আইন ও আদালতজেলার সংবাদ

গাজীপুরে সৎ মেয়েকে হত্যার দায়ে মায়ের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

ঢাকা, ৩১ জুলাই, (ডেইলি টাইমস ২৪):

গাজীপুরে সৎ মেয়েকে হত্যার দায়ে এক নারীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার দুপুর ২টার দিকে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম এনামুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারীর নাম শাকিলা জাহান মরিয়ম ওরফে খুকি (৩০)। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার শ্যামপুর গ্রামের আক্কাস আলী হাওলাদারের মেয়ে।   গাজীপুর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট হারিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জের অগ্রখোলা মোল্লা বাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মো. শফিউল আলম (সাগর) ১৮ বছর আগে টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার নুরুল ইসলামের মেয়ে ফারজানা ইসলাম স্বপ্নাকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে মোছা. সাদিয়া আলম জয়া (১৪) ও এহসানুল ইসলাম মাহিন (৮) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। এরা টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় আমির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।   গত ৭ বছর পূর্বে স্ত্রী ফারজানাকে তালাক দেন স্বামী শফিউল। পরে ২ বছর আগে শাকিলা জাহান মরিয়ম ওরফে খুকিকে বিয়ে করে ওই বাড়িতেই বসবাস করতে থাকেন শফিউল। মেয়ে সাদিয়া আলম জয়া লেখাপড়ার সুবিধার্থে বাবা ও সৎ মায়ের কাছে থাকতেন। বিষয়টি সৎ মা শাকিলা মেনে নিতে পারতেন না।   গত বছরের ১১ জুন জয়াকে হাত, পা বেঁধে মেরে ফেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন শাকিলা। একপর্যায়ে গত বছরের ১৩ জুন স্বামী শফিউল ভোরে বাসা থেকে মর্নিংওয়াকে গেলে এই সুযোগে সৎ মা শাকিলা ঘুমন্ত অবস্থায় চাপাতি ও ছুরি দিয়ে জয়াকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য বাথরুমে নিয়ে ফেলে রাখে।   এ ব্যাপারে নিহতের মা ফারজানা ইসলাম স্বপ্না বাদী হয়ে শাকিলাকে আসামি করে টঙ্গী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সৎ মা শাকিলাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল খায়ের তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।   মামলায় সাতজন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ওই হত্যা মামলায় আসামি সৎ মা শাকিলা জাহান মরিয়ম ওরফে খুকি দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় রবিবার গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে ওই রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভেকেট হারিজ উদ্দিন আহম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফাতেমা আক্তার জলি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button