ফিচার

একবিংশ শতাব্দীর গুহামানব

ঢাকা, ১ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস ২৪):

নাম তার পেদ্রো লুকা। আর্জেন্টিনার একটি গুহাতে আজ ৪০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন তিনি। আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা ছাড়াই একটি উঁচু পর্বতের পাদদেশের একটি গুহার মধ্যে জীবনযাপন করে আসছেন। যখন তার ক্ষুধা পায় তখন পর্বতের আশেপাশে তিন ঘণ্টা ঘুরলেই খাওয়ার জন্য কিছু না কিছু মিলেই যায় তার। হাতের বন্দুকটি চালিয়ে নিমিষেই পশু শিকার করতে পারেন পেদ্রো। গুহায় থাকতে থাকতে পশু শিকারের কাজটা বেশ রপ্ত করে ফেলেছেন তিনি। আর খাওয়ার জন্য রয়েছে জলাশয়ের স্বচ্ছ পানি। পেদ্রোর মতে এমন স্বচ্ছ পানি পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।

গুহায় তার সঙ্গী হিসেবে রয়েছে এগারটি বনমোরগ এবং দুটি ছাগল। বনমোরগ এবং কাক সকাল সকাল তার ঘুম ভাঙ্গাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন আগুন জ্বালানোর মধ্যে দিয়ে তিনি তার কাজ শুরু করে। তিনি বলেন আগুন হলো জাদুময়ী এবং এর ধোয়ায় আমার গুহা পবিত্র হয়। পেদ্রোকে অনেকে আবার সাহসী বীর বরে মনে করেন। একা একা গুহায় থাকার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনি ভাতা পেয়ে থাকেন। পাশের একটি পোষ্ট অফিস থেকে তিনি এই ভাতা সংগ্রহ করে। ভাতার টাকা দিয়ে খাবার, ইষ্ট, শষ্য এবং মোমবাতি সংগ্রহ করেন।

প্রযুক্তিগত জিনিষ বলতে তার কাছে কেবল একটি ভাঙ্গা রেডিও আছে। যা ব্যাটারি দিয়ে চলে। কিন্তু ষ্টেশন ঘুরিয়ে বিভিন্ন চ্যানেল সেট করা হলো সবচেয়ে দূরহ কাজ। আর এজন্য প্রায়ই তাকে পর্বতের উপরে উঠতে হয়। প্রতিদিন তিনি তিনঘণ্টা করে হাঁটেন। তবে পর্বতের কড়া রোদে তার গায়ের রং তামাটে হয়ে গেছে। কিছু দাঁত নেই বললেই চলে। কিন্তু এরপরও কোন ৮০ বছরের বৃদ্ধের চেয়ে তাকে যুবকই মনে হয়। তিনি যে প্রাগৈতিহাসিক সময়ের কোনো এক গুহা থেকে উঠে আসা সৌম্য সুন্দর এক মানুষ।

পেদ্রোর ভাষ্যমতে, ‘আমি সবসময় শহরের যান্ত্রিক জীবন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইতাম। সেই ছোটবেলা থেকেই আমার শখ বনে জীবযাপন করা। আমার দাদার কাছ থেকে সম্ভবত আমি এই গুনটি পেয়েছি। তার চিন্তাধারাও আমার মতো ছিল। আমার এখানে অতিথি হয়ে বিভিন্ন পর্যটকরা আসে আমি তাদের আপ্যায়ন করি। আমি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করিনি কেন আমি এই জীবন বেঁছে নিয়েছি।’ বর্তমানে পেদ্রো এই গুহার মতো আরো একটি গুহার সন্ধানে আছেন। আর তা অবশ্যই হতে হবে সমুদ্রের কাছে। গুহায় বসে সমুদ্রের গর্জন শুনতে চান এই প্রবীন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button