লাইফস্টাইল

যে আর্থিক ধোঁকাগুলোর মুখে বৃদ্ধ মানুষ বেশি পড়েন

ঢাকা, ১ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস ২৪):

প্রতিবছর যেমন হাজার হাজার মানুষ বৃদ্ধ হয়ে অনেকগুলো টাকা সাথে করে অবসর নিচ্ছেন, তেমনি তাদের আশপাশে প্রলোভন দেখানোর মতন ধোঁকাবাজদের সংখ্যাও বাড়ছে বই কমছে না। সঠিক জ্ঞান আর কৌশলের অভাবে অনেকেই সতর্ক থাকতে পারছেন না। ভুলে ধোঁকাবাজদের ফাঁদে আর্থিকভাবে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ। এমনটা যদি হন আপনিও তাহলে আজ আপনার জন্যেই লেখা। চিনে নিন কিছু আর্থিকভাবে বিপদে ফেলতে চাওয়া ভয়ানক ধোঁকাবাজদের ধোঁকা আর সেগুলো থেকে বাঁচার উপায়কে।

১. চেনা লোকেদের থেকে সতর্ক থাকুন

কষ্ট পেলেন কথাটা শুনে? মনটা তিতে হয়ে গেল? কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার হাতে টাকা থাকলে সন্তান কিংবা পরিবারের চেনা-জানা মানুষেরাই সেই টাকাগুলোকে নিজের করে নেওয়ার কথা ভাবে। তাই এইভাবে ঘরের বাইরে না গিয়েও ঘরের ভেতরে বসে থেকেই ধোঁকার সম্মুখীন হতে পারেন আপনি। প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধের ক্ষেত্রে আর্থিক ধোঁকা দিয়ে থাকেন তাদের পরিবারের সদস্যরাই। তাই সতর্ক থাকুন ঘরের ভেতরে। ধিরে-সুস্থে কাজ করুন। আবেগের বশে নয়।

২. ভালোভাবে জেনে-বুঝে নিন

আপনার হয়তো ইচ্ছে হতেই পারে বৃদ্ধ বয়সে নিজের টাকাকে ভালো কোন কাজে লাগানোর। হতে পারে সেটা এতিমখানা বা স্কুল। এমনকি লগ্নীও করতে পারেন আপনি আপনার টাকাকে। তবে যেটাই করুন না কেন, যাদের সাথে কাজ করছেন তাদেরকে চিনে নিন ভালো করে। কোন অবস্থাতেই নিজের ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত কোন তথ্য কোথাও লিখবেন না। আর কোথাও টাকা দেওয়ার আগে সেই মানুষটির নাম, কোম্পানির নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা ও তাদের লাইসেন্স যাচাই করুন।

৩. সরাসরি টাকা জমা দিন

কোথাও চেক ব্যবহার করেন আপনি? চেকের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া বন্ধ করুন। সরাসরি টাকা জমা দিন। কারণ নাহলে আপনার চেক বাক্স থেকে তুলে নেওয়ার একটা আশঙ্কা থেকে যায়। তাই চেষ্টা করুন নিজের সব টাকা সরাসরি লেনদেন করতে। চেকের মাধ্যমে নয়।

৪. ফোনে ব্যাক্তিগত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

ফোনে কখনো নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সেখানে কী পরিমাণ টাকা আছে বা সেটার নম্বর- এর কোনটা যদি ব্যবসার কাজে চেয়ে থাকে কেউ তাহলে সেটাকে এড়িয়ে চলুন। অনেক সময় উল্টো পাল্টা বিলের ফোন আসবে আপনার কাছে। কখনো কখনো ব্যবসায়িক ফোন। সবারই লক্ষ্য থাকবে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের দিকে। তাই সে সম্পর্কে ফোনে তথ্য সরবরাহ করা বন্ধ করুন।

তবে এসবের পাশাপাশি আরেকটা কথা মাথায় রাখুন যে, সামনে আরো অনেকটা সময়। অবসর মানেই জীবনের শেষ নয়। তাই সব কাজ, সিদ্ধান্ত ধীরে-সুস্থে করুন। কারণ চটজলদি করা কাজে ভুল আর ধোঁকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button