শিক্ষা

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে: ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা, ২১ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক দেশের সাবির্ক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর আহবান জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং এই শূণ্যতার সুযোগে তাদের মনোজগতে জঙ্গিবাদ সহজেই প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হচ্ছে।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চমানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিতে ব্যর্থ হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাতে হবে।

বৃহস্পতিবার

দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপাচার্য আরও বলেন, দেখা যাচ্ছে-রাজধানীতে সাম্প্রতিক দুটি জঙ্গি হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের অধিকাংশই সমাজের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য এবং তারা নগরীর নামী-দামি বিদ্যালয় ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।

বর্তমান টেক্সটবুক ভিত্তিক এবং পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বুদ্ধিবিত্তিশূণ্য শিক্ষা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পিএসসি (প্রাথমিক বিদ্যালয় সার্টিফিকেট ) পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে।

ড. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অতিরিক্ত কারিকুলাম কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিতে প্রাথমিক ও জুনিয়র বিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো টার্মিনাল পরীক্ষা থাকা উচিৎ হবে না।

তিনি ছেলে-মেয়েদের জিপিএ পাবার ক্ষেত্রে বাবা-মার সাধারণ মনোভাবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ কারণে শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে সড়িয়ে রাখছে।

শীর্ষস্থানীয় যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আরেফিন সিদ্দিক শিক্ষা প্রক্রিয়ায় উচ্চ মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দেওয়া হয় এমন দুটি দেশ জাপান ও শ্রীলংকার শিক্ষা পদ্ধতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রবর্তিত শান্তিনিকেতনের শিক্ষা তত্ত্বের উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনার চার পাশের যে পরিবেশ তাকে আপনি আপনার পাঠ্যবই হিসেবে বিবেচনা করবেন।’

আরেফিন সিদ্দিক কর্তৃপক্ষকে দেশে একটি সংস্কার কার্যক্রম শুরুর জন্য এই পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টি দিতে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘জাপানে নবম গ্রেড পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নেই। কারণ তারা মনে করে শিশুদের গতানুগতিক পড়াশোনার চেয়ে অন্যান্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

উপাচার্য, সরকারি-বেসরকারি বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়সহ মাদ্রাসায় পড়ুয়া প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস, সামাজিক মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ করার জন্য একটি অভিন্ন মৌলিক পাঠ্যক্রম চালুর করার পরামর্শ দেন।

সমৃদ্ধিশালী পরিবার থেকে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগের অভাবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় সেখানে জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

উপাচার্য বলেন, কিছু লোক নীতিবহির্ভূত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে তথাকথিত কোচিং সেন্টার সন্তানদের উচ্চ জিপিএ এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পিতা-মাতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে। যা আসলে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য কোনো কাজে আসে না।

তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের সন্তানদের সন্ত্রাসবাদের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে হয়, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থায় ধীরে-ধীরে মানবিক মূল্যবোধ এবং জীবনের একটি মহৎ উদ্দেশ্য তাদের মধ্যে প্রবেশ করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’

লেখাপড়ার পাশাপাশি সন্তানদের বর্হিজগৎ সম্পর্কেও খোঁজ-খবর রাখতে তিনি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান।

 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button