
রিও ডি জেনিরোতে অলিম্পিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ঢাকা, ২৪ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):
ব্রাজিলে কিছুদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অলিম্পিক গেমসে জিকা ভাইরাসের সতর্কতা থাকলেও দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের কারণে সেই মশার উপদ্রব এখন অনেক কম। তবে আয়োজকদের সামনে আরও অনেক বাস্তব সমস্যা এখনো আছে।
সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর সম্প্রতি রিও ডি জেনিরোতে আবারও সহিংসতা এবং অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়া।
৫ই অগাস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া অলিম্পিকস নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে রিওতে। ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি পেলে ‘আশা’ শিরোনামে একটি গানও গেয়েছেন যেখানে বলা হচ্ছে অলিম্পিককে ঘিরে আনন্দ এবং ভালবাসার কথা।
কিন্তু বাস্তবতা খুবই ভিন্ন। সহিংসতার আশঙ্কায় রিওজুড়ে ৮০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং চলছে নিয়মিত নিরাপত্তা অনুশীলন।
‘আমার কাছে সবচেয়ে বড় হুমকি সন্ত্রাসবাদ। এ ধরণের বড় আয়োজনে এই ভয় সবসময়ই থাকে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বিশেষ কোন হুমকি নেই। আমাদের দীর্ঘ সীমান্ত আমাদের জন্য একটি দুর্বলতা। এটাই আমার প্রথম আশঙ্কা।’ শহরের নিরাপত্তা প্রধান জোসে মারিয়ানা বেলট্রামের মাথায় এখন একটিই চিন্তা।
দক্ষিণ আমেরিকায় সর্বশেষ বড় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল ২২ বছর আগে বুয়েনোস আয়রেসে। যদিও অলিম্পিকস ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোন হুমকি নেই, তবে কিছুদিন আগেই তথাকথিত আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ এবং সন্ত্রাসী আক্রমণের পরিকল্পনার অভিযোগে দক্ষিণাঞ্চলে ১২ জনের একটি দল ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
রিওজুড়ে এখন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
অলিম্পিকসের আঞ্চলিক সমন্বয়ক ক্রিশ্চিয়ানো বারবোসা সাম্পায়ো বলেন, ব্রাজিলের ১৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকলেও এখানে আঘাত করাটা সহজ হবে না।
‘যেসব দেশ এ ধরণের বড় আয়োজন করেছে, গত কয়েক বছরে তার সবগুলোতে আমরা গিয়েছি। আমরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছি। সন্ত্রাসবিরোধী উন্নত সকল প্রযুক্তিই আমরা ব্যবহার করছি। ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইংল্যান্ডে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে আমরাও সেগুলোই ব্যবহার করছি। সারাবিশ্বের অভিজ্ঞতা আমরা এই ব্রাজিলে কাজে লাগাচ্ছি।’
যদিও বড় কোনো সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা খুবই কম, তবে বিপদজনক শহর হিসেবে রিও-র দুর্নাম রয়েছে। রিও-র ফাভেলা বা বস্তি এলাকার কিছু অংশ পড়েছে অলিম্পিক ইভেন্ট হবে এমন সমুদ্র সৈকতের খুব কাছে। কয়েক বছর নিশ্চুপ থাকার পর এই বস্তিগুলোতে সহিংসতা আবার বেড়েছে। বিভিন্ন মাদক চোরাচালান গোষ্ঠির নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব এলাকায় রাতভর নিরাপত্তা বাহিনী টহল দেয়।
‘অলিম্পিক গেমস খুব শান্তিতেই পার হবে। হয়তো ডাকাতি, মাদক ব্যবসা কিংবা গাড়ি দুর্ঘটনার মত কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু উচ্চমাত্রার কোনো ঝুঁকি এখানে নেই। মাদক ব্যবসায়ী গোষ্ঠিগুলোর উদ্দেশ্য অবৈধ মাদক বিক্রি করা, তারা জননিরাপত্তায় হুমকি তৈরি করবে না। সমস্যা মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি’, বলেন ল্যাফটেন্যান্ট কার্লোস ভেগাস। তিনি ফাভেলা এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
যদিও ২০ বছর আগের তুলনায় রিও এখন অনেক নিরাপদ। তবে ২০০৯ সালে যেই দ্রুত উন্নয়নশীল এবং আত্মবিশ্বাসী শহরকে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এখন সেই অবস্থা রিও-র নেই।
এখন এই শহরটি যদি বড় কোনো সমস্যা ছাড়া অলিম্পিকসের পুরো সময়টি পার করতে পারে, তাহলে সেটিও হবে শহরটির জন্য একটি বড় অর্জন।