জেলার সংবাদ

বন্যায় কুড়িগ্রামে সাড়ে ৬ হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত

ঢাকা, ২ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস ২৪):

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি কমলেও বানভাসিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দুষিত পানি পান করে সাড়ে ৬ হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। বন্যায় জেলায় ৬ লাখ ২৫ হাজার ৮৫৪ জন মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

সোমবার পর্যন্ত ধরলা নদীর পানি ১৯ ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

১৫ দিনের এ বন্যায় পানিতে ডুবে মারা গেছে ১২ জন। মৃতরা হলেন, রৌমারীর ঝগড়ার চরের আলম হোসেনের ছেলে জাহিদ (১), গয়টাপাড়ার মজুন মিয়ার মেয়ে আশা মনি (২), কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চর বড়াইবাড়ীর তাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তাকিন (২) ও নাগেশ্বরীর বেরুবাড়ী এলাকার আব্দুল মান্নানের মেয়ে মারুফা (১৬)।

এছাড়াও কালিগঞ্জ ইউনিয়নের ভবানন্দের কুটি এলাকার মৃত রজনী চন্দ্র নন্দীর ছেলে নারায়ণ চন্দ্র নন্দী (৫৫), হাসনাবাদ ইউনিয়নের সিংহের হাটের ছোলায়মানের মেয়ে খাদিজা (১৮), ভুরুঙ্গামারীর বলদিয়ার নবী হোসেনের ছেলে শহীদ হোসেন (১৫ মাস), উলিপুরের অনন্তপুর এলাকার কান্তারা চন্দ্র দাসের ছেলে সারু চন্দ্র দাস (১৮), চিলমারীর অস্টমীরচরের আব্দুস ছামাদের মেয়ে শিল্পী (১৬ মাস), রমনা সরকার পাড়ার মৃত পনির উদ্দিনের ছেলে উসমান আলী (৪৫), সবুজ পাড়া এলাকার শাহিনের ছেলে নাজিম (১৫) এবং রাজিবপুরে অজ্ঞাতনামা নূর মোহম্মদ (৭০)। এরা সবাই পানিতে ডুবে মারা গেছে।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা আখের আলী মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

এরমধ্যে পানিবন্দীর সংখ্যা ৪ লাখ তেত্রিশ হাজার ৬৩৯ জন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ির সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার ৫৮৬টি। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সংখ্যা এক লাখ ৫৯ হাজার ৯৬৩ জন। গবাদিপশু মারা গেছে ৭৭টি। টানা বন্যায় পানিবন্দী মানুষগুলো পড়েছে খাদ্য ও পানি সঙ্কটে।

বন্যায় পাকা ও কাঁচা সড়ক ডুবে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রবল স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগব্যাধি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি হ্রাস পেয়ে ৩৪ সেন্টিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি কমে গিয়ে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কুড়িগ্রাম ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব মোল্লা জানান, সরকারি হিসাবে জেলার ৯ উপজেলার ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৭টি ইউনিয়নের ৭২৮টি গ্রাম এখন পানির নীচে। এক হাজার ১৪৫ দশমিক ৮৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা পানির নীচে অবস্থান করছে। বন্যায় ৭ হাজার ১২৩ হেক্টর জমি নষ্ট হয়ে গেছে। ৫৪ কিলোমিটার বাঁধ ও ৩৯টি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কাঁচা সড়ক ৪৭৪ কিলোমিটার ও পাকা সড়ক ৫২ কিলোমিটার ভেঙে গেছে। প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২৪৮টি। ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৮৪ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৩ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত ডাইরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬৩১ জন। তবে কেউ মারা যায়নি বলে তারা নিশ্চিত করেন।

জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৭৫ মে. টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিতরণ হয়েছে এক হাজার ২৭৫ মে.টন। প্রাপ্ত ৪৩ লাখ টাকার মধ্যে ৩৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়ও প্রাপ্ত ২ হাজার শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আরো ২০ লাখ টাকা, উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য ৮ লাখ টাকা ও ৭০০ মে:টন চাল চাওয়া হয়েছে।

বন্যা দুর্গত এলাকা সফরে ত্রাণ মন্ত্রী
কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ কার্যক্রম দেখতে আগামীকাল মঙ্গলবার দুই দিনের সফরে আসছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বুধবার রৌমারীতে ত্রাণ বিতরণ করবেন বলে জানা যায়।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button