জাতীয়

গুলশানে ঘিরে রাখা সেই বাড়ি থেকে ২ জনকে আটক

ঢাকা, ০৩ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস ২৪):

লেকের পাশে বিশাল জায়গা নিয়ে দুতলা বাড়ি। নিরাপত্তার জন্য আছে ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরা। গেটের ভেতরে লোকজনও খুব একটা দেখা যায় না। গেট খুলতে বললে খুলছে না। এমন চিত্র দেখেই জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়িতে ডাকা হয় পুলিশ। চলে তল্লাশি। কিন্তু খুঁজে পাওয়া যায়নি জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কিছু। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির কেয়ারটেকারসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে অভিজাত এলাকা গুলশান-১ এর ১৩ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাড়িকে ঘিরেই এমন ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ১৩ নম্বর সড়কে আসে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা। লেকের পাশে ‘রোজরুট’ নামের একটি হোটেলের সামনের অংশে অবৈধভাবে তৈরি করা দেয়াল ভেঙে দেয়া হয়। ভাঙার কাজ শেষ করে যাওয়ার সময় নজরে আসে বাড়িটি। ভেতরে কম বয়সী কয়েকজনকে দেখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যদের কৌতুল জাগে। ভেতরে প্রবেশ করতে চায় তারা। কিন্তু ভেতর থেকে বাড়িতে ঢুকতে বাঁধা দেয় দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। জানানো হয়, গুলশান থানা পুলিশকে। বেলা ২টার দিকে পুলিশ এসে বাড়ির সামনে হাজির হয়। বাড়িতে ঢুকে চলে তল্লাশি। সারা বাড়ি খুঁজে সন্দেহভাজন কিছু না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয় পুলিশকে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেয়ারটেকার শামসুদ্দিন ও মাহমুদুল হাসানকে (ডেভলপার কোম্পানির মালিকের ভাগ্নে) থানায় নেয়া হয়েছে।

এদিকে, ততক্ষণে বাড়িটি ঘিরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়।

তল্লাশি শেষে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।’

থানায় নেয়ার আগে কেয়ারটেকার শামছুদ্দিন জানান, এই বাড়ি নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা আছে। মালিক তিনজন। জহুরুল আমিন, জয়নুল আবেদিন, জাহাঙ্গীর আলম। তাদের বাবার নাম আব্দুল জব্বার (মৃত)। পৈতৃকসূত্রে ছেলেরা এই বাড়ি পেয়েছেন।

আব্দুল জব্বারের মেয়েরাও বাড়ির অংশ দাবি করে বিভিন্ন সময় দখল করতে আসে উল্লেখ করে শামছুদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম বাড়ি দখল করতে লোকজন আসছে। এজন্য গেট খুলতে রাজি হয়নি।’

বাড়িটি ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল বাড়ির প্রধান ফটকের পাশেই আছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। এছাড়া, পিছনের দিকে আছে আরও দুটি। আছে সিসি ক্যামেরাও। সামনের দিকে দুতলা বাড়িটির উপরে নিচে মিলিয়ে আছে ৫টি কক্ষ। বাড়ির পেছনে দুটি টিনশেড ঘরসহ ফাঁকা জায়গা বেশ খানিকটা।

মালিকদের কেউ না থাকলেও ৮ জন বসবাস করেন এ বাড়িতে। আর তারা সবাই ডেভেলপার কোম্পানি ‘ইভা ডেভেলপার লিমিডিট’ এর নিযুক্ত সিকিউরিটি ও কোম্পানির মালিকের ভাগ্নে। এছাড়া আরও ৩ জন সিকিউরিটি গার্ড অন্যত্র থাকেন বলে জানা গেছে।

বাড়িটি ডেভেলপ করা জন্য ‘ইভা ডেভেলপার লিমিটিডকে’ দেয়া হয়েছে। কোম্পানির মালিক আব্দুল সাত্তারের তিন ভাগ্নে ও সিকিউরিটি গার্ডরা বাড়িতে থাকেন বলে জানিয়েছেন সিকিউরিটি গার্ড মো. আশরাফুল।

তিনি বলেন, ‘আমরা সিকিউরিটির কাজ করি। ডেভেলপাররা আমাদের নিয়োগ দিছে। সঙ্গে মালিকের তিন ভাগ্নেও থাকে। দুপুরে কিছুলোক বাড়িটির গেট খুলতে বলে। বাড়িটা নিয়ে ঝামেলা আছে তা আমরা জানতাম। তাই আমরা ভাবছিলাম অন্য কেউ, তাই খুলতে দেরি হয়। আর এতেই ঝামেলা বাধে।’

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেয়ারটেকার শামছুদ্দিন ও কোম্পানির মালিকের ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এটা ভুল ইনফরমেশন ছিল। আমরা তল্লাশি চালিয়েছি। কিছু পাওয়া যায়নি।
আটকদের ছাড়া হয়েছে কিনা জানি না। আমি ডিএমপি কার্যালয় থেকে মিটিং করে বের হয়েছি। পরে জানানো হবে।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button