জাতীয়

‘ব্যাচেলরের বাসা পাওয়া এখন আরও কঠিন’

ঢাকা, ৩০ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

বাংলাদেশে গুলশান হামলার পরে পুলিশ ঢাকা শহরের বিভিন্ন মেসগুলোতে নজরদারী এবং তল্লাশি জোরদার করেছে।

সন্দেহভাজন জঙ্গিদের খোঁজে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ ঢাকার ১১টি মেসে তল্লাশি চালায়, যদিও কাউকে আটক করা হয়নি। তার দুদিন আগে কল্যাণপুরে একটি ফ্ল্যাটে পুলিশি অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়।

পুলিশি অভিযানের আংশকায় শহরের অনেক বাড়ির মালিক তাদের মেসে থাকা ভাড়াটিয়াদের উপর নজরদারীও বাড়িয়েছেন। এসব মেসে থাকা ছাত্র এবং চাকুরীজীবিরা বলছেন, এমন অবস্থায় তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মেসগুলোতে যে নজরদারী জোরদার হয়েছে সেটি বেশ টের পাওয়া যায়। বিভিন্ন মেস ঘুরে দেখা গেছে, সম্ভাব্য পুলিশি অভিযানের আশংকায় খানিকটা চিন্তিত মেসের বাসিন্দারা।

অনেক বাসিন্দা মনে করেন, যেভাবে মেসগুলোতে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে তাতে করে বাড়িয়াওয়ালারা মেস বাড়া দেবার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। কারণ পুলিশি অভিযান একটি ‘বাড়তি ঝামেলা’ তৈরি করে বলে তারা মনে করেন।

ঢাকার বকশিবাজারে একটি মেসে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেন রুহুল আমিন তপু। তার সাথে একই বাসায় আরও চারজন থাকেন। এদের সবাই বিভিন্ন ধরনের চাকরি করছেন।

তপু বলেন, ‘চিন্তাটা এখন আরও বাড়ছে। আসলে আমাদের চাইতে বেশি চিন্তা করে মালিক। তারা মনে করে যে ব্যাচেলরদের রাখছি, কোনো সমস্যা আছে কিনা।’

‘এমনিতেই ঢাকা শহরের বাড়ির মালিকরা ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দিতে চায় না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সে বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে গেছে’ – বলছেন তিনি।

ঢাকায় মেসগুলোতে থাকেন হাজার হাজার নগরবাসী।

ঢাকা শহরের মেসগুলোতে কত লোক বসবাস করে তার সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। প্রতি মাসেই বিভিন্ন মেসে নতুন ভাড়াটে আসা-যাওয়া করে। সেক্ষেত্রে পুরনো ভাড়াটেরা নতুনদের সম্পর্কে আগে থেকেই পুরোপুরি তথ্য জানতে পারেন না।

পুলিশ মনে করে, জঙ্গিরা সংগঠিত হবার জন্য কখনো-কখনো বাসা ভাড়া নেয়। এছাড়া মেসগুলোতে বসবাসরত ছাত্রদের দলে ভেড়ানোর জন্য টার্গেট করা হতে পারে। সেজন্যই পুলিশ নজরদারী বাড়িয়েছে।

বর্তমানে বাড়িওয়ালারাও মেসে বসবাসকারী ভাড়াটের উপর নজরদারী বাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়ছেন মেসে বসবাসকারী ভাড়াটিয়ারা।

ঢাকার একজন বাড়ির মালিকের স্ত্রী জানান, তিনি প্রতিনিয়ত মেসে বসবাসকারীদের নজরদারীতে রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি থানায় যেসব ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছি, তার বাইরে কেউ আমার বাড়িতে থাকতে পারবে না। ভাড়াটেদের বাসায় কোনো মেহমান যদি রাতে থাকতে চায়, তাহলে আমাকে জানাতে হবে।’

এ ধরনের পরিস্থিতি মেসের অনেক বাসিন্দাদের জন্য খানিকটা অস্বস্তি তৈরি করছে।

পুলিশ বলছে, মেস ভাড়া দেবার বিষয়ে তারা কোন বিধি-নিষেধ আরোপ করেননি। সকল প্রকার ভাড়াটেদের তথ্য থানায় জমা দেবার জন্য বাড়ির মালিকদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button