লাইফস্টাইল

রান্না ঘরের যে জিনিসগুলো আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে

ঢাকা, ০৩ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস ২৪):

আপনার রান্না ঘরের কিছু জিনিসই আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। সেটা হতে পারে রান্না করার পাত্র, চায়ের কেতলি, মগ এমনকি কফি মেকার। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই চলুন।

১। মেলামাইনের তৈজসপত্র

মেলামাইন এমনিতে ভাঙ্গেনা কিন্তু তাপ লাগলে নষ্ট হয়। যখন এতে গরম খাবার রাখা হয় অথবা মেলামাইনের প্লেটে বা বাটিতে যদি খাবার গরম করা হয় তাহলে মেলামাইনের ভেতরের রাসায়নিক খাদ্যের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। এই ধরণের মেলামাইনের দূষণ বৃদ্ধি পেলে কিডনির পাথর ও মূত্রাশয়ের সমস্যা হতে পারে। মেলামাইনের পাত্রে খাবার গরম না করলে খাবার দূষিত হয়না।

২। ননস্টিক পাত্র

বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করে যে ননস্টিক পাত্রে রান্না করলে কম তেলে রান্না করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি সত্যি। কিন্তু অনেক বেশি ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক হতে পারে। কারণ ননস্টিক পাত্র নিয়মিত ব্যবহারে এর আবরণটি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এর রাসায়নিক উপাদান খাদ্যের সাথে মিশে যায়। ননস্টিক পাত্রের উপরিভাগ কারসিনোজেনিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয় যা খাদ্যের মধ্যে প্রবেশ করলে লিভারের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সমস্যা হতে পারে। তাই ননস্টিক পাত্রে কোন দাগ দেখা দেয়া মাত্র তা ব্যবহার বন্ধ করে দিন।

৩। দাগযুক্ত কাপ বা মগ

আপনি কি চায়ের কাপের দাগ উঠাতে অলসতা করেন? কাপের উপরের কিনারের দিকে বাদামী দাগ হলেও তা ক্ষতিকর মনে হয়না আপনার কাছে। মগ ধোয়ার জন্য যে কলের পানি ব্যবহার করা হয় তাতে উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম কার্বোনেট দ্রবীভূত থাকে তা মগের ভেতরের চায়ের দাগের ট্যানিনের সাথে মিলিত হয়ে বন্ড গঠন করে। এই ধরণের কাপে চা পান করলে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার ফলে দেহ থেকে বর্জ্য নিষ্কাশন অনিয়মিত হয়। ভিনেগার ও বেকিং সোডার মিশ্রণ চায়ের কাপের দাগ তোলার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

৪। ঝলসান পাত্র

অনেক দিন ব্যবহারের ফলে খাবারের পাত্রগুলোর রঙ নষ্ট হয়ে যায়। উচ্ছিষ্ট খাবার বেশীক্ষণ পাত্রে থাকলে এমন হয়। অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি পাত্রে এমন হতে দেখা যায় বেশি, কারণ এগুলো পরিষ্কার করা কঠিন। এ রকম ঝলসানো পাত্র ব্যাকটেরিয়ার প্রজননক্ষেত্র। কোন পাত্রে ১২ ঘন্টা খাবার থাকলে তা পরিষ্কার করা কঠিন। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খাবারের পাত্র পরিষ্কার করে ফেলা উচিৎ।

৫। কিচেনের সিঙ্ক

আপনার কিচেনের সিঙ্কটি হতে পারে জীবাণুর আখড়া যদি এটি পরিষ্কার না করে রাখেন। তাই হাড়ি-পাতিল ও বাসন-কোসন ধোয়ার পর পরই হালকা সাবান ও গরম পানি দিয়ে সিঙ্কটিও ধুয়ে  ফেলুন।

এছাড়াও আপনার কফি মেকারটির কারণেও আপনি অসুস্থ হতে পারেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর না ধুয়ে রেখে দিলে এতে কলিফরম ব্যাকটেরিয়া ও চিতি পড়তে পারে। তাই মাসে অন্তত ১ বার  আপনার কফি মেকারটি পানি ও সাদা ভিনেগার মিশিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনার বাসার রেফ্রিজারেটরটি ৬ মাসে একবার পরিষ্কার করুন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button