বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ক্ষতিকর বলা হলেও করছে কঠিনতম সমস্যার সমাধান

ঢাকা, ০২ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস ২৪):

ভবিষ্যত প্রযু্ক্তি নিয়ে বাস্তবমুখী চিন্তা করেন বিশেষজ্ঞ কেভিন কেলি। তার ‘দ্য ইনএভিটেবল’ বইয়ে তিনি লিখেছেন, বর্তমান সময়ের মতো এতো সুযোগ, আরো বেশি খোলামেলা, কম বাধা, উচ্চমাত্রার লাভ, ভালো মানের মুনাফা এবং সার্বিকভাবে এতো ভালো অবস্থা আর কখনই ছিল না। ২০১০ সালের মাঝামাঝি থেকে এমন কিছু প্রযুক্তি আসতে থাকে যা কিনা গোটা বিশ্বের মানুষের জীবনটাকে আরো উন্নত করে দিতে পারে। এগুলো সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো অনায়াসে সমাধান করেছে। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা মোকাবেলাতেও সহায়তা করছে কিছু প্রযুক্তি। একটু চিন্তা করে দেখুন, ২০০৭ সাল থেকে মানুষের জীবন কত দ্রুততার সঙ্গে বদলে গেছে। তখন স্মার্টফোন, সোশাল নেটওয়ার্ক আর ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা পুরোদমে নিতে শুরু করেছে মানুষ। এখন থেকে আগামী যুগে অর্থাৎ ২০১৭-২০২৭ সালের মধ্যে প্রযুক্তি আরো কি কি দিতে পারে? হয়তো তখন আধুনিক অনেক কিছুই একঘেয়ে হয়ে যাবে। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়ে অনেক নেতিবাচক আলোচনা ও বিশ্লেষণ বেরি আসে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কর্মক্ষেত্রে নষ্ট করবে ঠিকই। কিন্তু এটি আবার মানব সভ্যতাকে একধাপে বহুদূর এগিয়ে নেবে। প্রতিষ্ঠান এবং গবেষকরা অবিশ্বাস্য পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করছে। গুগল সার্চ বা ফেসবুক থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য আসছে। সেলফোনের প্রতিটি কাজ এবং অনলাইনের প্রতিটি কার্যক্রম সংগৃহিত হচ্ছে। প্রতিটা কারখাবার প্রতিটা যন্ত্রের কার্যক্রম ডেটা আকারে সংরক্ষিত হচ্ছে। এসব ডেটা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা হলে কাজটি আরো সুবিন্যস্ত হবে। এআই আমাদের ভবিষ্যতে ক্যান্সার থেকে মুক্তির পথ দেখাবে। এর প্রয়োগে আমরা আরো বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে পারবো। এর মাধ্যমেই আমরা সন্ত্রাস হামলার আগেই তাদের রুখে দিতে সক্ষম হবো। মানুষের রহস্যময় অবস্থাগুলো উন্মোচন করবে এআই। এআই গাড়ির চালকের আসনে বসবে। এতে আরো ভালো হবে। কারণ আমেরিকায় এক বছরে ৩২ হাজার মানুষ মারা গেছেন ভুল গাড়ি চালনার কারণে। মানব মস্তিষ্ক অন্য বিষয়ে সহজেই আকৃষ্ট হতে পারে। সম্প্রতি স্বচালিত একটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এআই-এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা শতভাগ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।   কেলি আরো মনে করেন, একটামাত্র জিনিস সব বদলে ফেলবে তা চিন্তা করা বেশ কঠিন বিষয়। আবার এমন একটি জিনিস যে সস্তা ও সহজলভ্য হবে তাও সঠিক নয়। এনার্জি খাতগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে যাবে। গ্যাসচালিত গাড়ি এক মারাত্মব অবস্থা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের পথ দেখিয়েছে টেসলা। একই সময় সৌরশক্তি প্রযুক্তি দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আমরা প্রতিবছর যে পরিমাণ সৌরশক্তি ব্যবহার করি তার চেয়ে ৫ হাজার গুণ বেশি শক্তি পৃথিবীতে ব্যবহার করে সূর্য। এর ব্যবহার জলবায়ুর উন্নতি ঘটাবে না। কিন্তু ভবিষ্যতের চেহারা আরো সুন্দর করবে। প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রকে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। কিন্তু এর যথাযথ ব্যবহারে আরো ভালো কিছু আশা করা যায়। এ যুগে বিশ্বের ৭ শতাংশ মানুষের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। অনেক মানুষের কাছে শিক্ষা বেশ ব্যয়বহুল বিষয়। আবার অনেকের কাছে পৌঁছে না। খান একাডেমি এবং অন্যান্য অনলাইন কোর্স শিক্ষাব্যবস্থাকে সহজলভ্য করবে। জীবনকে আরো সহজ করতে আসছে নানা প্রযুক্তি। এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন চিকিৎসক মিলবে সব সময়ের জন্য। আপনার পেকেটেই একজন চিকিৎসক থাকার চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে? বিটকয়েনের পেছনে কাজ করছে ব্লকচেইন নামের প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে যা গোটা বিশ্বের মানুষকে এক করতে পারে। এসব প্রযুক্তি স্মার্টফোন, সোশাল এবং ক্লাউড প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে মহাশক্তিধর হয়ে উঠবে। মানুষের জীবনটাকে বদলে দিতে এদের ব্যবহার এখনো অনেক বাকি রয়ে গেছে। প্রযুক্তি ক্রমেই অনেক কাজের খরচ কমিয়ে আনতে শুরু করেছে। ফটোগ্রাফির যে ব্যবস্থা স্মার্টফোনেই করা হয়েছে তার মাধ্যমে এ সংক্রান্ত খরচ কমেছে। আবার উন্নতও হয়েছে। কেলির মতে, মানব সভ্যতা তার জীবনের ব্যাপক পরবর্তনের জন্য প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। এর মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তবে প্রযুক্তি অন্ধকার দিক সব সময়ই রয়েছে। এটা থাকবেই। বর্তামানে প্রযুক্তি বিশ্বের রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে কাজ করছে। কিন্তু এটা ক্রমেই সুন্দর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button