জেলার সংবাদ

৩০ লাখ টাকার গাছ ১৩ লাখে বিক্রি

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রাস্তার ধারে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আলমের বিরুদ্ধে।

কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে ৭শ’ গাছ নাম মাত্র দামে বিক্রি করেছেন তিনি। ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে গত দু’মাসে সড়কগুলোর দুইধার থেকে গাছ কাটার ফলে ইউনিয়নের এমন পাঁচটি গ্রামীণ সড়ক এখন বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যান তার পছন্দের ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজস করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফলে প্রকৃত রাজস্ব আয় থেকে যেমন বঞ্ছিত হয়েছে সরকার তেমনি এর সুফলভোগীরাও নিরাশ হয়েছেন।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলমের দাবি, নিয়ম মেনেই গাছ কাটছেন তিনি। কিন্তু বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন অন্য কথা। গাছ কাটার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির  আওতায় কল্যাণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আলমের বাড়ির সামনে থেকে দক্ষিণ দিকে আবু হাজরা কাজীটারী এবং উত্তর-পূর্ব দিকে শান্তির মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের দু’ধারে একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ বছরের আগে গাছ কাটা যাবে না। মেয়াদপূর্তির পর কাটা হলে ২০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ পাবেন পরিচর্যাকারী ও জমির মালিক এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ পাবেন ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্তু গাছগুলোর মেয়াদপূর্তি হওয়ায় এবং ইউক্যালিপটাস গাছ নিধনের নির্দেশনা থাকার অজুহাত দেখিয়ে চেয়ারম্যান নুর আলম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ৭৩৫টি পরিণত-অপরিণত মেহগনি, শিল-কড়াই, নিম ও আকাশমণিসহ ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা উন্নয়ন সভার অনুমতি নিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অথবা মাইকে প্রচারণার মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামের সর্বোচ্চ দর দাতার কাছে গাছ বিক্রি করতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ থেকে কর্তন উপযুক্ত গাছ চিহ্নিতকরণ ও মূল্য নির্ধারণ করার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে এসবের কিছুই করা হয়নি।

লোক দেখানো দরপত্র আহ্বান করে জমির মালিক ও পরিচর্যাকারীদের সঙ্গে নিয়ে খেয়াল-খুশি মতো গাছ চিহ্নিতকরণ ও মূল্য নির্ধারণ করেছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। শুধু তাই না, সিন্ডিকেট তৈরি করেপছন্দের ঠিকাদারের কাছে গাছগুলো মাত্র ১৩ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে গাছ বিক্রি করা হলে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা পাওয়া যেত।

সরেজমিনে বুধবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনেই গাছ কাটছেন এক শ্রমিক। গাছ কাটার সময় সাংবাদিকের উপস্থিতি ও ক্যামেরা দেখে গাছ থেকে নেমে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই তিনি গাছ কাটছিলেন।

কাজীটারী গ্রামের জমির মালিক মোস্তফা জানান, তার জমিতে ১২টি গাছ ছিল। বিক্রির টাকা থেকে তিনি গাছ প্রতি ২শ’ টাকা হারে মোট ২ হাজার ৪শ’ টাকা পেয়েছেন।

গাছের যথাযত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা? এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হলে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বিক্রি করা সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলমের কাছে জানতে চাইলে নিয়ন মেনে গাছ কাটা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদকে অবহিত করে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে নিয়ে গাছ কাটা এবং প্রায় ১৩ লাখ টাকায় তা বিক্রি করা হয়েছে।

বন বিভাগ থেকে গাছ চিহিৃতকরণ ও মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা? তা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

উপজেলা পরিষদের কাছে গাছ কাটার আবেদনপত্র প্রদান ও অনুমোদন এবং দরপত্র আহ্বানের কাগজপত্রাদি আছে কিনা তা জানতে চাইলে, সব আছে বলে তিনি জানান। তবে দেখতে চাইলে তা তাৎক্ষণিক দেখাতে পারেননি তিনি।

পীরগাছার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা একেএম আলতাব হোসেন জানান, কল্যাণী ইউনিয়নের গাছ কাটার বিষয়ে তিনি অবগত না। নিয়ম অনুযায়ী মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি অনুমোদনের পর বন বিভাগ থেকে গাছ চিহ্নিত ও তার মূল্য নির্ধারণ করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করার কথা। এক্ষেত্রে ওই ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা পরিষদ থেকে বন বিভাগকে অবগত করা হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলিয়া ফেরদৌস জাহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি আমি জানি।
গাছের মূল্য নির্ধারণ ও যথাযত নিয়ম মেনে গাছ কাটা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button