জেলার সংবাদ

এইচএসসি ফেল করা ‘জঙ্গি’ রিগেনের কোচিং নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা, ২৭ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

ঢাকার কল্যাণপুরে জঙ্গি ঘাঁটি থেকে গ্রেফতার বগুড়ার জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগেন (১৯) উচ্চ মাধ্যমিক পাশ না করলেও সে কীভাবে ছাত্র শিবির পরিচালিত রেটিনা কোচিং সেন্টারে মেডিকেল ভর্তি কোচিং করতো তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনেকে বলছেন, সে মুলত জঙ্গি সংগঠনে যাবার জন্যই ওই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল।

গত এক বছর আগে সে বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় রেটিনা কোচিং সেন্টারে যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল।

রিগেন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ সংলগ্ন শহরের জামিলনগর এলাকার মৃত ঠিকাদার রেজাউল করিমের ছেলে। তার মা রোকেয়া আকতার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স।

রোকেয়া আকতার বলেন, ‘রিগেন ২০১৩ সালে করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও ২০১৫ সালে বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে। এরপর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবার জন্য শহরে জলেশ্বরীতলায় শিবির পরিচালিত রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়।’

তিনি দাবি করেন, গত বছরের ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় সে কোচিং সেন্টারে যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রিগেনের মা বলেন, ‘আমার বাড়ির ভাড়াটিয়া দুপচাঁচিয়ার মোহাইমেনুল হাসান সিহাব ও আদমদীঘির মাসুদ রানার সঙ্গে সে বাড়ি ছাড়ে। কিছুদিন আগে পুলিশ হত্যায় জড়িত থাকায় মাসুদ রানা ঢাকায় ও সিহাব বগুড়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।’

বুধবার দুপুরে বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজে গিয়ে জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগেনের লেখাপড়া ও অন্যান্য বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হয়। তাকে কোনো শিক্ষক-কর্মচারী চিনতে পারেননি।

ফাইল দেখে সম্প্রতি যোগদানকারী অধ্যক্ষ প্রফেসর এজাজুল হক বলেন, ‘গত ২০১৫ সালে তার কলেজ থেকে রাকিবুল হাসান রিগেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু সে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বাংলায় সি গ্রেড, আইসিটিতে বি গ্রেড পেলেও অন্য বিষয়গুলোতে ফেল করে।’

রিগেন কীভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং করছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে অধ্যক্ষ জানান, ‘বিপথে যাবে এ জন্য হয়তো সে তার পরিবারকে মিথ্যা বলেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার কলেজে শিক্ষার্থীদের উপর নজরদারি করা হচ্ছে। কারো সম্পর্কে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কলেজ থেকে বহিস্কার করা হবে।’

প্রফেসর এজাজুল হক বলেন, ‘বাবা-মার সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল হবার কারণেই সন্তানরা বিপথে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে রিগেনের মা রোকেয়া আকতার বলেন, ‘তার ছেলে রেজাল্ট হবার আগেই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। আর নিখোঁজ হবার পর রেজাল্ট হয়। ছেলে বাড়িতে ফিরে এলেই তার রেজাল্ট দেখবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। তাই তিনি রিগেনের উচ্চ মাধ্যমিক পাশের বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানান, জঙ্গি দলে যোগদান করতেই মুলত রিগেন শিবির পরিচালিত রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল। আর তাকে সহযোগিতা করেছে, বন্ধু শিহাব ও মাসুদ রানা। সে গোপনে শিবিরের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button