জাতীয়

‘আরভি মীন সন্ধানী’র জরিপ শুরু নভেম্বরে

ঢাকা, ১৯ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সীমানায় মৎস্য সম্পদ জরিপের জন্য মালয়েশিয়া থেকে আনা গবেষণা ও জরিপ জাহাজ ‘আরভি মীন সন্ধানী’ চলতি বছরের নভেম্বরে কাজে নামবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক।

মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘অক্টোবর মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজটি উদ্বোধন করবেন। সেই হিসেবে নভেম্বরে জরিপের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

তিনি বলেন, সরকার বঙ্গোপসাগরে গবেষণা ও জরিপ চালানোর মাধ্যমে মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্যসম্পদের মজুদ ও সর্বোচ্চ সহনশীল আহরণ মাত্রা নির্ণয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।

ছায়েদুল হক বলেন, ‘সে লক্ষ্যে আরভি মীন সন্ধানী নামের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন গবেষণা ও জরিপ জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের জাহাজগুলো কত মিটার গভীরতায় মাছ ধরছে মৎস্য অধিদফতর তা স্থলভাগ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। এ বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতায় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩৩টি ট্রলারে ‘ভেসেল মনিটরিং সিসটেম ডিভাইস’ সংযোজন করা হয়েছে।

২০০ মিটার গভীরতার বাইরে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় টুনা জাতীয় মাছ ধরার জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিতে মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

দেশে বর্তমানে মাছের চাহিদা ৪২ থেকে ৪৩ লাখ মেট্রিকটন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা এক থেকে দেড় লাখ মেট্রিক টন মাছের উৎপাদন বাড়াচ্ছি। সে হিসেবে ২০১৮ সালের মধ্যে মাছের চাহিদা পূরণ হবে।’

বিদায়ী অর্থবছরে ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ১৫ লাখ জেলের নিবন্ধন হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৩ লাখ ৩০ হাজার জেলেকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ৪৮৭ জন নিহত জেলে পরিবারের মধ্যে মোট ২ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

এ বছর মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘জল আছে যেখানে, মাছ চাষ সেখানে’। মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সকালে রাজধানীতে একটি শোভাযাত্রা বের হয়।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বর্তমানে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার টেরিটোরিয়াল সমুদ্র ও ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে বাংলাদেশের অধিকারে।

এক নজরে আরভি মীন সন্ধানী
দৈর্ঘ্য: ৩৭.৮০ মিটার
ব্যয়: ১৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা
অর্থায়ন: ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও মালয়েশিয়া সরকার
ধারণ ক্ষমতা: কাজ করতে পারেন ২৮ জন ক্রু ও গবেষক
মূল ইঞ্জিনের ক্ষমতা: ১৪০০ হর্স পাওয়ার, ১৮০০ আরএমপি

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button