রাজনীতি

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দিবস পালন নিয়ে বিভক্ত আশরাফ-কাদের

ঢাকা, ২৪ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দিবস পালন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের।

শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এমন কথা উঠে আসে বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্য ও শোক প্রস্তাব পাঠ করার পর দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে যে সব কর্মসূচির কথা উল্লেখ আছে তা নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনার প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রে এবং ঘোষণাপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে কোন কোন দিবস পালন করা হবে। এর বাইরেও আমরা কিছু দিবস পালন করি। কিন্তু এ দিবসগুলো বৈঠকের এজেন্ডায় থাকতে পারে না। এসব দিবসের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাও হতে পারে। গঠনতন্ত্রের বাইরে কোনো দিবস কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের এজেন্ডায় আসতে পারে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২১ আগস্টকে আমরা ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা বলব। শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা দিবস বললে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কথা মনে পড়ে যায়। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনও দফতর থেকে সরবরাহ করা ফাইলে এজেন্ডা হিসেবে ছিল।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, কিছু দিবস আছে যেগুলো সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলো পালন করে। এ বিষয়গুলো দফতর সম্পাদককে আরো গভীরভাবে দেখতে হবে।

দলের সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের দফতর বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ও  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দিবসগুলো আমরা প্রতি বছর এভাবেই পালন করে আসছি।

এরপর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বক্তব্য দেয়ার সুযোগ চাইলে বৈঠকের সভাপতি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাদের বসিয়ে দেন।

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু তার বক্তব্যে বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক।

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, গঠনতন্ত্রে যেভাবে বলা আছে সেভাবেই হবে। গঠনতন্ত্রের বাইরের দিবসগুলো বৈঠকের এজেন্ডায় আনার দরকার নেই। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট আর গ্রেনেড হামলা এক না।

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যতই বাধা বিপত্তি আসুক, নির্ধারিত সময়েই দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

এ জন্য গঠনতন্ত্র ঘোষণাপত্রসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে খুলনা মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে অভিযোগ তুলেন কেন্দ্রীয় সদস্য মুন্নুজান সুফিয়ান। এতে প্রধানমন্ত্রী খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হককে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

এছাড়া নওগাঁ ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। তবে নওগাঁ জেলার কমিটিতে তিনটি সদস্য পদ ফাঁকা রয়েছে। আর ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ ও ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button