ফিচার

অলিম্পিক খেলোয়াড় থেকে রিক্সাচালক

ঢাকা, ০৩ আগস্ট, (ডেইলি টাইমস ২৪):

সাবেক একজন অলিম্পিয়ান মুহাম্মদ আশিক। প্রতিদিন তাকে জীবিকা নির্বাহের জন্য লাহোরের রাস্তায় রিক্সা চালাতে হয়। সঙ্গে রাখেন তার অলিম্পিকে পাওয়া ট্রফি ও মেডেল। রিক্সাটিও তার পুরণো ছবি দিয়ে সাজানো। জানতে চাইলে কেন এমন করেছেন তিনি তার ভাষ্য মতে, ‘মানুষ যেন আমাকে ভুলে না যায় তাই ছবিগুলো রিক্সার চারপাশে সাজিয়ে রাখা। আমি মানুষকে মনে করিয়ে দিতে চাই একদিন আমি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং বিভিন্ন নামিদামি ব্যাক্তিত্বের সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। তারা কেন এবং কিভাবে সবাই আমাকে ভুলে গেছে তা আমি এখনও আমি বিশ্বাস করতে পারি না।’

সাবেক এই খেলোয়ার ১৯৬০ এবং ১৯৬৪ সালের অলিম্পিকের প্রতিযোগী ছিল। বর্তমানে তার অবস্থা এতটাই করুণ যে তাকে এখন লাহোরের রাস্তায় রিক্সা চালাতে হয়। বক্সার হিসেবে তিনি তার খেলোয়ার জীবন শুরু করে। এরপর ১৯৫০ সালে তিনি সাইকেল চালনায় দক্ষতা অর্জন করে। ১৯৬০ সালে যখন রোমে অলিম্পিকের আসর বসে এবং ১৯৬৪ সালে টোকিওতে তখন যদিও সে কোন মেডেল নিয়ে আসতে পারেনি তারপরেও পাকিস্তানের মানুষের চোখে তিনি ছিলেন একজন জাতীয় নায়ক। তার ভাষ্য মতে, ‘সেই সময় আমি অনেক আনন্দিত ছিলাম কারণ আমি অলিম্পিকে আমার দেশের হয়ে খেলতে পেরেছিলাম। কিন্তু যখন একটি বড় ধরনের আঘাত প্রাপ্ত হবার কারণে আমরা সাইকেল চালানো বন্ধ হয়ে যায় তখনই ভাগ্যের কাঁটা অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করে।’

এরপর ১৯৭৭ সালের দিকে তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে লাহোরের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করেন। এরপর বিভিন্ন সময় ট্যাক্সি, ভ্যানসহ বিভিন্ন ছোটখাট ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। গত ছয় বছর ধরে তিনি লাহোরে রিক্সা চালাতেন এবং স্বল্প ভাড়ায় লোকজনকে আনা নেয়া করতেন। অবাক হলেও সত্যিই তিনি বর্তমানে ৪৫০ বর্গফুটের যে বাড়িটিতে থাকেন তা তিনি এক মিলিয়ন রুপি দিয়ে কিনেছিলেন। কিন্তু দশাচক্রে তাকে এখন রিক্সা চালাতে হয় আর তার প্রতিদিনের আয় ৪০০ রুপি। তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার চার সন্তান এখন আর তার সঙ্গে থাকে না। এই বৃদ্ধ বয়সে তিনিও তার সন্তানদের বোঝা হতে চান না।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট কেলভিন কোলিজ বলেছিলেন, ‘যে দেশ ও জাতি তাদের বীরদের কথা ভুলে যাবে সে জাতি ও দেশ কোনদিনও উন্নতি করতে পারবে না।’ আশিকের ট্যাক্সিতে ওঠে অনেকে তার জীবন সম্পর্কে জানতে চান। তিনি তাদের তার খেলোয়ার জীবনের গল্প শোনান। বিশেষ করে তার স্ত্রীর কথা বলেন। তিনি সবসময় তাকে হাসিখুশী থাকার পরামর্শ দিতো এবং অতীত ভুলে যেতে বলতো। আশিক যখন তার স্ত্রীকে পাল্টা প্রশ্ন করতো কেন সে তাকে সব ভুলে যেতে বলে তখন তার স্ত্রী বলতো পুরণো কথা মনে রাখলে তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। এখন আশিকের কেউ নেই যে কিনা তার স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখবে। এখন তার একটিই প্রার্থনা আর তা হলো মৃত্যু। তার মতে যত তাড়াতাড়ি তার মৃত্যু হবে তত জলদি তিনি তার স্ত্রীর কাছে যেতে পারবে যে কিনা স্বর্গে তার জন্য অপেক্ষা করছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button