম্নমানের বাঁধ নির্মাণকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে তাঁর এলাকা বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছে। কয়েকবার বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা নিম্নমানের হওয়ায় বন্যা হলেই প্রতিবারের মতো বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় এসব গ্রাম। জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।  বন্যার্তদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী কহিনুর আলম বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে গেছেন। পরিস্থিতি জানার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, “বন্যার্তদের যে কোনো ধরনের সাহায্য-সহায়তা করতে প্রস্তুত প্রশাসন।” তিনি জানান, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সাহায্য হিসেবে জেলা প্রশাসনের বরাদ্দকৃত ১০ মেট্রিকটন চাল ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button