জাতীয়

বাংলাদেশের মানুষ যে সুবিধা পায় আমরা সেই সুবিধা পাচ্ছি

ঢাকা, ১ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস ২৪):

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হয় ভারতের ১১১ টি ছিটমহল। সেই সাবেক ছিটমহলের মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে শুরু করেন তখন থেকে। কিন্তু এই এক বছরে সাবেক ছিটমহলগুলোতে কি পরিবর্তন এসেছে, সেখানকার মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে সেই পরিবর্তন আর তাদের প্রত্যাশার কতখানি পূরণ হয়েছে? কালিরহাট নিম্ন বালিকা বিদ্যালয়ে সকাল দশটার ক্লাস শুরুর ঘণ্টা। এই ঘণ্টার শব্দ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত হলেও দাশিয়ারছড়ার মানুষ- সে শব্দ কখনো শোনেনি। এখন এখানে এই স্কুলের মত আরো তিনটি প্রাথমিক স্কুলের নির্মাণ কাজ চলছে। কালিরহাট বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাদী খাতুন শাহানা বলছিলেন এখানে আগে কোন শিক্ষার আলো ছিল না। এখন এখানে চারটি স্কুল আছে। ২০১৫ সালের আজকের দিনে ভারতের ১১১টি ছিটমহল যুক্ত হয় বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সাথে। এই এক বছরে কি পরিবর্তন হল এইসব সাবেক ছিটমহলগুলোতে? বড় একটি পরিবর্তন এক কথায় অনেকেই উত্তর দিলেন সেটা-বিদ্যুৎ। প্রতিটি ঘরে ঘরে চলছে বৈদ্যুতিক বাতি যেটা ছিল একসময় তাদের কল্পনায়। কল্পনা আক্তার তার বাড়িতে বসে বলছিলেন এখন আমার প্রত্যেক ঘরে কারেন্টের আলো আসছে, এটাই বড় পাওয়া। আগে যাদের একটু সামর্থ্য ছিল তারা সোলার ব্যবহার করতো। আমাদেরতো সে সামর্থ্য ছিল না। কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়াতে ঢোকার রাস্তাটিই প্রথমে চোখে পরে আমার। আগের সেই মাটি-কাদার রাস্তার পরিবর্তে ইট বিছানো রাস্তা সেখানে। তবে তিন কিলোমিটারের ইট বিছানো রাস্তা ছাড়া বাকি এলাকা সেই আগের মতই মাটি-কাদার। বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হওয়া সাবেক এই ছিটমহলটি আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে ছিল সবচেয়ে বড়। তাই এলাকাবাসীর দাবি ছিল আলাদা একটি ইউনিয়ন করার। তবে সেই দাবি থাকলেও সাবেক এই ছিটমহলটি এখন পাশের তিনটি উপজেলার অংশ হয়েছে। সেখানে ছিল না কোন স্কুল, হাসপাতাল বা প্রশাসন। এখন কমিউনিটি ক্লিনিক হয়েছে তিনটি। সপ্তাহে ছয়দিন সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা পাচ্ছেন এখানকার মানুষ। তবে এই যে স্বল্প পরিসরের পরিবর্তন সেটা কতটা প্রভাব ফেলেছে এখানকার মানুষের জীবনে? লোকমান আলী নামে একজন বলছিলেন আমরা যাবতীয় বিদ্যুৎ, শিক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছি এখন।বাংলাদেশের মানুষ যে সুবিধা পায় আমরা সে সুবিধা পাচ্ছি। তিন কিলোমিটার পাকা রাস্তা হয়েছে বাজার পর্যন্ত এটা খুব সুবিধা হয়েছে। যাতায়াতটা সুবিধা হয়েছে অনেক বলছিলেন একজন। দাশিয়ারছড়া ঢোকার পথেই যে কালির হাট বাজার সেটা আগের মতই আছে। নতুন কোন দোকান বা ক্রেতা বিক্রেতার ভিড় চোখে পরছে না আমার। মনে হচ্ছে যেন এক বছর আগে যেমন ছিল তেমনটাই আছে, শুধু অস্থায়ী পুলিশের একটি ক্যাম্প চোখে পরলো আমার কালিরহাট বাজারের পাশেই যেটা আগে ছিল না। সেই অর্থে বড় কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি আমার পুরে দাশিয়ারছড়া ঘুরে। এক বছর আগে যে প্রত্যাশা নিয়ে এখানকার মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে? লোকমান হোসেন বলছিলেন আগে ইন্ডিয়ার জিনিস ব্ল্যাক হয়তো কেউ দেখার ছিল না। এখন পুলিশ আছে এখানে। অনেকটা সেফ মনে করি। পরিবর্তন হচ্ছে আস্তে ধীরে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অনেক কিছুই এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। তবে ব্যাহিক পরিবর্তনের চেয়ে সবচেয়ে যেটা চোখে পরেছে সেটা এখানকার মানুষের আত্মবিশ্বাস। ৬৮ বছর পর একটি দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে পেরেই যেন এক বছর ধরে স্বস্তিতে রয়েছেন এখানকার মানুষ।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button