লাইফস্টাইল

কোন সহকর্মীর পাশে বসলে আপনার উৎপাদনশীলতা বাড়বে?

ঢাকা, ০৩ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস ২৪):

কর্মস্থলে বন্ধুস্থানীয় কারো পাশে বসে কাজ করলে হয়তো আপনি সুখী হতে পারবেন। কিন্তু আপনি জানেন কি অফিসে আপনি কার পাশে বসছেন তা আপনার কাজের উৎপাদনশীলতা এবং গুনগত মানের ওপর প্রভাব ফেলেছে? হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের গবেষকরা দুই বছরব্যাপী ২ হাজার কর্মীর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছেন একই ধরনের কর্মীরা পাশাপাশি বসলে তাদের সার্বিক পারফর্মেন্সের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কম্পানি কর্নারস্টোন অন ডিমান্ড এর সহযোগিতায় গবেষণাটি চালানো হয়। উক্ত গবেষণায় কোনো একটি কম্পানির কর্মীদেরকে উৎপাদনশীল কর্মী, সাধারণ কর্মী এবং গুনগত মানসম্পন্ন কর্মী এই তিনভাগে ভাগ করা হয়। উৎপাদনশীল কর্মীরা গড়পড়তা কর্মীদের চেয়ে অনেক দ্রুত কাজ করেন। কিন্তু তাদের কাজের মান হয় কম। অন্যদিকে, গুনগত মানসম্পন্ন কর্মীরা উচ্চ গুনগত মানসম্পন্ন কাজ করেন কিন্তু তাদের কাজের গতি হয় অনেক কম। আর সাধারণ মানের কর্মীরা কাজের উৎপাদনশীলতা ও গুনগত মানের দিক থেকে গড়পড়তা ধরনের হয়ে থাকেন। গবেষণায় ইতিবাচক কর্মক্ষমতার তিনটি বিষয়ের পরিমাপ করা হয়: উৎপাদনশীলতা, কার্যকারীতা এবং গুনগত মান। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, উৎপাদনশীল ও গুনগত মান সম্পন্ন কর্মীদের একসঙ্গে একই এলাকায় এবং সাধারণ মানের কর্মীদের আলাদা এলাকায় বসিয়ে কাজ করানোর ফলে উৎপাদনশীলতায় ১৩%, কার্যকারিতায় ১৭% বাড়তি অর্জন হয়েছে। আর মোটের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষমতায় উন্নতি হয়েছে ১৫%। উৎপাদনশীল কর্মীদেরকে গুনগত মান সম্পন্ন কর্মীদের সাথে একসঙ্গে বসিয়ে কাজ করানোর ফলে তাদের কাজের গুনগত মান বেড়েছে। তবে তাদের উৎপাদনশীলতায় কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি। অন্যদিকে, মাত্র দু্ই মাসের মধ্যে গুনগত মানসম্পন্ন কর্মীদের উৎপাদনশীলতাও বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে, উৎপাদনশীল ও গুনগত মানসম্পন্ন কর্মীরা পরস্পরের সংস্পর্শে আসার ফলে তাদের মধ্যে কাজের উৎসাহ উদ্দীপনা বেড়ে যায়। আর শারীরিকভাবেও উচ্চ কর্মক্ষমতা সম্পন্ন কর্মীদের কাছাকাছি আসার ফলে অন্যদের ওপরও আমাকেও ভালো করতে হবে এমন একটা মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এই দু্টি প্রভাবের বলেই কর্মীদের মাঝে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আমূল পরিবর্তন আসে। উৎপাদনশীল কর্মীরা গুনগত মান অর্জন করেন আর গুনগত মানসম্পন্ন কর্মীরা উৎপাদনশীলতা অর্জন করেন। গবেষকরা বলেন, ২ হাজার কর্মী রয়েছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতি বছর অন্তত অতিরিক্ত ১০ লাখ ডলারের মুনাফা অর্জন নিশ্চিত করতে পারবে। “এই গবেষণা থেকেই প্রমাণিত হয়, আধুনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুক্ত ফ্লোর পরিকল্পনা এবং নমনীয় কর্মস্থলের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণ- কর্মীদের আসন বিন্যাসের পেছনেও একটি বিজ্ঞান কাজ করে”, এক সংবাদ বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন, কর্নারস্টোন অন ডিমান্ড এর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড কর্পোরেট ডেভেলপমেন্ট এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাসন কর্সেলো। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button